Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০১৯ ২৩:৫৩

যাদের কাছে ঋণী বিশ্বকাপ

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে প্রেসবক্সের পাশেই দেখা হয়ে যায় কুন্ডমার সাঙ্গাকারা ও শন পোলকের সঙ্গে। তখন মাঠে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তুতি ম্যাচে খানিকটা বিরতি চলছিল। দুই কিংবদন্তি তারকাই এবার আইসিসির ধারাভাষ্যকর। কফি খাচ্ছিলেন আর গল্প করছিলেন। সাঙ্গাকারাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কিংবদন্তি ক্রিকেটার হয়েও বিশ্বকাপ জিততে না পারাটা নিশ্চয়ই খুব কষ্টের?’ হঠাৎ অপরিচিত কণ্ঠে এমন প্রশ্ন শুনে যেন কিছুটা অবাক হয়ে গেলেন লঙ্কান তারকা। তারপর প্রোটিয়া পেসার শন পোলকের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ওকে, জিজ্ঞাসা করুন, ও ভালো বলতে পারবে?’ যুগে যুগে বিশ্বকাপ অনেক তারকা বানিয়েছে, আবার অনেক তারকা বিশ্বকাপকে আলোড়িত করেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে না পারার আক্ষেপ নিয়েই তাদের ক্রিকেটকে গুডবাই জানাতে হয়েছে। ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, ইমরান খান, শচীন টেন্ডুলকার, স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিংদের ভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে কতজনই আসেন! অ্যালান ডোনাল্ড, কোর্টনি ওয়ালশ, কার্টলি অ্যাম্ব্রোস, মার্টিন ক্রো কিংবা জহির আব্বাসের মতো গ্রেটরাও জিততে পারেননি বিশ্বকাপ। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে, প্রতিভা দিয়ে, ক্যারিশমা দেখিয়ে যারা বিশ্বকাপকে উজ্জ্বল করেছেন কিন্তু জিততে পারেননি, বিশ্বকাপ তাদের কাছে ঋণী! এমন ১০ জন ক্রিকেটারকে বাছাই করেছে আইসিসি, তাদের নিয়েই এই আলোচনা-

মেজবাহ্-উল-হক, লন্ডন থেকে

যাদের কাছে ঋণী বিশ্বকাপ

সৌরভ গাঙ্গুলি

ভারতের দলের সেরা অধিনায়কদের মধ্যে একজন সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের যেবার অভিষেক হয় সেই ১৯৯৯ সালের আসরে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন দাদাও। এরপর ২০০৩ ও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি। তবে ২০০৩ তার অধিনায়কত্বে বিশ্বকাপ খেলে ভারত। ক্রিকেটে অনেক কীর্তি আছে গাঙ্গুলির, বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত খেলেছেন কিন্তু কেবল বিশ্বকাপটাই জেতা হয়নি। তবে ২০১১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে ভারত। সেই আসরে গাঙ্গুলিকে দলে রাখা হয়নি। তা না হলে ভারতীয় এই গ্রেট তারকার পাশেও বিশ্বকাপ লেখা থাকত।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপে সামনে থেকে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। একাই তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন। সব মিলে বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচ খেলে ৫৫.৮৮ গড়ে করেছেন ১০০৬ রান। সৌরভই বিশৃঙ্খল ভারত দলকে গুছিয়ে দারুণ এক সেপে নিয়ে এসেছেন। যে দলটা কিনা ২০১১তে চ্যাম্পিয়নই হয়ে গেল। অথচ সেই দলেই উপেক্ষিত ছিলেন সৌরভ।

 

গ্রাহাম গুচ

বিশ্বকাপ জিততে না পারাটা সবচেয়ে বেশি আক্ষেপের ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার গ্রাহাম গুচের। তিন তিনটি ফাইনালে খেলেছেন। ১৯৯২ সালে তো ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। সেবার সবার ধারণা ছিল ইংল্যান্ডের শিরোপা আর আটকায় কে? দলটাও ছিল দুর্দান্ত।

১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরির কথা কি তারা ভুলতে পারবেন, যারা সেই ম্যাচটি দেখেছিলেন। সে আসরে একাই ৪৭১ রান করেছিলেন গুচ। কিন্তু শিরোপা জেতাতে পারেননি ইংল্যান্ডকে।

