শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ জুন, ২০২১ ২৩:২১

বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি পন্ডিত কুমিল্লার শীলভদ্র

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি পন্ডিত কুমিল্লার শীলভদ্র
চান্দিনার কৈলাইন গ্রামের মঠ ও রত্ন সাগর দিঘি
Google News

পন্ডিত শীলভদ্র। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কৈলাইন গ্রামে। তিনি ছিলেন সপ্তম শতকের বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি পন্ডিত। শীলভদ্র ছিলেন ভারতের বিহার রাজ্যে অবস্থিত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। সে সময় ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্ডিত হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হতো। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে তিনি ২০ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করেন।

কুমিল্লা জেলার ইতিহাস গ্রন্থের সূত্রমতে, কৈলান গ্রামের একটি ব্রাহ্মণ রাজপরিবারে শীলভদ্র ৫২৯ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মৃত্যুবরণ ৬৫৪ খ্রিস্টাব্দে। ঐতিহাসিক শ্রী কৈলাসচন্দ্র সিংহ তাঁকে ‘সমগ্র বাঙালি জাতির আদি গৌরবস্তম্ভ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ’ প্রবন্ধে বলেন, ‘নালন্দায় হিউয়েন সাঙ-এর যিনি গুরু ছিলেন তিনি ছিলেন বাঙালি; তাঁর নাম শীলভদ্র। তিনি বাংলাদেশের কোনো এক স্থানের রাজা ছিলেন, রাজ্য ত্যাগ করে তিনি বেরিয়ে আসেন। এই সঙ্গে যাঁরা শিক্ষাদান করতেন তাঁদের সকলের মধ্যে একলা কেবল ইনিই সমগ্র শাস্ত্র সমস্ত সূত্র ব্যাখ্যা করতে পারতেন।’

শীলভদ্র সম্পর্কে জানা যায়, বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ-এর বই থেকে। হিউয়েন সাঙ প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে শীলভদ্রের ছাত্র ছিলেন। কুমিল্লা সম্পর্কে হিউয়েন সাঙের বর্ণনা এরকম : এখানে নিয়মিত চাষাবাদ হয়। প্রচুর শস্য আর ফলমূল সর্বত্রই জন্মায়। আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ আর লোকদের স্বভাব হচ্ছে ভদ্র। এখানকার মানুষ পরিশ্রমী, লম্বায় কম আর এদের গায়ের রং কালো। এরা প্রবল বিদ্যানুরাগী আর বিদ্যালাভ করার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করে। সত্য আর মিথ্যা এই দুই সিদ্ধান্তেরই লোক এখানে থাকে।’ কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলে দুটি বড় বিহারসহ ছোট-বড় ৩৫টি বিহার দেখেছেন বলেও হিউয়েন সাঙ উল্লেখ করেন। এ স্থানকে তিনি ‘দি সিটি অব দ্য ইউনিভার্সিটি বা বিশ্ববিদ্যালয় নগরী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। শীলভদ্র শৈশবেই জ্ঞান অন্বেষণে গভীর অনুরাগী ছিলেন। ২০ বছর বয়স পর্যন্ত সমতট রাজ্যের রাজধানী বা প্রধান কেন্দ্র অর্থাৎ লালমাই-ময়নামতিতে অবস্থান করেন; শিক্ষার শুরু সেখানেই। তরুণ শীলভদ্র রাজকীয় সম্মান ও ঐশ্বর্য ত্যাগ করে অধিকতর জ্ঞান অন্বেষণের জন্য ভারতবর্ষের বহু শিক্ষাকেন্দ্র পরিভ্রমণ করে বৌদ্ধধর্মসহ সর্বজনীন শিক্ষায় তিনি সুশিক্ষিত হয়ে ওঠেন। তিরিশ বছর বয়সে তিনি ভারতের নালন্দায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন।  ৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে শীলভদ্র নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান আচার্য পদ লাভ করেন।