Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৯ ২১:১০

‘দক্ষিণ-দক্ষিণ জ্ঞান ও উদ্ভাবনী কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বাংলাদেশের

এনআরবি নিউজ, আর্জেন্টিনা থেকে:

‘দক্ষিণ-দক্ষিণ জ্ঞান ও উদ্ভাবনী কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বাংলাদেশের

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ’। এক্ষেত্রে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ২০১৫ সালের মে মাসে রাজধানী ঢাকায় প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষিণের উন্নয়নে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সাউথ-সাউথ এ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশনের উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই বাংলাদেশ এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছিল’।

আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ারস্ এ জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক ২য় উচ্চ পর্যায়ের ৩দিনের সম্মেলনে (বাপা+৪০) অংশ নিয়ে দেশ পর্যায়ের ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা’কে শক্তিশালী ও পুনরুজ্জ্বীবিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক ২য় উচ্চ পর্যায়ের এই সম্মেলন আহ্বান করে। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ারস্ এ অনুষ্ঠিত ‘বুয়েনস আয়ারস্ প্লান অব অ্যাকশান (বাপা)’ গৃহীত হওয়ার চল্লিশ বছর পূর্তির কথা মাথায় রেখেই সাধারণ পরিষদ এবারের এই সম্মেলন এখানে করেছে। বাপা+৪০ এর লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে কারিগরি সহযোগিতার বাস্তবায়নকে এগিয়ে নেওয়া। 

বাংলাদেশ এ সম্মেলনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সম্মেলনটির উচ্চ পর্যায়ের প্লেনারিতে কিছু সময়ের জন্য সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, সেলিনা মোমেনসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। 

জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক কার্যালয় প্রকাশিত ‘সর্বোত্তম অনুশীলন’ সংক্রান্ত প্রকাশনায় বাংলাদেশের পাঁচটি বিষয় যথাক্রমে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইমপ্যাথি প্রশিক্ষণ, এসডিজি ট্র্যাকার, সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড এবং পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারির সময় ব্যয় পরিদর্শন মডেল অন্তর্ভূক্ত করায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। সিটিজেন ফ্রেন্ডলি পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন ইন বাংলাদেশ বিষয়ক একই কার্যালয়ের আরেকটি প্রকাশনায়ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সাফল্যগাঁথা তুলে ধরা হয়েছে-যা উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাউথ-সাউথ এ্যান্ড ট্রায়াঙ্গেলার কো-অপারেশনের মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করতে সদস্য দেশগুলোকে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ড. মোমেন।
এর আগে এটুআই ও জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিঞ্জান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইভেন্টটিতে তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী খাতে বাংলাদেশ সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি উত্তম অনুশীলন, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বিনির্মাণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা বিনিময় ইত্যাদি কার্যক্রমে দক্ষিণের দেশগুলোর অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির উপর জোর দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফার্নান্দে এসপেনোসা গার্সেজ, জর্জিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জালকালিয়ানি এবং গুয়েতেমালার পররাষ্ট্র বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার জাইরো ডি. এসট্রাডা বি. এর সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন। এ সকল বৈঠকে স্ব স্ব দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও উন্নয়ন প্রচেষ্ঠা সমূহের নানা দিক তুলে ধরা হয়। সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশ অদম্য অগ্রযাত্রা এবং মিয়ানমার থেকে বাস্ত্যুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য