গুচের ওয়ানডে ক্যারিয়ার ছিল বেশ দীর্ঘ। তার অভিষেক হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। খেলেছেন ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। এই লম্বা ক্যারিয়ারে ক্রিকেটকে হীরা, মণি, মুক্তা অনেক দিয়েছেন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার রান ২২ হাজার ২১১। একাগ্রু মনে রানের পর রান করে গেছেন। ক্রিকেটও তাকে অনেক যশ, খ্যাতি, প্রতিপত্তি দিয়েছে। কিন্তু আক্ষেপ কেবল একটাই, বিশ্বকাপ জিততে পারেনি তিনি। ইংল্যান্ডেরও কষ্ট এমন এক কিংবদন্তিকে পেয়েও তারা এখনো ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি।

 

ল্যান্স ক্লুজনার

ল্যান্স ক্লুজনারের মতো ক্রিকেটার বিশ্বকাপ জিততে পারেননি এটা যেন ক্রিকেটে বিস্ময়কর এক ঘটনা। নিজের সময়ে ব্যাটে-বলে কি দুর্দান্ত দাপটই না দেখিয়েছেন। তিনি একাই ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই বিভাগে সেরা তারকা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপটা ছিল ক্লুজনারের সেরা আসর। বল হাতে তিনি নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। ব্যাট হাতে দেখিয়েছেন দাপট। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকা দলটাও ছিল তারকায় ভরপুর।

সে বিশ্বকাপের আসরটি বসেছিল এই ইংল্যান্ডেই। কিন্তু সেমিফাইনাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্র্যাজিক বিদায় ঘটে। শেষ চারের লড়াইয়ে সেরা প্রোটিয়ারা মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। চরম উত্তেজনার ম্যাচটি টাই হয়ে যায়। নিয়ম ছিল সুপার সিক্সে যারা এগিয়ে থাকবে তারাই ফাইনালে উঠে যাবে। সেখানেও দেখা যায় অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমান তিনটি করে জয়। কিন্তু নেট রানরেটে ০.১৭ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ফাইনালে উঠে যায় অস্ট্রেলিয়া।  বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার। বিশ্বকাপ জেতা হলো না ক্লুজনারের।

 

 

ব্রায়ান লারা

ক্রিকেটে রেকর্ডের বরপুত্র বলা হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারাকে। টেস্ট ক্রিকেটে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছেন তিনি। সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটিও তো তারই। তার অপরাজিত ৪০০ রানের ইনিংসটি এখনো টেস্টের  সেরা। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে আছে তার হার না মানা ৫০১ রানের ইনিংস।

ওয়ানডে ক্রিকেটেও তিনি কম কিসে! পোর্ট অব স্পেন তারকার আগে কজনইবা ওয়ানডেতে ১০ হাজার রান পূরণ করতে পেরেছিল। এখনো তো সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের দিক থেকে ১০ম স্থানে রয়েছেন লারা। তার গড়ু ছিল ৪০-এর ওপরে (৪০.৪৮)। কিন্তু ট্র্যাজেডি হচ্ছে, ওয়ানডেতে ২৯৯টি ম্যাচ খেলেছেন ওই উইন্ডিজ কিংবদন্তি। মাত্র একটি ম্যাচ খেললেই সংখ্যাটা ৩০০ হয়ে যেত। তবে ম্যাচের সংখ্যা দিয়ে নয়, ক্যারিবীয় তারকা মূল্যায়িত হবেন তার পারফরম্যান্স দিয়ে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরি সংখ্যা ৬৫টি, রান ২২ হাজারের ওপরে। ক্রিকেটে যা চেয়েছেন সবই পেয়েছেন। যেন নিজের খেয়াল-খুশি মতো বোলারকে ডমিনেন্ট করতেন। তবে জীবনে তার একটাই আক্ষেপ, সেটা হচ্ছে বিশ্বকাপ জিততে না পারা।

 

