রোহিঙ্গাদের সব ক্যাম্পেই যৌন হয়রানিকে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেখানে বাল্যবিয়ে ও বহুবিয়ে এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গতকাল রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘আরার হেফাজত : রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের কণ্ঠস্বর মাধ্যমে তাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ, দূতাবাস, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, দাতা সংস্থাসহ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
গবেষণার জরিপে অংশগ্রহণকারী (৪৮%) অর্ধেকই মনে করেন, পুরুষ ও ছেলেদের কাউন্সিলিং জরুরি। এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে গড়ে ওঠা সশস্ত্র গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য এবং মাদকের বিস্তার তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। গবেষণার জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫০ থেকে ৮২ শতাংশ নারী মিয়ানমারে নিরাপদে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন, ক্যাম্পের ভিতরে নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আলোযুক্ত টয়লেট এবং গোসলের স্থান নিশ্চিত করা, নারী নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দেওয়া এবং নারীদের নেতৃত্বে সুরক্ষা কমিটি গঠন করা জরুরি। এ ছাড়া সংলাপে পুরুষ ও ছেলেদের মানসিকতা পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাউন্সিলিং কর্মসূচির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, এই নারীরা মিয়ানমারে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছিল বলেই এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা যখন এখানে প্রথম আশ্রয় নিয়েছিলেন তখন প্রাথমিক কোনো শেল্টার ছিল না। এখন কিছু হয়েছে। কিন্তু তারপরও তাদের প্রতি সহিংসতা কমেনি বরং সহিংসতার ধরন বদলেছে।