শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২১:৩০

চট্টগ্রামে গণপরিবহনে ‘বিব্রত’ নারীরা

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে গণপরিবহনে ‘বিব্রত’ নারীরা
চট্টগ্রামে অফিস ছুটির সময় যানবাহনের স্বল্পতায় মহিলাদের ভোগান্তি নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে

একটি বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রুনা মণ্ডল। নগরীর পাথরঘাটার বাসা থেকে ইপিজেড মোড় কর্মস্থলে প্রতিদিন যেতে হয় গণপরিবহনে। তিনি বলেন, একদিন আমি আর এক বান্ধবী মিলে মহিলা সিটে বসলাম। সামনের ইঞ্জিন বক্সে বসলেন এক যুবক। উঠেই যুবক বান্ধবীর হাঁটু ধরে বসে আছে। পর্যায়ক্রমে হাত উপরের দিকে আসতে থাকলে আমরা কয়েকজন এক সঙ্গে প্রতিবাদ করে উঠি। উপস্থিত অনেকেই এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানালে যুবক গাড়ি থেকে নেমে যায়। এভাবে প্রতিনিয়তই গণপরিবহনে আমরা হয়রানির শিকার হই। বিব্রতবোধ হওয়ার মতো এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। আমরা লাঞ্ছিত হই, বিব্রতবোধ করি। তবে দুঃখজনক হলো, এর কোনো প্রতিকার নেই।

মহিলা যাত্রীদের অভিযোগ, সাধারণ বাসে মহিলাদের জন্য চারটি সিট থাকে। সেখানেও বসে থাকে পুরুষ যাত্রী। তাছাড়া প্রত্যহ পুরুষ যাত্রীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে গাড়িতে উঠা, নামার সময় মহিলাদের সুযোগ না দেওয়া, হেলপারদের মহিলাদের গায়ে হাত দেওয়ার প্রবণতা, অফিস ছুটির সময় যানবাহনের স্বল্পতায় মহিলাদের ভোগান্তি নৈমিত্তিক ঘটনা। সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত কাউন্সিলর সৈয়দা কাসপিয়া নাহরিন বলেন, বিষয়টি আমাকেও ভাবায়। কিন্তু একদিনে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে গণপরিবহনে চারটির স্থলে ৮/১০টি আসন বরাদ্দ করা গেলে অবস্থা সহনীয় হতো। তবে করপোরেশনের বাসগুলোকে নিয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করব। কারণ বিষয়টি নারী যাত্রীদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, মহিলারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কর্মমুখী। ফলে তাদের প্রতিনিয়তই গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু মহিলা যাত্রীদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। অতীতে সিটি করপোরেশন মহিলা যাত্রীসেবায় আলাদা বাসের ব্যবস্থা করলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দিন আগে সিটি মেয়রকে এ ব্যাপারে জানিয়েছি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) যান্ত্রিক বিভাগ সূত্র জানায়, নগরবাসীর যাতায়াতের সমস্যা নিরসনে ২০০৬ সালের ১ এপ্রিল ১৯টি ভাড়া বাস (প্রতিটি বাসে ৪৮ সিট) নিয়ে ‘নিরাপদ মহিলা ও শিশু যাত্রীসেবা’ চালু করেন তত্কালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এ বাসগুলো প্রথমে নারী ও শিশুদের জন্য নির্ধারিত ছিল। পরে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় সার্ভিসটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ১৯টি গাড়ির মধ্যে বর্তমানে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করছে ১৩টি, করপোরেশন ব্যবহার করছে দুটি, পুড়ে যায় একটি, নষ্ট দুটি, শিশু শিক্ষার্থীদের পরিবহনে আছে একটি।    

প্রকল্পের দায়িত্বপালনকারী সহকারী প্রকৌশলী জয়সেন বড়ুয়া বলেন, সচল ১৩টি বাস এখন নগরীর ১০ নম্বর রোডে যাত্রী পরিবহন করছে। প্রথম দিকে বাসগুলোতে কেবল নারীদের বহন করা হতো। কিন্তু এক্ষেত্রে মহিলা যাত্রী কম হওয়ায় সাধারণ যাত্রী পরিবহন করছে। তাতে লোকসান অনেকটা কমে আসছে।


আপনার মন্তব্য