শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:২৪

ভালোবাসা দিবসের রিভিউ

রাফিউজ্জামান সিফাত

ভালোবাসা দিবসের রিভিউ
Google News

নাম : টিংকুর ভালোবাসা দিবসের রিভিউ

শ্রেষ্ঠাংশে : প্রেমিক চরিত্রে আমার বন্ধু টিংকু (আমি টিংকুর কাছে তিন শ টাকা পাই), প্রেমিকা চরিত্রে বিলকিস (টিকটক সেলিব্রেটি), ভিলেন চরিত্রে বিলকিসের মা জরিনা আন্টি (আন্টি খুব কড়া, দেখলেই বকা দেন), সহকারী ভিলেন, বিলকিসের ছোট ভাই কিশমিশ। 

সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ভাষা : বাংলা, বাংলিশ। 

কাহিনী সংক্ষেপ : টিংকু বহুদিন ধরে বিলকিসকে ভালোবাসে কিন্তু সাহস করে মুখ ফুটে বলতে পারে না। গতকাল ভালোবাসা দিবসে সে ঠিক করে যেভাবেই হোক এবার সে বিলকিসকে তার মনের কথা জানাবে। টিংকু তার বন্ধুর (মানে আমি) রুমে এসে কান্না জড়ানো গলায় জানায়, বিলকিসের মা তাকে গত মাসের বেতনের টাকা দেয়নি। তাই তার পকেট ফাঁকা, কিছু টাকা ধার না দিলে সে লাল গোলাপ কিনতে পারবে না। তার প্রেম মাঠেমারা যাবে। জানিয়ে রাখা ভালো টিংকু বিলকিসকে অংক পড়ায়। টিংকু টাকা ধার চায় এবং কথা দেয় সন্ধ্যার আগেই টাকা পরিশোধ করবে। টিংকুর বন্ধু তাকে টাকা ধার দেয়। সেই টাকা নিয়ে টিংকু আমার ইস্ত্রি করা শার্ট আর প্যান্ট পরে ডেটিং করতে বাসা থেকে বের হয়। পথিমধ্যে সে ফুলের দোকান থেকে দশগুণ বেশি দামে একটা লাল গোলাপ ও ভিউকার্ডের দোকান থেকে একটা ‘আই লাভ ইউ’ কার্ড কিনে প্যান্টের সাইড পকেটে গুঁজে রাখে। এরপর সে বিলকিসের বাসায় হাজির হয় এবং পাটীগণিত অংক কষানো শুরু করে। টিংকু যতক্ষণ পড়ায় বিলকিসের মা ততক্ষণ পাশে বসে থাকে। এক সময় নাশতা বানানোর প্রয়োজনে আন্টি উঠে যেতেই টিংকু পকেট থেকে গোলাপ আর ভিউকার্ড বের করে বিলকিসের হাতে তুলে দেয়। ঠিক তখনই বিলকিসের ছোট ভাই কিশমিশ তাদের দেখে ফেলে। সে চিৎকার করে জানিয়ে দেয়, অংক স্যার বিলকিস আপুকে ‘আইলাভিউ’ বলছে! বিলকিসের মা রান্নাঘর থেকে হুঙ্কার ছেড়ে ভাজাকাঠি নিয়ে দৌড়ে আসেন। টিংকু ততক্ষণে চেয়ার ছেড়ে পালায় এবং বিলকিস সেই দৃশ্য ভিডিও করে একটা টিকটক ভিডিও বানিয়ে ফেলে।   

যা যা ভালো লেগেছে : নায়ক হিসেবে টিংকু রোমান্টিক ও দরিদ্র। যার কাছে গোলাপ ফুল কেনার টাকাও থাকে না কিন্তু প্রেম করার ইচ্ছা থাকে। আরও ভালো লেগেছে ঠিক সময়ে বিলকিসের ছোট ভাইয়ের গগনবিদারী চিৎকার। তারপরই আন্টির ভাজাকাঠি হাতে টিংকুকে দৌড়ানি।

যা ভালো লাগেনি : টিংকু এখনো তার বন্ধু মানে আমার টাকা শোধ করেনি। কবে দিতে পারবে তারও কোনো গ্যারান্টি নেই। বিলকিসের বাসার ত্রিসীমানায় টিংকু নিষিদ্ধ। প্রেম গেল, মাস্টারি গেল, সঙ্গে  দেড়মাসের বেতনের টাকাও গেল। টিংকু এখন সারা দিন ‘ও বিলকিস, ওরে বিলকিস’ বলে বিলাপ করে।

লাভের লাভ যা হলো : পুরো ঘটনায় লাভের লাভ হয়েছে বিলকিসের। টিংকুর কাছ থেকে লাভ পেয়েছে সে। টিংকুর টিউশনি চাকরি চলে যাওয়ায় আপাতত পড়াশোনার প্যারা নেই। এছাড়া টিংকুর দৌড়ানি খাওয়ার ভিডিওতে ১৩ হাজার লাইক, শেয়ার, কমেন্ট পড়েছে। টিকটকে ফলোয়ার বাতাসের বেগে বাড়ছে তার।

রেটিং : ট্র্যাজিক রোমান্টিক ভালোবাসা দিবসের বাস্তব কাহিনী হিসেবে রেটিং করব দশের ভিতর সাড়ে সাত-আট। ধারের টাকাটা পেলে রেটিং আরেকটু বাড়বে।