ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নতুন সরকার তিন মাস সময় পার করেছে আশা-নিরাশা, সাফল্য-ব্যর্থতা এবং উচ্ছ্বাস-স্বপ্নের মৃত্যুর সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। কেউ কেউ বলছেন, এ সরকার এক নতুন ধারার স্বপ্নানুভূতি সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে সাধারণ মানুষ নিজেদের সত্যিকার অর্থেই শাসক ভাবতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন যে, সীমাহীন সম্ভাবনার সঞ্চারণ ঘটিয়ে চলার পথে হোঁচট খাচ্ছে সরকার। আবার বিরোধী দল মন্তব্য করেছে যে, এ সরকার হলো 'স্বপ্নের ফেরিওয়ালা'। তিন মাস সময় একটি সরকারের কার্যক্রম বিবেচনার জন্য যথেষ্ট নয়। এ সময়সীমা কোনো নির্ধারক হওয়ার কথা নয় পাঁচ বছরের মেয়াদ পরিক্রমার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায়। তা সত্ত্বেও এটাও সত্য, তিন মাস সময় গতিপথ এবং সক্ষমতার একটি ভিত্তি রচনা করতে পারে, যা আগামীর জন্য সুস্পষ্ট সংকেত দেবে। নরেন্দ্র মোদির সরকার অভ্যন্তরীণ এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই একটা অবয়ব তৈরি করেছে এ সময়ে। চলার পথে তেমন কোনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়নি নরেন্দ্র মোদি এবং তার সহযোগীদের। তবে যে প্রত্যাশা এবং উন্নয়নের একটি চিত্র তিনি উপহার দেবেন বলে নির্বাচনের আগে ধারণার সৃষ্টি করেছিলেন সেটা যে রূঢ় বাস্তবতার সঙ্গে অনেকাংশেই সামঞ্জস্যহীন তা যেন বেশি করে সূর্যালোকের মতোই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তথাপি, ১০ বছর পর পরিবর্তনের হাওয়ায় ভেসে আসা এবং গত কয়েক বছরের ব্যর্থতার স্তূপে দণ্ডায়মান নতুন সরকারের 'হানিমুন পিরিয়ড' এখনো অনেকটুকু সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ।
২৬ মে শপথ নিয়েছিলেন ভারতের সাধারণ পরিবারের নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। নিজেকে 'চা বিক্রেতার' পুত্রের পরিচয় দিয়ে গণমানুষের সরকারপ্রধান হিসেবে তিন মাস পার করলেন ২৬ আগস্ট। মাঝখানে অর্থাৎ কিছু দিন আগে ১৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পুরনো দিল্লির ১৭ শতাব্দীর মোগলদের নির্মিত 'লালকেল্লা' থেকে জাতিকে দেওয়া ভাষণে একদিকে যেমন স্বকীয়তা সৃষ্টি করলেন, অন্যদিকে এটাও প্রতিভাত হয়েছে যে, প্রতিশ্রুতি সীমাবদ্ধতার চাদরে অনেকটাই ঢাকা। তবুও নরেন্দ্র মোদি সরকার প্রত্যাশার পথ ধরেই হাঁটার প্রয়াস পাচ্ছে এবং প্রতিশ্রুতির কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
'লালকেল্লার' ভাষণে কোনো প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিরাপত্তার কারণে বর্তমান সময়ে ব্যবহৃত বুলেট প্রুফ কাচ ভাষণের সময় ব্যবহার করেননি। নিমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে এবারই বড় সংখ্যক সাধারণ মানুষ সেখানে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা শুধু সরকার সমর্থকদের নিয়ে সেই অনুষ্ঠানের শোভাবর্ধন করার চেষ্টা করেননি। নতুন ধারা সৃষ্টি করার প্রয়াস পেয়েছেন বক্তৃতার মাধ্যমে। দেশের চিরন্তন শত্রু বলে পরিচিত প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের প্রতি কটু মন্তব্য করেননি- যা এ দিনের প্রধানমন্ত্রীরা সাধারণত জনগণের বাহবা পাওয়ার জন্য করে থাকেন। দীর্ঘদিনের বৈরী চীনের ব্যাপারেও তেমন কিছু বলেননি। সার্ককে শক্তিশালী করার কথা বলেছেন। পাকিস্তানকে বলেছেন, আমরা একসঙ্গেই স্বাধীনতা পেয়েছি ১৯৪৭ সালে। আসুন একত্রে গণমানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করি। ভারতের জনগণকে বলেছেন, এখনো বড় সংখ্যক মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, নূ্যনতম 'টয়লেট' সুবিধা থেকে বিশাল জনগোষ্ঠী বঞ্চিত, এসব লজ্জা রাখি কোথায়?
