রেড লেডি, ফার্স্ট লেডি, শাহিসহ হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলিয়েছেন বগুড়ার কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে পেঁপের আবাদ। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় একদিকে যেমন বাম্পার ফলন হচ্ছে, অন্যদিকে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। প্রতি হেক্টর জমিতে বিদেশি ও হাইব্রিড জাতের পেঁপে ২৭ থেকে ২৮ টন পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে। ফলে দিন দিন পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কৃষকরা বলছেন, প্রায় সারা বছরই পেঁপের আবাদ হয়ে থাকে। অল্প খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। জানা যায়, বগুড়ার জেলা সদর, শিবগঞ্জ, ধুনট, গাবতলী, শাজাহানপুর ও কাহালুসহ অন্যান্য উপজেলার কৃষকদের পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তবে শিবগঞ্জ ও ধুনট উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁপের আবাদ হয়ে থাকে। দেশি জাতের পেঁপের ফলন কম হওয়ায় তারা বিদেশি ও হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। রেড লেডি, ফার্স্ট লেডি, শাহিসহ প্রায় ৯৬ ভাগ বিদেশি পেঁপে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন তারা। হাইব্রিড পেঁপে গাছে সারা বছর ফল পাওয়া যায়। বাজারে চাহিদাও বেশি। রেড লেডি ও ফার্স্ট লেডির মতো উন্নত হাইব্রিড জাতগুলো ভালো ফলন ও বড় আকারের ফল দেয়। যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে সাহায্য করে। পেঁপে চাষের মাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন এবং স্থানীয়ভাবে হাইব্রিড পেঁপে চারার উৎপাদনও বাড়ছে। চারা রোপণের ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। একেকটি পেঁপের ওজন ২ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। বগুড়া সদরের খামারকান্দি এলাকার চাষি কামাল হোসেন বাণিজ্যিকভাবে চার বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষ করেছেন। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ করে তিনি বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তিনি বলেন, ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ১০০ কেজি পেঁপে ধরেছে।
পেঁপেগুলো আকারে বেশ বড় ও আকর্ষণীয়। প্রতিটি পেঁপের ওজন ২ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটি পেঁপে গাছে গোড়া থেকে ফল ধরেছে। পেঁপের ভারে গাছ ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় অধিকাংশ গাছে বাঁশের খুঁটি দেওয়া হয়েছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, জেলায় এবার ৬৪০ হেক্টর জমিতে বিদেশি ও হাইব্রিড জাতের পেঁপের আবাদ হয়েছে। যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।