শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১২

শীতবিষয়ক প্যাঁচাল

আমার বউয়ের কাজই হচ্ছে মার্কেটে যাওয়ার সময় আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া। যেন শপিং ব্যাগ টানানো যায়। ফলে দুদিন পরপরই আমাকে দিয়ে ওজনদার সব শপিং ব্যাগ টানিয়ে আমার হাতে ফোসকা ফেলে দেয়...

ইকবাল খন্দকার

শীতবিষয়ক প্যাঁচাল
আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ

টিভিতে ব্রেকিং নিউজ আকারে জানানো না হলেও দেশের মানুষ খুব ভালো করেই জানে এখন শীতকাল। আর এটাও জানে, শীতকাল মানেই কাঁপাকাঁপি। আমার এক ছোটভাই বলল, আর বলবেন না ভাই। শীতকালীন এই কাঁপাকাঁপির কারণে আমাদের মতো গরিবদের পেটে লাথি পড়ে। এই তো একটু আগেও একেকটা পড়ল। আমি জানতে চাইলাম, কীভাবে? ছোটভাই বলল, কীভাবে আবার! আপনি তো জানেন আমি একজন আর্টিস্ট। আর্ট করি, টাকা উপার্জন করি, চলি। তো সমস্যা যেটা হয়েছে, একটু আগে একজনের একটা ফরমায়েশি ছবি আঁকতে বসেছিলাম। কিন্তু শীতে হাত-পা এমনভাবে কাঁপতে শুরু করল যে, চোখ যেখানে দিতে চেয়েছিলাম, সেখানে না দিয়ে দিয়ে ফেললাম ইঞ্চিখানেক নিচে। নাকও যথাস্থানে নেই। কানেরও একই হাল। তো হাত কাঁপাকাঁপির কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকঠাক আঁকতে না পারার পরিণতি কী হয়েছে শোনেন। যার ছবি এঁকেছি, তার সামনে যখন ছবিটা রাখলাম, উনি বলে উঠলেন কী, আমি তো বলেছিলাম আমার ছবি আঁকার জন্য। দৈত্যের ছবি আঁকার কথা তো বলিনি। ব্যস, আর্টিস্ট হিসেবে আমার সম্মানও গেল, সম্মানীও গেল। আমার এক প্রতিবেশী বললেন, শীত আসায় খুব সমস্যায় পড়ে গেলাম। আপনার ভাবি খালি সন্দেহ করে। আমি বললাম, শীত ঋতুর কারণে যে কারও বউ কাউকে সন্দেহ করে, জীবনেও শুনিনি। যেহেতু আপনিই প্রথম শোনালেন। অতএব, একটু বিস্তারিত শোনান। শুনে কানটা সার্থক হোক। প্রতিবেশী বললেন, আমার বাসার পাশেই একটা মহিলা কলেজ আছে, আপনি তো দেখেছেনই। তো আমার চরিত্র যেহেতু বেশি সুবিধার না, তাই স্বাভাবিকভাবেই কলেজটার দিকে চোখ চলে যায়। তো বউ করে কী, জানালার পর্দাটা টেনে দিয়ে রাখে। কিন্তু যখন প্রচ- গরম পড়ে, তখন গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পর্দা সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়, আমিও সুন্দর সুন্দর মেয়েদের দেখে ফেলতে পারি। কিন্তু শীতকালে যেহেতু ঠাণ্ডা বাতাস ঢোকে, তাই সে পর্দাও সরায় না। আমারও সুন্দরীদের দেখা হয় না। কিন্তু না দেখলেও যেহেতু চলে না, আমি করি কী, চুরি করে পর্দা সরিয়ে ফেলি। পরবর্তীতে বউ যখন দেখে পর্দা সরানো, বলতে থাকে, বাইরে থেকে ঠাণ্ডা বাতাস আসবে জেনেও পর্দাটা কে সরালো! বলেই ক্ষান্ত হয় না, আমার দিকে কেমন করে যেন তাকায়। ভয়ে আমার কলিজায় পানি সংকট দেখা দেয়। আমার এক দুলাভাই বললেন, শীতকালটার মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মাস। যা অত্যন্ত হতাশার বিষয়। মেয়াদটা যদি আরও বাড়ত, তাহলে আমাদের মতো ব্যক্তিরা একটু সুবিধা ভোগ করত। আমি কৌতূহলী হলাম, কী ধরনের সুবিধা বলেন তো! দুলাভাই বললেন, আমার নিজের কথাই বলি। আমার বউয়ের কাজই হচ্ছে মার্কেটে যাওয়ার সময় আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া। কেন নিয়ে যাওয়া? যেন শপিং ব্যাগ টানানো যায়। ফলে দুদিন পরপরই আমাকে দিয়ে ওজনদার সব শপিংব্যাগ টানিয়ে আমার হাতে ফোসকা ফেলে দেয়। কিন্তু শীতকালে ফোসকাটা পড়ে না। কেন পড়ে না? কারণ, শীতকালে হাতে হাতমোজা থাকে। আহারে, যদি সারা বছরই শীত থাকত, তাহলে সারা বছরই আরামসে হাতে হাতমোজা পরতে পারতাম, সারা বছরই আরামসে ব্যাগ টানতে পারতাম। সম্পূর্ণ ফোসকাবিহীন পন্থায়। আমার এক বন্ধু বলল, শীতকালের উপকারিতা যেমন আছে, অপকারিতাও কম না। এই যে একটু আগে বসের ঝাড়ি খেলাম। আমি বললাম, শীতের জন্য বসের ঝাড়ি খেয়েছিস! বলিস কী! বন্ধু বলল, ঠিকই বলছি। শীতে হাত কাঁপছিল। ফলে হয়েছে কী, ‘কপি’ শব্দটার ওপর ক্লিক করতে গিয়ে ক্লিক করে ফেলেছি ‘ডিলিট’ শব্দটার উপরে। সঙ্গে সঙ্গে ফাইল গায়েব আর বসের হুলস্থুল ঝাড়ি।


আপনার মন্তব্য