ইয়ান বোথাম

ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ইয়ান বোথাম। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারের তালিকা করলেও ওপরের দিকে থাকবে বোথামের নাম। তিনি দুই-দুইটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন। নিজের ক্যারিশমা দেখিয়ে বিশ্বকে মাত করে দিয়েছেন কিন্তু শিরোপা জিততে পারেননি। আর এই আক্ষেপ নিয়ে তাকে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে বোথাম ছিলেন দুরন্ত, দুর্বার। ইংল্যান্ড দলের জার্সিতে তিনি ১০ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়েছিলেন। ওই আসরে ফাইনাল ম্যাচটি ছিল তার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। গ্রাহাম গুচের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন। লক্ষ্যও বড়ু নয়। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে করেছিল মাত্র ২৪৯ রান। কিন্তু নিজের নামের পাশে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি বোথাম। ওয়াসিম আকরামের এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে আউট হয়ে যান। বোথামের আউটের পরই যেন ইংল্যান্ড মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তারপর বিশ্বকাপটাই হাতছাড়া হয়ে যায়। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ পারফর্ম করেও ফাইনালের কষ্টটা ভুলতে পারেননি বোথাম।

 

ওয়াকার ইউনুস

এ পৃথিবীতে ওয়াকার ইউনুসের মতো দুর্ভাগা বোলার আর কে আছে? নিজের সময়ে তিনি ছিলেন সেরা পেসার। তার সময়ে তাকে ছাড়া পাকিস্তান দল গঠন করা কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু সেই ওয়াকারকে ছাড়াই ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে হয়েছিল। কারণ ইনজুরি। যত ভালো তারকাই হোক না কেন ইনজুরি হলে তো আর কারও কিছু করার থাকে। ৯২-এ বিশ্বকাপে ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে জুটি হিসেবে থাকার কথা ওয়াকারের। এই পেস জুটিকে নিয়ে আগে থেকেই বেশ আলোচনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওয়াকার খেলতে পারলেন না। তবে ওয়াসিম দুর্দান্ত বোলিং করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার হয়েছিলেন। অতঃপর ইমরান খানের নেতৃত্বে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে পাকিস্তান। তা কেবল চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়েছে ওয়াকার ইউনুসকে। ৯২-এ বিশ্বকাপ জয়ী দলে না থাকতে পারাটা যেন ওয়াকারের জীবনে সবচেয়ে বড়ু ট্র্যাজেডি। এরপর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ওয়াকার। কিন্তু তার পাকিস্তান শিরোপা জিততে পারেনি।

 

কুমার সাঙ্গাকারা

দুর্ভাগ্য কুন্ডমার সাঙ্গাকারার। তার জন্মটা বছর চারেক আগে হলে হয়তো তিনিও শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য হতে পারতেন। সাঙ্গাকারার চেয়ে বড়ু ক্রিকেটার আর কে আছে শ্রীলঙ্কায়?

৪০৪ ওয়ানডে খেলেছেন। ৪১.৯৮ গড়ে করেছেন ১৪ হাজার ২৩৪ রান। ২৫টি সেঞ্চুরি এবং ৯৩টি হাফ সেঞ্চুরি। টেস্টে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা ৩৮টি। হাফ সেঞ্চুরি ৫২টি। ১৩৪ টেস্টে গড়ু ৫৭.৪০। সাঙ্গাকারার চেয়ে ওয়ানডেতে বেশি রান আছে আর মাত্র একজনেরই, তিনি শচীন টেন্ডুলকার। কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারও বিশ্বকাপ জিততে পারেননি।

সাঙ্গাকারার আসল কাজ ছিল উইকেটের পেছনে। কিন্তু ব্যাটিং ক্যারিশমা দিয়ে নিজেকে ব্যাটসম্যান হিসেবেই আলাদা করে চিনিয়েছেন।

২০০৭ এবং ২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সাঙ্গাকারার সময়ে দারুণ ফর্মে ছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে ও তিলকারতেœ দিলশান। এই ত্রিরতœই অনেক দিন বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করেছেন। কেবল জিততে পারেননি বিশ্বকাপটাই।

 

