খালি কলসের বেশি আওয়াজ হওয়ার মতো দুর্বল শাসকের হুমকি-ধমকি বেশি শোনা যায়। সময় এখন বিএনপির পক্ষে। সাধারণ জনগণ দাঁড়িয়ে গেছে, থমকে আছে। তারা লক্ষ্য করছে কোন পক্ষ এখন সামনে এগোয়। যে কোনো সময় জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারে। এখন যে পক্ষ ভয় পাবে, পরাজয় তার নিশ্চিত। ভয়ের উল্টো দিকেই বিজয়। কাজেই ভয়কে যে তোয়াক্কা না করে ঝুঁকি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে, আমার বিশ্বাস বিজয় তাদের অবধারিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের বাড়াবাড়িটাই জনমনে অসন্তোষের অন্যতম কারণ। যদিও সহিংসতা আন্দোলনের ক্ষতি করছে, কিন্তু তা সরকারকেও যে চাপের মধ্যে ফেলছে- সেকথাও অনস্বীকার্য। সহিংসতা আমরা কেউই চাই না এবং পছন্দও করি না। কারণ চূড়ান্ত বিজয় সহিংসতায় আসে না। যা কেবল মাত্র সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব। সংলাপ ছাড়া বর্তমান সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় এবং সরকারকে সংলাপে বসতে বাধ্য করতে হলে সহিংসতা বাড়ানো ছাড়া ২০ দলের অন্য কোনো বিকল্প এই মুহূর্তে নাই, যদি না তারা আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তন করে। তাই আমি মনে করি চলমান আন্দোলনই সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের এই মুহূর্তে হারানোরও কিছু নেই। তিনি তো তার আন্দোলনে ১০০ ভাগ সফল। সরকার এখন প্রচণ্ড চাপে আছে। আন্দোলন ইতিমধ্যেই সরকারের সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেছে বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০ জানুয়ারির জনসভায় বক্তৃতায় বলেছেন। কথাটা তিনি প্রায়ই বলছেন। এখন সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষামাত্র। এখন আর কয়েকটা দিন আন্দোলনে সহিংসতা চললে সরকার নিজেও সহিংসতার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে, অর্থাৎ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার মাহেন্দ্রক্ষণ এসে যাবে। ষোলকলা পূর্ণ হবে; আন্দোলনের নতুন পথ ও মাত্রা যোগ হবে। সব কিছুই করা হবে সংলাপ পরিহার করার জন্য। কিন্তু বর্তমান সমস্যার উভয়পক্ষের জন্য সম্মানজনক সমাধানের পথ হলো একমাত্র সংলাপ। বিএনপির আন্দোলনকে ‘পুরনো চালে সন্ত্রাসী’ বলার সরকারের কৌশল ও কার্যকলাপকে অসার প্রমাণ করতে ঢাকায় অবিলম্বে জনসভা ও গণগ্রেফতারবরণ কর্মসূচি অনেক বেশি ফলদায়ক হবে বলেই অনেকে মনে করেন। প্রতিটি গ্রাম ও ঢাকার প্রতিটি মহল্লা থেকে অন্তত ১০ জন করে নেতা-কর্মী একযোগে এলাকার থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করার কর্মসূচি দিলে জনমনে বিশাল প্রভাব ফেলবে বলে অনেকে বিশ্বাস করে। জনগণের ওপর আস্থা রাখলে জনগণই জয় এনে দেবে। সহিংসতার চেয়ে অহিংসা অনেক বেশি শক্তিশালী। সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতি বর্তমানে বিশ্বময় যে ধিক্কার চলছে তার পরিপ্রেক্ষিতে অহিংসার শুভফল প্রমাণ করার সুযোগ এসেছে আমাদের সামনে। আমাদের মনে রাখা ঠিক হবে যে জনগণ সন্ত্রাস পছন্দ করে না, ভয় হয়তো করে। জনগণ সন্ত্রাস দমনে সরকারকেই সহায়তা করে। তাই বিকল্প রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনিচ্ছাসত্ত্বেও সাময়িককালের জন্য হলেও জনগণ মেনে নেয় এবং তারা আবার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামও করে। জনগণ শক্ত, ন্যায় ও সুশাসন পছন্দ করে বলেই আমার বিশ্বাস। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারকে অবশ্যই এর আগেই বর্তমান আন্দোলন দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে সরকার বড় ঝুঁকিতে পড়বে বলে আমার ধারণা। কাজেই ২ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত আন্দোলনের মাঠ কোনোভাবেই ছাড়া যাবে না। তাই আমি এই মুহূর্তে আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তনের পক্ষে এবং স্বেচ্ছায় কারাবরণে প্রস্তুত। ইতিবাচক কৌশল নেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতি জানাই বিনীত আবেদন। লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য
শিরোনাম
- জনজীবনে অশ্লীলতার থাবা
- ট্রাম্পের বেশির ভাগ শুল্ক অবৈধ: মার্কিন আদালত
- ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক
- ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০
- মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট
- পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২
- আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের
- কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প
- শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
- নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব
- নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
- গুম বন্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী আইন করবে বিএনপি : তারেক রহমান
- রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান
- বিএনপি ছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচন পেছাতে : রুমিন ফারহানা
- গোবিন্দগঞ্জে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত ১০
- জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
- চট্টগ্রামের উন্নয়নে সিটির সীমানা বৃদ্ধি প্রয়োজন : মেয়র শাহাদাত
- ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
- কলমাকান্দায় জব্দ দুই নৌকার বালু ফেলা হলো বিলে, কৃষকদের ক্ষোভ
- বুয়েট শিক্ষার্থী শাদিদের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধান উপদেষ্টা
আন্দোলন কৌশলে চাই ইতিবাচক পরিবর্তন
মেজর মো. আখতারুজ্জামান (অব.)
অনলাইন ভার্সন

এই বিভাগের আরও খবর