শিরোনাম
প্রকাশ: ০০:০০, রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৪

মিডিয়ার মস্তকে নীতিমালার \\\'যমটুপি\\\'

কাজী সিরাজ
অনলাইন ভার্সন
মিডিয়ার মস্তকে নীতিমালার \\\'যমটুপি\\\'

দিন যত গড়াচ্ছে সরকারের ভেতর অস্থিরতাও যেন বাড়ছে। একের পর এক ভুল জায়গায় হাত দিচ্ছে। মাত্র কদিন আগে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করার নামে কার্যত তা ক্ষমতাসীন সরকারের কুক্ষিগত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৩ আগস্ট সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন করেছে লীগ সরকারের মন্ত্রিসভা। সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অন্য সবার পক্ষে সরকারি মহলের বিবেকবান মানুষ, বিশেষ করে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও বলছেন, সম্প্রচার নীতিমালার 'যমটুপি' পরিয়ে সরকার আসলে সংবাদ মাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ যেন ঠিক সেই চুয়াত্তর-পঁচাত্তরের কিছু ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সেই সময়কালের কথা যাদের মনে আছে তারা এখনো ভেবে অাঁতকে ওঠেন যে, বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করে কী সর্বনাশটাই না করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় অদম্য এক বীরোত্তম কী করে কষ্টে অর্জিত গণতন্ত্রের কফিনে এক এক করে পেরেক ঠুকলেন, বেদনাবিধুর দৃষ্টিতে জাতি তা প্রত্যক্ষ করল। মনে হয়েছে বহু যুদ্ধে বিজয়ী এক বীর কীসের ভয়ে (সে কী জনবিচ্ছিন্নতার ভয়?) যেন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং বাকশাল নামক এক প্রাচীরঘেরা প্রাসাদে সুরক্ষা পেতে চাইছেন। কিন্তু সে প্রাচীর তাকে সুরক্ষা দিল না। এমন কী বিভ্রমের অনুবর্তী হয়ে প্রাচীরঘেরা 'বাকশালি প্রাসাদে' ক্ষমতার যে দেউল তিনি নির্মাণ করেছিলেন, তাও টিকল না। নিষ্ঠুর নিয়তি সবই কেড়ে নিল।

না, কাউকেও ভয় দেখাচ্ছি না। ইতিহাসের করুণ, বেদনার্ত অধ্যায়ের এক একটি পাতা ওলট-পালট করছি আর ভাবছি, এটাই ইতিহাসের শিক্ষা যে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। আশ্চর্য! আমাদের দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- ক্ষমতায় থাকলে এদের চেহারা একরকম, আর বিরোধী দলে থাকলে আরেক রকম। গণতন্ত্রের মুক্তি, সংবাদ মাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলতে বলতে এই কদিন আগেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীরা মুখে ফেনা বের করে ফেলেছেন। তখন গণতন্ত্র তাদের কাছে সুখের বাতায়ন, মুক্ত সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীন বিচার বিভাগ পরম বন্ধু কিংবা কুটুম। কিন্তু এখন যেন চোখের বিষ, ঘোর শত্রু। এখন তারা গণতন্ত্রের শরীরের ওপর ভারী রোলার চালিয়ে 'উন্নয়নের' কার্পেটিং করতে চান। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে যখন বেরোয় যে, আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র- বিস্ময়ে তখন হতবাকই হতে হয়। বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বেপরোয়া উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণার নিষ্ঠুর বাস্তবায়নেরই এক একটি কৃষ্ণ অধ্যায় বলে বিবেচিত হতে পারে ভবিষ্যতে। তখন হয়তো তা সংশোধনের কিংবা 'শাপমোচনের' সময় আর অবশিষ্ট থাকবে না।

বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের লীগ সরকারের উদ্যোগের বিরুদ্ধে কথাবার্তা খুব একটা হয়নি। বিচারপতিদের অবস্থান এমন একটা স্পর্শকাতর স্থানে যে, সেখান থেকে কিছু বলার বা প্রতিবাদের কোনো সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু যখন বিচারকদের চাকরিচ্যুত বা পদচ্যুত করার ক্ষমতা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছিলেন, তখনো কোনো জোরালো প্রতিবাদ আসেনি। এবারও ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও নূরে আলম সিদ্দিকীসহ দু'একজনের কিছু সাহসী বক্তব্য ছাড়া আইনাঙ্গন থেকে তেমন কোনো জোর আওয়াজ শোনা যায়নি। কিন্তু সম্প্রচার নীতিমালার বিরুদ্ধে বুলন্দ আওয়াজ উঠেছে চতুর্দিকে। মিডিয়া মালিক-কর্মীদের মতো দেশের বিশিষ্টজনরাও 'জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা' নিয়ে শঙ্কিত। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, সরকার একটি কমিশন গঠনের আগে নীতিমালার নামে সম্প্রচার মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। এটা নিপীড়নমূলক কালাকানুন। সম্প্রচার নীতিমালার নামে সরকার মানুষের মত প্রকাশ ও কথা বলার স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করছে। অতিদ্রুত সম্প্রচার কমিশন গঠন করলে দেশে-বিদেশে ভুল বার্তা যাবে না। সব বিভ্রান্তি কেটে যাবে। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রচণ্ড একটা ঝড় তোলা না গেলে লীগ সরকার পিছু হঠবে বলে মনে হয় না।

সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র ও সুশাসনের কথা কল্পনাও করা যায় না। গণতন্ত্র থাকলে, সুশাসন থাকলে সংবাদমাধ্যমে সত্যের প্রকাশ ঘটে। কিন্তু সত্যের নির্মোহ প্রকাশ যদি কোনো দুর্বল সরকারের মুখোশের আড়ালে লুকানো চেহারা উন্মোচন করে নিন্দিত নরকের পথ দেখিয়ে দেয়, তখনই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, জনশক্তির ওপর ভরসাহীন সরকার নানা কালাকানুনের 'যমটুপি' পরিয়ে সংবাদমাধ্যমের চোখ-মুখ আটকে দেয়, কণ্ঠরোধ করে টুঁটি চেপে। কিন্তু কতদিন এভাবে চালানো যায়? বাংলাদেশে এর আগেও চারটি মাত্র দৈনিক পত্রিকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাদবাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হাজার হাজার মিডিয়াকর্মী বেকার হয়েছিল, কেউ কেউ পেশা ত্যাগ করে কোনোমতে বেঁচেছিলেন, সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার মতো কেউ কেউ বায়তুল মোকাররমে ফুটপাতে ফলের দোকান দিয়ে জীবিকানির্বাহ করেছিলেন। গণমাধ্যমকে যারা নিষ্ঠুরভাবে বিপর্যস্ত করেছিলেন, তারা যখন মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়েন তাদের পক্ষে দাঁড়ানোর শক্তি তখন আর গণমাধ্যমের অবশিষ্ট ছিল না। অথচ অন্যায়, অসত্য আর অসুন্দরের বিরুদ্ধে, বীভৎস তাণ্ডবের বিরুদ্ধে মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যম এক সাহসী ও বলিষ্ঠ প্রতিবাদের 'দাবানল'।

প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ওপর লীগ সরকারের রাষ্ট্রভাব আকস্মিক নয়। অধিকাংশই এক সময় শাসক লীগকে প্রমোট করেছে। একটি মাত্র দৈনিক পত্রিকা লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দুঃসাহসী ভূমিকা পালন করেছে। সংবাদমাধ্যমে ভুলভ্রান্তি হয় না তা নয়। তা শোধরানোর বা সংবাদমাধ্যমকে শোভন পন্থায় শাসন করার পথ আমাদের প্রচলিত আইনেই আছে। সে পথে না গিয়ে সরকার 'আমার দেশ' পত্রিকা প্রকাশের পথে যে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে তা স্রেফ ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের নামান্তর। পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে কারারুদ্ধ। কী তার অপরাধ? তা কী জামিনের অযোগ্য? সরকারি দলের ফাঁসির আসামি ক্ষমা পেয়ে যায়, কারাগারে তার শাদি মোবারক হয়। অথচ একজন সৎ ও সাহসী সম্পাদক স্ত্রী-পরিবারের সঙ্গে ঈদও করতে পারেন না; কী নিষ্ঠুর আচরণ! চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামী টিভি বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে লীগ সরকারের যুক্তি বড়ই দুর্বল। এসব সংবাদমাধ্যমের শত শত কর্মী এখন বেকার, খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এটা সংবাদমাধ্যমের এই অংশটির প্রতিই নয়, ভিন্ন মত ও তা প্রকাশের প্রতি সরকারের অসহিষ্ণু আচরণ। ভিন্ন মত গুঁড়িয়ে দেওয়ার এ এক সর্বনাশা দাম্ভিকতা। এমন দম্ভ-দাম্ভিকের জন্য শুভ নয়। দেশে-বিদেশে এর প্রমাণ আছে অনেক। স্বৈরাচার এরশাদও সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা হরণে উদ্যত হয়েছিল। জবাব পেয়েছে এবং যথাযথ পরিণতিও ভোগ করেছে। বেগম খালেদা জিয়াও দরবেশ ছিলেন না। একুশে টেলিভিশনসহ কয়েকটি প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে তার সরকারের আচরণও নিন্দিত হয়েছে এবং তাও ইতিহাসের অন্তর্গত বিষয়ই হয়ে আছে।

