শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ মার্চ, ২০২১ ১৪:৫৮
আপডেট : ৭ মার্চ, ২০২১ ১৪:৫৯
প্রিন্ট করুন printer

শিশু ও বৃদ্ধ নারীদেরও রেহাই দেয়নি পশ্চিম পাকিস্তানি সেনারা

অনলাইন ডেস্ক

শিশু ও বৃদ্ধ নারীদেরও রেহাই দেয়নি পশ্চিম পাকিস্তানি সেনারা
ছবি- বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ

পশ্চিম পাকিস্তানের তৎকালীন জেনারেল নিয়াজি পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেছিলেন, একজন পুরুষ পূর্ব পাকিস্তানে থাকবে, লড়বে এবং প্রাণ দেবে কিন্তু ঝিলমে (পশ্চিম পাকিস্তান) যাবে যৌনতার ক্ষুধা মেটানোর জন্য, এটা নিশ্চয় আপনি আশা করেন না... 

১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের হাতে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) লাখ লাখ নারী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। Against Our Will: Men, Women and Rape নামের আলোচিত বইয়ে মার্কিন লেখিকা সুসান ব্রাউনমিলার নির্বিচারে সংঘটিত ওই ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে নানজিংয়ে জাপানিদের দ্বারা এবং রাশিয়ার জার্মানিদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণকাণ্ডের তুলনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, ২ লাখ, ৩ লাখ কিংবা সম্ভবত ৪ লাখ (তিনটি পরিসংখ্যান নানা জায়গায় পাওয়া গেছে) বাঙালি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষিত নারীদের ৮০ ভাগই নারী। হিন্দু ও খ্রিস্টান নারীরাও পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে ছাড় পায়নি। 

নববধূ, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ নারীরাও পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পায়নি। যুদ্ধের পর বাংলাদেশ সরকারের বহু প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজও পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা সংঘটিত বর্বরতার সেই যন্ত্রণা এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় ভুক্তভোগীদের। সুসান তার বইয়ে আরও লিখেছেন, শুধু ঘটনাস্থলে পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙালি নারীদের সঙ্গে জঘন্য আচরণ করেছেন বিষয়টি এমন নয়। বহু নারীকে তারা অপহরণ করে সেনাদের ব্যারাকে নিয়ে যেতেন। কোনো কোনো নারী এক রাতে ৮০ বারও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে বাঙালি নারীদের।

ব্যারাকে বন্দী নারীরা নিজের পরিহিত কাপড় দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালানোয় তাদের নগ্ন করে রাখা হতো। মাথার লম্বা চুলের সাহায্যে নিজের প্রাণহানি করার চেষ্টা করায় তাদের ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছিল। যারা গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল তাদের লক্ষ্য করে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনারা রসিকতা করে বলতো, জন্মানোর পর সন্তানকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। 

(বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ অবলম্বনে)

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর