শিরোনাম
শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

কোরিয়ায় রোবট বানিয়ে লাবিবের চমক

শনিবারের সকাল ডেস্ক

কোরিয়ায় রোবট বানিয়ে লাবিবের চমক

বাংলাদেশি তরুণ লাবিব তাজওয়ার রহমান। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তিন বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নিউবিলিটি’ নামক কোম্পানি। এটি রোবট তৈরির কাজ করে থাকে। সম্প্রতি সাধারণ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে দুই সহযোগী মিলে রোবট তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

লাবিবের ছোট ভাই সেরিব্রাল পালসি রোগের কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও অক্ষম ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর মনে কঠিন আঘাত পান লাবিব। মাত্র ২০ বছর বয়সেই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়াকালে লাবিব ও তার বন্ধুদের পৃথিবী বিখ্যাত অ্যামাজন এবং হুন্দাইয়ের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার নামিদামি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। ২০১৫ সালে লাবিব দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পরিচয় হয় ‘নিউবিলিটি’র দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু লি ও সিউংহো চো-এর সঙ্গে। তারা তিনজন নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনরাড অ্যাওয়ার্ডে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনজনই ছিলেন ফাইনালিস্ট। সেখান থেকেই তাদের বন্ধুত্বের যাত্রা শুরু হয়।

লাবিব বলেন, প্রতিযোগিতার পর বহুদিন পর্যন্ত আমরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। তিনজনে মিলে কিছু একটা উদ্ভাবন করার বিষয়ে সব সময় ভাবতাম। শেষ পর্যন্ত আমরা ‘নিউবিলিটি’ গড়ে তুলি। প্রাথমিকভাবে আমরা গেমিংয়ে আনুষঙ্গিক বানানোর পরিকল্পনা করেছিলাম। এ আইডিয়া নিয়ে আমরা কয়েক বছর কাজও করেছি। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার বড় প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষ দ্বারা পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার বিকল্প খুঁজছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায় হোম ডেলিভারির বিশাল সেক্টর রয়েছে এবং দেশটিতে ই-কমার্সের ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছিল। সেই থেকে আমরা ডেলিভারি রোবট বানানোর সিদ্ধান্ত নিই।

তিনি বলেন, রোবটটি অর্ডার করা খাবার রেস্টুরেন্ট থেকে সংগ্রহ করে হোম ডেলিভারি দেবে। ডেলিভারিম্যান যা করেন, কোনো মানুষ ছাড়া এখন থেকে রোবটটিও তাই করবে। আমাদের রোবটগুলো ডেলিভারি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে। এ জন্য হুন্দাই মোটরসের কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে ‘নিউবিলিটি’।

লাবিব ‘ইনক্লুশনএক্স’ নামে বাংলাদেশে একটি মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন সার্ভিস চালু করেছেন। এ ছাড়া তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ফিজিক্স সোসাইটির সহসভাপতি। ‘স্ট্যানফোর্ড ডিজ্যাবিলিটি ল্যাঙ্গুয়েজ গাইড’ নামক একটি বইও লিখেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের  অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বইটি তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।