লীগ সরকারের 'জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা' আলোচ্য নিবন্ধের প্রতিপাদ্য বিষয়। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে জাসদের দলীয় পত্রিকা দৈনিক গণকণ্ঠ অফিসে হামলা ও পত্রিকা অফিসে তালা দিয়ে পত্রিকার সম্পাদক দেশবরেণ্য কবি আল মাহমুদসহ অন্যান্য সাংবাদিক গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিপ্লবী কণ্ঠ(!), বঙ্গবন্ধুকে এই কারণে ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিতকারী, সাবেক গণবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড এখন বঙ্গবন্ধুকন্যার অন্যতম সিপাহশালার (প্রকৃত আওয়ামী লীগাররাও নাকি এত বিশ্বস্ত নন), তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এই সম্প্রচার নীতিমালার মধ্যে গণতন্ত্রের সৌরভের(!) কথা বলছেন। এক সময় দৈনিক গণকণ্ঠ অফিসে হামলা, সম্পাদককে গ্রেফতার ও পত্রিকা বন্ধে যিনি ফ্যাসিবাদের 'যম' দেখেছিলেন, তথ্যমন্ত্রী 'কুদরতি কুরসিতে' বসে 'আমার দেশ' পত্রিকা অফিসে পুলিশের ন্যক্কারজনক অভিযান ও টেনেহেঁচড়ে সম্পাদককে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া, অন্য কোনো শোভন ও যুক্তিসঙ্গত আইনগত পথে না গিয়ে তিনটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া এবং সম্প্রচার নীতিমালার আবরণে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের পথে 'অগ্রসর' যাত্রা বলে মহানন্দে বাদ্য বাজাচ্ছেন, ভাবতে কষ্ট লাগে।

