শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল, ২০২০ ২১:৪০

ডিউটি ডাক্তারদের খাবার সমস্যা সমাধানে গ্রুপ অব ডক্টরস

ডা. সোহানূর রহমান সোহান

ডিউটি ডাক্তারদের খাবার সমস্যা সমাধানে গ্রুপ অব ডক্টরস

গত ২৬ মার্চ, যেদিন সরকারি ছুটি দেওয়া হলো, সেদিন আমার ইভিনিং এবং নাইট ডিউটি ছিল। সেদিন আমার হাসপাতালের ক্যান্টিন বন্ধ থাকায়, আশেপাশের হোটেল বন্ধ থাকায়, পাঠাও ফুডপ্যান্ডা বন্ধ থাকায় রাতে কিছু না খেয়ে ডিউটি করি। 

তখনই একটি প্ল্যান মাথায় আসে। তখনই মনে হয় যে আমার মতো আরও ডাক্তার নিশ্চয়ই আছে। আমি তাদের খাবারের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেই এবং কয়েকজন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করি। নিজের ওয়ালে, ডাক্তারদের  গ্রুপে এই কার্যক্রম শুরু করার জন্য পোস্ট দেই। 

এরপর ২৭ মার্চ সারাদিন কন্টেন্ট রেডি করি, সমমনা ডাক্তারদের নিয়ে এটি গ্রুপ করি। আমরা খাবারের জন্য বিভিন্ন ডাক্তারের হোম কিচেন ব্যবহারের ব্যবস্থা করি। কেউ ২ টা, কেউ ৫ টা খাবার রান্না করে দিয়ে সাথে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করে। 

এরপর আমরা সেদিন রাতেই খাবার দিতে বের হয়ে যাই। ঢাকা মেডিকেল, এয়ারপোর্ট এলাকার ডিউটি ডাক্তার, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, বারডেম, গ্রিন লাইফ, ইবনে সিনা মেডিকেলসহ আরও বেশ কিছু মেডিকেলে ডিউটি ডাক্তারকে খাবার দেই।

৩১ মার্চ আমার কাছে ফোন আসে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে। তারা প্রচন্ড খাবারের কষ্টের কথা জানায়, সেই সঙ্গে জানায় তারা আগের রাতে শুধু বিস্কুট খেয়ে কাটিয়েছে, তাদের ৩০ জনের খাবার প্রয়োজন। এতো বেশি খাবার একসাথে দেওয়ার প্রিপারেশন আমাদের তখন ছিলো না। কারন আমরা পুরো কাজটাই করছিলাম স্বেচ্ছা শ্রমে। 

তখন আমাদের পাশে দাঁড়ায় ওমর ফারুক নামে আমাদের এক বন্ধু। যে একা ৩০ জনের খাবার রান্না করে দেয়। ডা. মাহী ও ডা. মুশফিক সেই খাবার পৌঁছে দেন। এরপর রাতেও কুয়েত মৈত্রি হাসপাতালে খাবার প্রয়োজন হয়। তখন একটি স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেয়, তারপর সেই খাবার কুয়েত মৈত্রি হাসপাতালে পৌঁছে দেই। 
এরপর আমরা নিয়মিত কুয়েত মৈত্রিসহ আরো বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে খাবার পৌঁছে দিয়েছি। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল, বঙ্গবন্ধু, মিটফোর্ড, মুগদা মেডিকেল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ডিউটিরত ডাক্তারদের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। 

আমাদের খাবারগুলো ডাক্তাররা রান্না করেন, ডাক্তাররা পৌঁছে দেন। দুপুরের খাবারের জন্য সকাল ১০:৩০ এবং রাতের খাবারের জন্য বিকাল ৪:৩০ এর মধ্যে জানালে আমরা গ্রুপ অব ডক্টরস খাবার নিয়ে সময়মত পৌঁছে যাচ্ছি। খাবারের জন্য আমরা কোনও মূল্য নিচ্ছি না, তবে কেউ চাইলে প্রতি খাবারের জন্য সর্বনিম্ন ৮০ টাকা বা অধিক ডোনেট করতে পারে। আমাদের এই কার্যক্রম যতদিন এই ইমার্জেন্সি থাকবে ততদিন চলমান থাকবে।


বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য