শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ মার্চ, ২০২০ ১১:২০

নারী দিবস কেবল বেগুনি শাড়ির আফসোস

হাসিনা আকতার নিগার

নারী দিবস কেবল বেগুনি শাড়ির আফসোস
প্রতীকী ছবি

মনটা বিষন্ন। চারপাশের বেশ অস্থিরতা, জীবনের টানা পোড়েন নিয়ে। আবার  করোনাভাইরাসের আতংক কমবেশি সবার মনে। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের প্রভাব চোখে দেখা যায়। কিন্তু সমাজের লিঙ্গ বৈষম্যতা, শ্রেণিবিভেদ এমন  এক ভাইরাস, যা কালে কালে কেবল সংক্রমিত করছে মানুষকে। এর একটি হল নারী বিষয়ক। 

৮ মার্চ নারী দিবস আসে প্রতি বছর। কেবল একটি দিন হয়ে। ১৮৫৭ সালের  নারী শ্রমিকদের দাবি আদায়ের দিনটি এখন বেগুনি রঙের উৎসবে পরিণত হয়েছে। তবে এ দিন আর উৎসব সকল নারীদের জন্য কি- কথাটা ভাবলে একদিনের জন্য নারীর রাজত্ব অফিস পরিবেশগুলোকে বড় হেয়ালিপনা মনে হয়।
  
এ দিবসকে ঘিরে সভা, সমাবেশ ও সেমিনারে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়। কিন্তু নারীর অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা কতটুকু প্রতিষ্ঠিত তা নারীর ক্ষমতায়ন দিয়ে প্রমাণ করা অনেকটা দুরুহ ব্যাপার।     

নারী ও মানুষ। সুতরাং নারী দিবস পালন না করে মানুষ হিসাবে নিজেকে নতুন করে ভাবার কোন কারণ নাই। বরং মেধা মননে প্রজ্ঞাবান নারীরা বেগুনি সাজে আয়নাতে দাঁড়িয়ে নিজের জায়গায় সাধারণ নারীকে দেখুন। তবে আজ যে সমতার কথা বলা হচ্ছে তার গভীরে যাওয়া সম্ভব হবে। 

সূতার কারখানার নারীরা যেমন তাদের অধিকার আর মর্যাদা পায়নি বহু বছর আগে; এখন অবধি সে অবস্থানেই আছে নারীরা। তাই ৮ মার্চ নারী দিবস নারীর জন্য কেবল উৎসব হতে পারে না। 

দেশের গার্মেন্টস সেক্টরের ৮০ ভাগ নারী শ্রমিক। গৃহিনী নারীরা কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় বেশি কাজ করে, যা এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে। আবার কর্মজীবী নারী ঘরে বাইরে সমতালে কাজ করে। এত কিছুর পরেও পরিবার সমাজে সাধারণ নারীদের হেয় হতে হয়। তাদের প্রাপ্য মর্যাদাটুকু পাওয়ার পরিবর্তে মিলে নিরাপত্তাহীন জীবন। যার প্রমাণ মিলে খবরের পাতায় নির্যাতিত নারীদের খবরে। 
 
প্রকৃতপক্ষে আধুনিক সময়ে সমাজের একটা অবস্থানে বসে যখন নারীর ক্ষমতায়ন দিয়ে নারীকে যাচাই করে তখন সেখানে থাকে শ্রেণি বৈষম্যতার দৃষ্টিভঙ্গি। প্রাচুর্যময় পরিবেশে থেকে বস্তির নারীর অধিকারের বাস্তব নির্মমতা বুঝা যায় না। অফিসের একজন অধস্তন নারী কর্মচারী বিপাকে পড়ে ও চুপ থাকার কারণ উপলব্ধি করতে পারে না সমাজের উঁচু আসনের পুরুষ বা নারী  ব্যক্তিটি। কারণ 'ছা পোষা' নারীটি চাকরি হারালে ঘরের সন্তান অভুক্ত থাকবে। আর পুরুষের লোলুপ দৃষ্টির বিচারের আগে 'নারীই খারাপ' এ সীলটা দিতে মুখর থাকে সমাজ। 

সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিকভাবে পাপিয়ার অন্যায় ব্যভিচার নিয়ে চলছে রসালো আলাপ। নারীরাও তাকেই দোষ দিচ্ছে। কিন্তু তার স্বামী সুমন যে এত ভয়ংকর খেলার এক হোতা তা আড়ালেই থাকছে। 

পাপিয়া নারীর ক্ষমতায়নের হিস্যাদার হতো, আজ যদি ধরা না পড়ত। কারণ  রাজনীতিতে নারীদের ক্ষমতায়ন নারী অধিকার অর্জনে একটা বিশেষ উদাহরণও বটে।
 
নতুন নতুন থিম নিয়ে নারী দিবস পালন হয়েছে, হবে এটাই সত্য। তবে নারীর প্রতি বৈষম্যতার ব্যাধি কেবল পুরুষবাদী চিন্তাতে নয়। এ ব্যাধি মানুষে মানুষে শ্রেণি বিভাজনের। তাই নারী দিবস একটা বিশেষ শ্রেণির জন্য বিশেষ উৎসব। খেটে খাওয়া দিন মজুর বা পরিবারের সাধারণ নারীর কাছে টেলিভিশনের পর্দায় ক্ষণিকের একটা খবর। হয়ত খবরের সে ছবিতে কোন নারীর সুন্দর বেগুনি শাড়ি দেখে সাধ হয়, 'যদি এমন শাড়ি তার থাকত'।              

লেখক: কলাম লেখক 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য