সাংবাদিকদের দুটি ইউনিয়ন সরকারের সম্প্রচার নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করে সরকারকে এই কণ্টকিত পথে আর না এগুনোর পরামর্শ দিয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর কথায় তাদের কারোরই আস্থা নেই। বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোও এই নীতিমালা নিয়ে শঙ্কিত। তাৎপর্যপূর্ণ একটি কথা বলেছেন একাত্তর টিভি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু। তিনি বলেছেন, যেসব বিষয়ে নীতিমালায় বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে, সেসব বিষয়ের ব্যাখ্যা দেবে কে? একটি জাতীয় দৈনিককে তিনি বলেছেন, সম্প্রচার কমিশন গঠন না করে তথ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে ক্ষমতা সংরক্ষিত রেখে সম্প্রচার নীতিমালা অনর্থক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। মনে হবে মিডিয়াকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তার বক্তব্যের তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি হলো, 'যে দেশে জাতীয়তা ও ইতিহাস দুই রকম এবং জাতির জনক দুজন, সে দেশে একটি নিরপেক্ষ কমিশন স্থাপন না করে একটি সাবজেক্টিভ নীতিমালা চাপিয়ে দিলে ঝামেলা বাড়া ছাড়া কমবে না।' তিনি কোন দৃষ্টিতে কথাটি বলেছেন জানি না, তবে এর ব্যাখ্যাটা এমনও করা যেতে পারে যে, দুই জাতীয়তা, দুই ইতিহাস ও দুই জাতির জনকের মধ্যে শাসক লীগের পছন্দের জাতীয়তা, ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়ার ব্লুপ্রিন্ট অনুযায়ীই সম্প্রচার নীতিমালাটি প্রণয়ন করেছে সরকার। সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কিন্তু এই আওয়াজ ইতিমধ্যে তুলেছে। সম্প্রচার কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও কোন প্রক্রিয়ায়, কাদের নিয়ে তা গঠিত হবে তা নীতিমালায় বলা নেই। সার্চ কমিটি নামক বাছাই টিমটি সরকারি পছন্দের টিম হবে না তার নিশ্চয়তা নেই। বলা চলে তারা সার্চ কমিটি কর্তৃক বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের মতো লীগপন্থি ও সরকারি অনুগতদের নিয়েই গঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশনের মতো গণআস্থাহীন আরেকটি কমিশনই হবে এটি, যা লীগ সরকারের মনোরঞ্জন বা মনোতুষ্টির চেষ্টায়ই হরহামেশা রত থাকবে। সে কমিশন কখন হবে তাও সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়জুড়ে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সর্বময় ক্ষমতা থাকবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে। এটা শিয়ালের কাছে মুরগি পাহারা রাখার মতো ঘটনা হয়ে যাবে বলেই আশঙ্কা সবার। বলা হচ্ছে, চালাকিটাও এই কারণেই করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়ায় সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুটি ভয়াবহ এবং স্বৈরাচারীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ক্ষমতাসীনরা। একটি হচ্ছে বিচারকদের ইমপিচমেন্টের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া, অপরটি সম্প্রচার নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমের লাগাম টেনে ধরা। এই নীতিমালাগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ শুধু ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের জন্যই নয় বরং সামাজিক বিপর্যয়ের মতো একটি মারাত্দক অপরাধ হবে (মানবজমিন, ৬ আগস্ট, ২০১৪)। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ড. আকবর আলি খান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ড. তুহিন মালিক প্রমুখও সরকারের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সম্প্রচার নীতিমালার ব্যাপারে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, সরকার জেনে-বুঝেই এই বিপদসংকুল পথে পা বাড়িয়েছে। এখন তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই বলেই কী তারা নিরুপায় হয়তো তাই। ভুলটা তারা করতে শুরু করে ২০১১ সালে শাসনতন্ত্রে কালো হাত বাড়িয়ে। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নাকচ করে দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তারা যে সংকটের সূচনা করে সেই সংকট থেকেই উদ্ভব হচ্ছে আরও নতুন নতুন সংকট। এই সংকটের অক্টোপাস থেকে সম্ভবত তাদের মুক্তি নেই। জনগণ থেকে তাদের বিচ্ছিন্নতার ছবি পরিষ্কার। নিশ্চয়ই 'সেলফিতে' নিজেরাও তা দেখছে। তাই বোধ হয় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে- যে জনগণের মাঝে ঠাঁই নেই, সেই জনগণের আবার কীসের অধিকার? যে গণমাধ্যম জনগণের চিন্তা-বিশ্বাস আর আশা ও স্বপ্নের কথাই বলে, সরকারের তোষামোদ করে না সে গণমাধ্যমের আবার কীসের এত স্বাধীনতা? সম্প্রচার নীতিমালার ফাঁসই এদের প্রাপ্য। এটাই হয়তো লীগ সরকারের বিবেচনা।