এবি ডি ভিলিয়ার্স

সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স। এই প্রোটিয়া তারকার সামনে বোলিং করতে এসে বুক কাঁপে না এমন বোলার বিশ্বে খুঁজে পাওয়া দায়। বোলারের সবচেয়ে সেরা ডেলিভারিতেও তিনি বল অনায়াসে গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক এখন পর্যন্ত তিনিই। মাত্র ৩১ বলে করেছিলেন সেই সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে তার স্টাইকরেট ১০০র ওপরে (১০০.১)। সেঞ্চুরির সংখ্যা ২৫টি। এছাড়া ৫৩টি হাফ সেঞ্চুরিও আছে তার। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে ভিলিয়ার্সের ক্যারিশমা বোঝানো যাবে না। তার মুভমেন্ট ছিল খুবই ভয়ঙ্কর। বাইশ গজে তাকে দেখে মনে হয় হাসছেন, কিন্তু বোলারকে যেন সেই হাসিতেই খুন করে ফেলতেন! এবারের আসরেও খেলতে পারতেন ভিলিয়ার্স। কিন্তু পরিবারকে সময় দিতে বিশ্বকাপের আগে আগে ভক্তদের হতাশ করে অবসর নেন রঙিন জার্সিতে। ক্রিকেটের পাশাপাশি টেনিস, হকি, গলফেও দুর্দান্ত ভিলিয়ার্স। তবে ক্রিকেটই তার প্রিয়। আক্ষেপ একটাই, বিশ্বকাপ জিততে না পারা।

 

জ্যাক ক্যালিস

সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের মধ্যে একজন দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস। ৩২৮ ওয়ানডে খেলেছেন। ২৭৩ উইকেট শিকার করেছেন এই প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে ৪৪.৩৬ গড়ে করেছেন ১১ হাজার ৫৭৯ রান। ১৭ সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে ৮৬টি হাফ সেঞ্চুরিও। টেস্টেও তার ক্যারিয়ার বর্ণাঢ্য। ১৬৬ ম্যাচে ৪৫.৯৮ গড়ে করেছেন ১৩ হাজার ২৮৯ রান। পাশাপাশি নিয়েছেন ২৯২ উইকেট। অলরাউন্ডারের অধিনায়ক রেকর্ডই তার হাতের মুঠোয়।  প্রোটিয়া তারকার একটাই দুঃখ, তিনি বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়সুরিয়া ছাড়া কেবলমাত্র ক্যালিসেরই আছে ২৫০র বেশি উইকেট ও ১০ হাজারের বেশি রান। জয়সুরিয়া ৯৬-এ বিশ্বকাপ জিতেছেন, কিন্তু ক্যালিস পারেননি। এমন এক কিংবদন্তির বিশ্বকাপ জিততে না পারাটা কেবল তারই হতাশা নয়, এটা ক্রিকেটেরও হতাশার কারণ। দুর্ভাগ্য দক্ষিণ আফ্রিকার, ক্লুজনারের পর ক্যালিসের মতো কিংবদন্তি পেয়েও তারা এখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

 

শহীদ আফ্রিদি

‘বুম বুম’ আফ্রিদি। এই পাকিস্তানি তারকা ব্যাট হাতে বাইশ গজে নামলেই গ্যালারিতে শুরু হয়ে যেত চিৎকার। আফ্রিদিও ভক্তদের কখনো হতাশ করেননি। ছক্কা-চার ছিল তার কাছে ডাল-ভাত। তার ৩৭ বলে করা সেঞ্চুরিটি অনেক দিন ছিল রেকর্ডবুকে। মজার বিষয় হচ্ছে, আফ্রিদি হচ্ছেন জাত স্পিনার। কিন্তু ব্যাটিং সব সময় তার বোলিংকে আড়াল করে রাখত।

৩৯৮ ম্যাচে ৩৯৫ উইকেট তার ঝুলিতে জমা হয়েছে। ২০১৩ সালের ১৪ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাত্র ১২ রানে তিনি ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। এটিই ছিল আফ্রিদির ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুবাইয়ে ২০০৯ সালে একবার ৬ উইকেটও নিয়েছেন। এছাড়া ক্যারিয়ারে ৭ বার তিনি ৫টি করে উইকেট নিয়েছেন ইনিংসে। পাকিস্তানি এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডারের একটাই দুঃখ, তিনি বিশ্বকাপ জিততে পারেননি।


আপনার মন্তব্য