শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০২১ ২১:৫৬

কুলি থেকে ৩০০ কোটি টাকার মালিক

অসংখ্য রাত অভুক্ত থেকে কাটিয়েছেন। মা-বাবা দুজনই ছিলেন নিরক্ষর। ফলে বিকল্প কোনো উপায়ও ছিল না। আর তিনিই এখন কয়েক হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করছেন। বছরে আয় করছেন প্রায় ৩০০ কোটি টাকা

শনিবারের সকাল ডেস্ক

কুলি থেকে ৩০০ কোটি টাকার মালিক
Google News

পরিবারের খাবার জোগান দিতে স্কুল থেকে ফেরার পথে বাবার সঙ্গে কফির বাগানে কুলির কাজ করতেন মুস্তাফা। তাঁর জন্ম ভারতের কেরালায়। সেই ছোট্ট দরিদ্র বালকটি এখন ৩০০ কোটি টাকার একটি কোম্পানির মালিক। তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘আইডি ফ্রেশ ফুড’ বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কয়েক হাজার মানুষের খাদ্যের জোগান দেয়। স্থান পেয়েছেন ফোর্বসসহ বিশ্ব বিখ্যাত ম্যাগাজিনগুলোয়। তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ২০০৫ সালে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। চার আত্মীয় আবদুল নাজের, শামসুদ্দিন টিকে, জাফর টিকে ও নওশাদ টিএর সঙ্গে মিলে তিনি এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা পিসি মুস্তাফার এবং বাকিগুলো আত্মীয়দের।

তাঁরা ইডলি/ডোসা বাটার, পরোটা, চাপাতিস, দই এবং পনিরসহ সকালের নাস্তার জন্য একাধিক তাজা খাবার প্রস্তুত করেন। পরে সেগুলো প্যাকেজিং করে অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে পাঠান।  অর্থাৎ কোম্পানিটির খাবার খেয়ে বর্তমানে অসংখ্য মানুষ তাঁদের দিন শুরু করেন। তবে তাঁদের বর্তমান অবস্থানে আসার পথ অতটা সহজ ছিল না।

স্কুল থেকে ফেরার পথে বাবার সঙ্গে কফির বাগানে চলে যেতেন মুস্তাফা। সেখানে স্কুলব্যাগ রেখে তুলে নিতেন ভারী কাঠের বাক্স এবং কুলির কাজ শুরু করতেন। সন্ধ্যায় আর পড়ায় বসার সুযোগ হতো না। চোখেমুখে লেগে থাকত ঘুম। এর ফলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করেন তিনি।

তখন তাঁদের পরিবারের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, তিনবেলা খাবার জুটত না। অসংখ্য রাত অভুক্ত থেকে কাটিয়েছেন। মা-বাবা দুজনই ছিলেন নিরক্ষর। ফলে বিকল্প কোনো উপায়ও ছিল না। আর তিনিই এখন কয়েক হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করছেন। বছরে আয় করছেন প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। মুস্তাফা জানান, সন্তান পড়াশোনা ছেড়ে কুলির কাজ করুক, এটা কোনো পিতা-মাতা চান না। কিন্তু আমার পরিবারে টিকে থাকার জন্য বিকল্প কোনো উপায় ছিল না।