পঞ্চদশ সংশোধনীর পর সরকারের ওপর জনমত ব্যাপকভাবে বিগড়াতে থাকে। দমনমূলক পন্থা অনুসরণ করে সরকার। মামলা-মোকদ্দমা, জেল-জুলুম, গুলি-হত্যা-সন্ত্রাস চলতে থাকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে পাঁচটি সিটি নির্বাচনে শাসক লীগের চরম ভরাডুবিতে লিপিবদ্ধ হয়ে যায় সরকারের ভাগ্যলিপি। ভাগ্য বদলের জন্য তারা হাঁটতে থাকে উল্টা পথে। দলীয় ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেয় বিরোধী দলের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গড়ে তোলা আন্দোলন। সরকারের নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণ মুখ বুজে সহ্য করে জামায়াতে ইসলামীর তাণ্ডবের কারণে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের কয়েকজন নেতার ফাঁসির দণ্ডের প্রতিবাদে তারা যে সহিংসতা চালায় জনগণ তা সমর্থন করেনি। জামায়াতীদের দলীয় আন্দোলন ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের তত্ত্বাবধায়কের আন্দোলন একাকার হয়ে যায়। জামায়াতীদের চালাকি ও কূটকৌশলের কাছে হেরে যায় বিএনপি। বিএনপির জামায়াতপন্থি 'ডানমিয়ারা' ইন্ধন জোগায় জামায়াতকে। তাতে লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর সুযোগটাও পেয়ে যায়। সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন নিষ্ঠুরভাবে দমিয়ে দিতে পারলেও জনগণের সমর্থন আদায়ে কিন্তু তারা সফল হয়নি। জনগণের মধ্যে সরকারের অবস্থান যে অতি দুর্বল তা সরকার জানত। দেশি গোয়েন্দা সংস্থার এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনের খবর মিডিয়ায়ও এসে গিয়েছিল। তাছাড়া লীগ সরকারের বিদেশি মুরবি্ব রাষ্ট্রের তথ্য-পরামর্শও নিশ্চয়ই ছিল। এটা ধারণা করাই যায় যে, বিদেশি মুরবি্বর পরামর্শেই তারা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বদলে দেয়। অথচ মিডিয়ায় এসেছিল যে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের আগের দিন পর্যন্ত সংবিধান সংশোধন কমিটি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখার পক্ষে ছিল। কমিটি সভার এ সংক্রান্ত প্রসিডিংসও পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। একজনের হুকুমেই সব বদলে যায়। উচ্চ আদালতের দোহাই বাহানা মাত্র। উচ্চ আদালতও আরও দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তারা তা গ্রাহ্য করেনি। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ফের ক্ষমতা পাবে না তা লীগ সরকার ও তাদের বিদেশি মুরবি্ব দল জানত। তাই জনগণ, জনমত এসবের কোনো ধার ধারেনি তারা। বিএনপিসহ অন্যান্য কার্যকর বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সব 'ইঞ্জিনিয়ারিং' সম্পন্ন করে দেশি-বিদেশি জনমতকে উপেক্ষা করেই তারা দশম সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে। ৫ জানুয়ারি ভোটের আগেই ১৫৩ জন লীগ ও লীগপন্থি 'কুটুম' অটো এমপি হয়ে যান। ৫ তারিখ যে ১৪৭ আসনে লোক দেখানো নির্বাচন হয় বিরোধী দল বলছে তা ছিল একটা প্রহসন। বেগম জিয়া বলছেন ৫ পার্সেন্ট ভোট পড়েছে তাতে। সরকারের 'গৃহপালিত' নির্বাচন কমিশন বলেছে ৪০ পার্সেন্ট। জিন-পরীরা এ ভোট দিয়ে গেল নাকি? অনেক চেষ্টা-তদবির করেও ১৫-১৬ পার্সেন্টের বেশি ভোটার কেন্দ্রে নিতে পেরেছে বলে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের কেউ বলছেন না। ৩০০ আসনে ভাগ করলে সে হার তো ৬-৭ পার্সেন্টই হয়। ৩৯ কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। সেখানে কী কোনো আওয়ামী লীগার নেই অর্থাৎ প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে প্রকৃত আওয়ামী লীগারদেরও সায় ছিল না। তেমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের নৈতিক ভিত্তি তো দুর্বলই থাকার কথা। সংবিধানের ৬৫ (২) অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দল এ সরকারকে অনির্বাচিত অবৈধ বলছে। ওই অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিনশত সদস্য লইয়া এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফায় কার্যকরতাকালে উক্ত দফায় বর্ণিত সদস্যদিগকে (সংরক্ষিত কোটায় মহিলা সদস্য) লইয়া সংসদ গঠিত হইবে, সদস্যগণ সংসদ সদস্য বলিয়া অভিহিত হইবেন।' এই ধারা বিবেচনায় বিএনপিসহ বিরোধী দলের বক্তব্য উড়িয়ে দেওয়া যায় কী? ১৫৩ আসনে কোনো নির্বাচনই হয়নি। ১৪৭ আসনের নির্বাচনও হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। এই ভোট ও ভোটারবিহীন 'নির্বাচনে' সাব্যস্ত সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত(!) হয়েছেন সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নারী। এই সংসদের 'পুষ্টিমান' যে কী পরিমাণ তা বেশি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের বোধ হয় প্রয়োজন নেই। গণরায়হীন এই সংসদ, গণবিচ্ছিন্ন এই সরকার টিকে থাকার জন্যই সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে বিচারবিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পৃথিবীর দেশে দেশে গণবিচ্ছিন্ন শাসকরা যুগে যুগে তা-ই করেছে। আবার ইতিহাস এই সাক্ষ্যও দিচ্ছে যে, বারবার প্রতিবার তারা পরাস্তও হয়েছে। আখেরে জয় হয়েছে জনগণের। সব জনবিচ্ছিন্ন সরকারই ইতিহাসের এই অমোঘ সত্যটি ভুলে যায় যে, জনগণ কখনো পরাজিত হয় না।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট

ই-মেইল :  [email protected]

 

 

 

এই বিভাগের আরও খবর
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
নির্বাচন হবে কী হবে না
নির্বাচন হবে কী হবে না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
সর্বশেষ খবর
ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক
ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক

৩ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার

৫ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০

২১ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট

২১ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার
রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার

৪০ মিনিট আগে | শোবিজ

খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার
খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার

৪৪ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো
আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো

১ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু
শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই
কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই

১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২
পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি
টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি

২ ঘণ্টা আগে | অর্থনীতি

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

২ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা
জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা

২ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা
ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা

২ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি
বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি

২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স
খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের
আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের

২ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি

২ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির
ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির

৩ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)
একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)

৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প
কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস
পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন

৪ ঘণ্টা আগে | জীবন ধারা

শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়
শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়

৫ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে
ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে

৬ ঘণ্টা আগে | টেক ওয়ার্ল্ড

সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫
সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

৭ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ

৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

সর্বাধিক পঠিত
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

১৩ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

১২ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’
‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’

১৭ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে
‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে

২২ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব
নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি
নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি

২২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা
নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা

১৫ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ
মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

১৭ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক
আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক

১৪ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি
ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি

২০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

২৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে
ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে

২০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও
শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও

২২ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি
ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি

১৬ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

১৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

অবসরে যাচ্ছেন মেসি?
অবসরে যাচ্ছেন মেসি?

১৯ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন
হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন

১৫ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ

৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ
ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ

১৭ ঘণ্টা আগে | পাঁচফোড়ন

নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি
নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো
‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো

১৮ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার
বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

২৩ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান
ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত

২১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক
ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক

১৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

১৩ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা

১৪ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল

২০ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

প্রিন্ট সর্বাধিক
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

প্রথম পৃষ্ঠা

কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল
কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল

প্রথম পৃষ্ঠা

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ
শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ

পেছনের পৃষ্ঠা

দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা
দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা

পেছনের পৃষ্ঠা

আজকের ভাগ্যচক্র
আজকের ভাগ্যচক্র

আজকের রাশি

রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে
রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে

পেছনের পৃষ্ঠা

বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই
বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই

প্রথম পৃষ্ঠা

মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন
মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন

শনিবারের সকাল

বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত
বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত

নগর জীবন

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির
বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির

নগর জীবন

পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ
পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ

নগর জীবন

সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে
সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে

নগর জীবন

চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি
চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি

শোবিজ

মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পৃষ্ঠা

অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের
অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের

প্রথম পৃষ্ঠা

ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ
ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!
জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!

পেছনের পৃষ্ঠা

শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য
শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য

পেছনের পৃষ্ঠা

নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স
নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স

মাঠে ময়দানে

থামছেই না নারী পাচার
থামছেই না নারী পাচার

পেছনের পৃষ্ঠা

হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭
হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

পেছনের পৃষ্ঠা

বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রথম পৃষ্ঠা

১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য
১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য

প্রথম পৃষ্ঠা

আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন
আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন

পেছনের পৃষ্ঠা

ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক
ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক

পেছনের পৃষ্ঠা

ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস
ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস

পেছনের পৃষ্ঠা

প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি
প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি

প্রথম পৃষ্ঠা

কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ
কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না
খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না

প্রথম পৃষ্ঠা

নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ

সম্পাদকীয়