সমাদৃত হয়েছে সত্যিকারের নেতৃত্বসুলভ বক্তব্য। গুজরাটের ১৩ বছরের সফল মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের স্বাদ সাধারণ মানুষের দ্বারে এবার জাতীয়ভাবে পৌঁছে দেবেন এ আশা সম্প্রসারিত হয়েছে সবক্ষেত্রে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা যে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে উঠতে পারে, সে লক্ষণও ভিন্ন নামে অনুভূত হচ্ছে। বিরোধীরা বলছে, 'স্বপ্নের ফেরিওয়ালা কথার ফুলঝুরি দিয়ে কতদিন চলতে পারবেন?'
মোদি সরকারের ইতি ও নেতিবাচক উভয় দিকেই স্বাক্ষর রেখেছে প্রথম তিন মাসে যদিও বলা কঠিন কোনোদিকে পাল্লা ভারী। এটা অনেকটাই সত্য, নতুন সরকার সাবেক কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ সরকারের গত দুই-তিন বছরের দুর্নীতি, শাসনের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক হতাশার পটভূমিকার উৎসাহের সংকেত দেখাতে বেশ কিছুটা সক্ষম হয়েছেন। মূলত সেই ব্যর্থতার কারণে কেন্দ্রের রাজনীতিতে প্রায় অপরিচিত এবং বিশাল দেশের সরকারে অনভিজ্ঞ একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জনগণ গত নির্বাচনে বড় ম্যান্ডেট দিয়েছে। গুজরাটে তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার গুরুতর অভিযোগ থাকলেও রাজ্যে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই প্রধানত এ বিশাল গণরায় দেওয়া হয়। এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, বহুলাংশেই মোদি এককভাবে এ জয় রচনা করেছেন। সে কারণে প্রত্যাশা যেমন সৃষ্টি হয়েছে সেই প্রত্যাশা পূরণে দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্রে জনগণ বেশি দিন অপেক্ষা করতে রাজি নয়। সে কারণে নতুন সরকার বিচরণ করছে অস্থিরতার মাঝে। কেননা, কোনো ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু তেমন কিছু এখনো প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি, যদিও সময়টি মাত্র তিন মাস। অনেক সরকার এরই মাঝে আশার সঞ্চারণ ঘটাতে সক্ষম হয়, যা মোদির পক্ষে সেভাবে সম্ভব হয়নি। অবশ্য নতুন সরকারের ওপর আস্থা রয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে যদিও সেটা কমছে বৈ বাড়ছে না।
ভালো দিকগুলোর মধ্যে আছে নতুন সরকার ক্ষমতা নিয়েই বিদেশ থেকে বিশাল অঙ্কের ভারতীয় কালো টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে। সরকারের মন্ত্রী, এমপি, বড় কর্মকর্তাদের মধ্যে ভয় ঢুকেছে যে দুর্নীতি কিংবা অনিয়ম করলে এর শাস্তির সম্ভাবনা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মোদি ব্যক্তিগতভাবে এসবের ঊর্ধ্বে থাকার মানুষ বলেই মনে করা হয়ে থাকে এবং সেটা সরকারের জন্য সুবিধাজনক। সরকারের কর্মকাণ্ডে শিথিলতা কমেছে, গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো মন্ত্রী এবং কর্মকর্তাই নিয়মের ঊর্ধ্বে নন, এমনি একটি প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলাবোধ প্রশাসনে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যারা বেশ সকালে অফিসে হাজির হতে অভ্যস্ত নন, তারা এখন তড়িঘড়ি করে হলেও সময়মতো হাজিরা দিচ্ছেন। মোদি আরও একটি ব্যাপারে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে, কোনো মন্ত্রী বা অন্য কেউ তার বিশেষভাবে ঘনিষ্ঠ নন, যদিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন। এটা আমাদের মতো দেশগুলোতে বেশ প্রয়োজনীয়। সাবেক সরকারের সময়ে এ প্রবণতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার বিদেশি নিয়োগ উৎসাহ করতে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে এবং নেবেই। