শিরোনাম
মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৩ ০০:০০ টা

বাফুফের নিষেধাজ্ঞায় এবার সোহাগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাফুফের নিষেধাজ্ঞায় এবার সোহাগ

বাফুফে নির্বাহী কমিটির দীর্ঘ জরুরি বৈঠক শেষ হলো। সংবাদ সম্মেলনে এলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীসহ আরও কয়েকজন। সাধারণত বাফুফে সভাপতি সংবাদ সম্মেলনে এলে সাংবাদিকরা নিজে থেকেই চুপ থাকেন। প্রথমে তার কথা শোনেন। তারপর প্রশ্ন করেন। গতকাল হলো ঠিক উল্টো। উত্তপ্ত সাংবাদিকদের থামিয়ে বক্তব্য শুরু করতেই বেশ খানিকটা সময় লেগে গেল সালাউদ্দিনের। জালিয়াতি, মিথ্যাচার, অর্থের অপব্যবহারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগে আবু নাইম সোহাগকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। এ ঘটনার পর থেকেই ফুটবলপাড়া বেশ উত্তপ্ত। গতকালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমের চেয়েও গরম সংবাদ সম্মেলনে এসে সালাউদ্দিন জানান, আবু নাইম সোহাগকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তদন্ত কমিটি হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ করা হয়েছে এবং বাফুফে সাধারণ সম্পাদকের ভুলের কোনো দায় নিজেদের কাঁধে নেবে না।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা জরুরি বৈঠক করেছি সাধারণ সম্পাদকের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। আমরা নতুন করে সেক্রেটারি নেব। তার আগে আমরা ভারপ্রাপ্ত একজনকে দায়িত্ব দেব।’ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের নাম পরে জানালেন আবদুস সালাম মুর্শেদী। কাজী সালাউদ্দিনেরই কাছের লোক তার ব্যক্তিগত সহকারী ইমরান হোসেন তুষার তিন থেকে ছয় মাসের জন্য এ দায়িত্ব পালন করবেন। পরে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেবে বাফুফে। কাজী সালাউদ্দিন জানালেন, একটি স্পেশাল কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটিতে আছেন বাফুফের চারজন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান, কাজী নাবিল আহমেদ, আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ও মহিউদ্দিন আহমেদ মহি এবং জাকির হোসেন, সত্যজিৎ দাস রুপু ও ইলিয়াস হোসেন। এই সাতজনের সঙ্গে ইন্টারনাল অডিট কমিটির আরও তিনজন যোগ হবেন। মোট ১০ জনের কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন বাফুফের কাছে। এ কমিটির দায়িত্ব হলো, কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা। প্রায় তিন বছর ধরে ফিফা তদন্ত করছে বাফুফের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। এ সময়ের মধ্যে বাফুফের কেন হুঁশ হয়নি? এমন এক প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম মুর্শেদী জোরালো গলায় প্রতিবাদ জানালেন। তার মতে, কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়নি। বরং, প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। আবু নাইম সোহাগ নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারেননি। অথচ, ফিফার ৫১ পাতার প্রতিবেদনে পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় আছে আর্থিক অনিয়মের নানা প্রমাণ। এমনকি ফিফা কোড অব এথিকসের ২৮ ধারায় অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাফুফে এখনো বলে চলেছে, আর্থিক কোনো অনিয়ম হয়নি! বিস্ময়করই বটে। সিনিয়র সহসভাপতি জোর গলায় বললেন, আমরা বাফুফেতে ভবিষ্যতে কখনোই আবু নাইম সোহাগকে কোনো স্থান দেব না। একজন সোহাগকে ঝেড়ে ফেলে কি নিজেদের সব ভুল আড়াল করতে চাইছে ফেডারেশন! অবশ্য মুর্শেদী বলেছেন, তদন্ত করে আরও কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবু নাইম সোহাগ অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে ফেডারেশনে। কিন্তু তাকে ঝেড়ে ফেলার মধ্য দিয়ে কি কাউকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে? সোহাগের প্রতিটা প্রতিবেদন সম্পর্কে নিশ্চয়ই অবগত ছিলেন সভাপতি এবং ফিন্যান্স কমিটির প্রধান। তাদের কাছে ‘প্রক্রিয়াগত ভুলটা’ ধরা পড়ল না! ফিফা সেই ভুল ধরে দেওয়ার পর তারা বলছেন, কোনো দায় নেবেন না! আবু নাইম সোহাগের ভুলের দায় কেউ এড়াতে পারে না। অন্তত সভাপতি ও ফিন্যান্স কমিটি তো নয়ই।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনের শেষটায় নিজেদের ভুল স্বীকার করে আবদুস সালাম মুর্শেদী বলে গেলেন, আমাদের যে ভুল আছে তা যেন ভবিষ্যতে আর না হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তাহলে বাফুফে নিজেদের ভুলটা শেষ মুহূর্তে স্বীকার করে গেল ভরা মজলিসে! এমন ভুলের পর স্বপদে বহাল থাকার নৈতিক ভিত্তি কি আর থাকে!

 

 

সর্বশেষ খবর