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ধারায় পরিকল্পনা কমিশন দীর্ঘদিন থেকেই ভারতে বিরাজ করে আসছে। সেটা পরিবর্তন হচ্ছে এবং সরকার মনে করছে এসব প্রতিষ্ঠান সময়োপযোগী করা বাঞ্ছনীয়। অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি মনে করছেন তার ভাষায়, স্থবির অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হওয়ার সংকেত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, সাবেক সরকারের সময়ের শুরুতে প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও শেষ কয়েক বছরে সেটা বেশ কমে যায়। কংগ্রেস সরকারে অব্যবস্থাপনা এবং সীমাহীন দুর্নীতি যে হ্রাস পাবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন দিল্লি বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়টি বর্তমান সরকার বজায় রেখেছে। অরুন জেটলি যিনি প্রতিরক্ষার দায়িত্বেও আছেন, বলছেন এই ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য হবে না।
এসব ইতিবাচক সংকেতের পাশাপাশি অন্য চিত্রও আছে। মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই নৃপেন মিশ্রকে তার মুখ্য সচিব করার জন্য অর্ডিন্যান্স জারি করে পরে সেটা আইনে রূপান্তরিত করেন। আইনে মিশ্রের নিয়োগ জটিলতা ছিল। এটা হয়তো প্রধানমন্ত্রী এভাবে ত্বরিত গতিতে না করলেও পারতেন। তার মন্ত্রিসভায় ১৩ জন বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য আছেন, যারা ফৌজদারি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। হয়তো তাদের সাজা হয়নি- কিন্তু অভিযোগ আছে, অতি সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্ট বলেছেন, তাদের মন্ত্রিসভায় রাখা ঠিক হবে না।
সুপ্রিমকোর্ট এসব মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো সময় বেঁধে দেননি। তবে আশা করছে যে, প্রধানমন্ত্রীই দেশ ও জনগণের স্বার্থে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন শীঘ্রই। এটা মোদি সরকারের 'ইমেজের' প্রতি চপেটাঘাত। কয়েক দিন আগে বিহার ও কর্ণাটকসহ কয়েকটি রাজ্যের উপ-নির্বাচনে মোদির দল ভালো করেনি। পক্ষান্তরে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো এমনকি কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে ভালো করেছে। এতে মনে হচ্ছে 'মোদি ঝড়' তিন-চার মাস আগের তীব্রতা হারাচ্ছে। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ হোসেন স্বয়ং বলেছেন যে, এটা শুভ সংকেত নয়। তিনি বিহারের মানুষ। সেখানে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বেশ ভালো করলেও রাজ্য বিধান সভার উপ-নির্বাচনে সেই সফলতা দেখাতে ব্যর্থ।
সাম্প্রদায়িকতার ক্ষেত্রে মোদি এই প্রশ্নে তাদের 'ইমেজ' বিঘি্নত, সেই অমিত শাহদেরই প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং তিনিই হলেন দলের নতুন প্রধান। লোকসভার ভোটে বিশাল রাজ্য উত্তর প্রদেশে বিজেপির বড় জয়ের নায়ক হলেন অমিত শাহ। কিন্তু দল ক্ষমতায় আসার পর উত্তর প্রদেশের শাহারনপুরসহ অনেক স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে। যদিও উত্তর প্রদেশের রাজ্য সরকার হলো ধর্মনিরপেক্ষ সমাজবাদী দল। অভিযোগ উঠেছে যে কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে নির্লিপ্ততা প্রদর্শন করেছে। মোদি ও তার ঘনিষ্ঠরা দলের প্রবীণ নেতা এল কে আদভানি ও ডা. মুরলি মনোহর যোশিদের কোণঠাসা করে রেখেছেন এবং ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে যে, মোদি নিজে সংগঠন ও সরকারে একচ্ছত্র কণ্ঠস্বর হতে চাচ্ছেন।
পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে মোদি ব্রাজিলে BRICS সম্মেলনে নতুন ব্যাংক গঠন করার ব্যাপারে ভূমিকা নিতে সমাদৃত হয়েছেন। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিভ্রান্তিও বিদ্যমান। প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে সভা স্থগিত করেছেন এই বলে যে, পাকিস্তানের হাইকমিশনার নতুন দিল্লিতে কাশ্মীরের 'হুরিয়াত' নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এতে এমনি একটি ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, পাকিস্তানের সরকারের বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যার তিনি সুযোগ নিচ্ছেন। বিরোধী কংগ্রেস দল পর্যন্ত বলেছে যে, এটা নতুন সরকার সস্তা বাহ্বা নেওয়ার জন্য করেছেন। অথচ মোদিই সব সার্ক দেশের নেতৃবৃন্দকে তার শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ভারতের দীর্ঘদিনের লালিত নীতিও এবার যেন ধাক্কা খেয়েছে। শুরুতে অনীহা দেখানোর পর পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন যে, তারা ফিলিস্তিনিদের পক্ষেই আছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা থাকলেও আগের সরকারগুলো বৃহত্তরভাবে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি এরই মাঝে ভুটান ও নেপাল সফর করেছেন। সুষমা স্বরাজকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন। ঢাকা নতুন দিল্লি সম্পর্কের স্বার্থে বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটি অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে নতুন সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা কতদূর বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। চীনের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভারত এখন কীভাবে দেখছে সেটা নিয়েও ভারতের পত্রপত্রিকায় মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। চীনের সঙ্গে সম্প্রতি লাদাখ অঞ্চলে কিছুটা উত্তেজনা প্রত্যক্ষ করা যায় যখন চীনা সৈন্যরা ভারতের অভ্যন্তরে বেশ ঢুকে পড়েছিল বলে সংবাদে প্রকাশ পায়।
অভ্যন্তরীণভাবে মোদি সরকার স্বীয় রাজনৈতিক দর্শনকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনেক কিছু পাল্টে দিচ্ছে। হিন্দু মহাসভা কিংবা এমনি আদর্শের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক কংগ্রেসি, বামপন্থি ও অন্যদের খাটো করার প্রয়াস পাচ্ছে। এটা আকাঙ্ক্ষিত নয়।
গত লোকসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার জন্য আমি আগ্রাসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিলাম। আগ্রায় 'তাজমহলের' কাছে একটি বড় স্লোগান ছিল- 'খতম কর ভ্রষ্টাচার- কায়েম কর মোদি সরকার।' একজন বৃদ্ধ সেদিকে তাকিয়ে বলেছিল- 'মোদি জরুর জিতেগা-মগর আচ্ছা দিন আয়েগা কিয়া?' মোদির সেই প্রতিশ্রুতি 'আচ্ছা দিন' অর্থাৎ সুন্দর সময়ের অপেক্ষায় ভারতবাসী। তবে বাস্তবে সত্যিকারের জনকল্যাণ দেখাতে না পারলে তারা অধৈর্য হয়ে উঠবে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের বিশ্লেষক।