বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

টেক জায়ান্টদের অবিশ্বাস্য উত্থান

সা ই ফ ই ম ন

টেক জায়ান্টদের অবিশ্বাস্য উত্থান

প্রযুক্তির জয়গান চলছে বিশ্বজুড়েই। জীবন সহজ করতে নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো। বিশ্বব্যাপী এখন শীর্ষে রয়েছে প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলোই। এরাই বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। নতুন নতুন বাজার তৈরি করে ব্যবসায়িক দিক থেকেও সফলতা পেয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুক এক দশমিক একুশ ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের প্রতিষ্ঠানের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।  বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলো নিয়েই আজকের রকমারি-

 

সার্চ ইঞ্জিন থেকে টেক জায়ান্ট গুগল

১৬৮২ বিলিয়ন ডলার

গুগল লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ও পণ্যে বিশেষায়িত একটি বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির কোম্পানিটি সার্চ ইঞ্জিন থেকে পরে ইন্টারনেট ও টেক জায়ান্টে পরিণত হয়েছে। অনলাইন বিজ্ঞাপন সেবা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের জন্যও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি ইন্টারনেটভিত্তিক বেশ কিছু সেবা ও পণ্য উন্নয়ন এবং হোস্ট করে। সাম্প্রতিক সময়ে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আর সর্বশেষ গুগল গ্লাস চমক জাগিয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির ছাত্র থাকাকালীন ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন ১৯৯৮ সালে গুগল নির্মাণ করেন। গুগলের ১৪ শতাংশ শেয়ার তাদের এবং বিশেষ সুপারভোটিং ক্ষমতার মাধ্যমে ৫৬ শতাংশ  স্টেকহোল্ডারকে নিয়ন্ত্রণ করে।

 

সেরা ব্র্যান্ড হিসেবেই বিশ্বে পরিচিত মাইক্রোসফট

৩০১ বিলিয়ন ডলার

মাইক্রোসফটের সম্পদের পরিমাণ ৩০১ বিলিয়ন ডলার প্রায়। বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠানটি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত কম্পিউটার ও প্রযুক্তি ডিভাইসের সফটওয়্যার তৈরি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের রেডমন্ড শহরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যারের মধ্যে রয়েছে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং মাইক্রোসফট অফিস। ডেভেলপারদের জন্য মাইক্রোসফট ভিজুয়াল স্টুডিও এবং মাইক্রোসফট এসকিউএল সার্ভার বেশ জনপ্রিয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যেকটি সফটওয়্যারই ডেস্কটপ কম্পিউটার বাজারে প্রায় সর্বব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে।  এ ছাড়াও মাইক্রোসফট এমএসএনবিসি কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, এমএসএন ইন্টারনেট পোর্টালের মালিক।

 

ইয়াহুকে বলা হয় ইন্টারনেট শিল্পের অগ্রদূত

৩৬ বিলিয়ন ডলার

একটা সময় ছিল যখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইয়াহু ছিল ইন্টারনেট শিল্পের অগ্রদূত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ইয়াহু তার জৌলুস হারিয়েছে। তবুও প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এখন নতুন করে আবার প্রতিষ্ঠানটি আলোচনায় এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানিভেল শহরে এর প্রধান কার্যালয়। ডেভিড ফিলো ও জেরি ইয়াং ইয়াহুর প্রতিষ্ঠাতা। ইয়াহুর রয়েছে ওয়েবসাইট, সার্চ ইঞ্জিন, ইয়াহু ডিকশনারি, ইয়াহু মেইল, ইয়াহু নিউজ, ইয়াহু গ্রুপ, ইয়াহু এন্সার, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, অনলাইন ম্যাপ, ইয়াহু ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া সেবাসহ নানারকম  ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা।  ইয়াহু বিশ্বের অন্যতম সেরা ওয়েবসাইট। ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসে ইয়াহু চালু হলেও ইনকরপোরেটেড হয় ১৯৯৫ সালের ১ মার্চ।

 

নব্বইয়ের দশক থেকে ইনটেলের কম্পিউটার জগৎ

১৫৩.০৯ বিলিয়ন ডলার

আমেরিকান বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানি ইনটেল প্রযুক্তি খাতের আরেক জায়ান্ট। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। এটি মাইক্রো প্রসেসরের এক্স৮৬ সিরিজের আবিষ্কারক; যা বেশির ভাগ ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়। ইনটেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালের ১৮ জুলাই। কম্পিউটার প্রসেসর তৈরির পাশাপাশি মাদারবোর্ড, চিপসেট, নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কন্ট্রোলার, ইন্ট্রিগ্রেটেড সার্কিট, ফ্ল্যাস মেমোরি, গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি প্রস্তুত করে কোম্পানিটি। ইনটেল ছিল প্রথমদিকের স্ট্যাটিক র‌্যাম এবং ডায়নামিক র‌্যামের স্মৃতির উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান। এটাই তাদের ব্যবসাকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পরিচিতির মাধ্যম ছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম বাণিজ্যিক মাইক্রো প্রসেসর চিপ বানায় ১৯৭১ সালে। প্রতিষ্ঠানটি নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার শিল্পের চাহিদা পূরণ করে সাফল্যের সঙ্গে।

 

অ্যামাজন ডট কম দিয়েই বিশ্বের শীর্ষ ধনী

১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার

অ্যামাজন ডট কম মার্কিন অনলাইনভিত্তিক বাণিজ্য কোম্পানি। এর মোট সম্পদের পরিমাণ ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর সদর দফতর ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে। এর প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস বিশ্বে বর্তমানে শীর্ষ ধনী। ঝুঁকি নিয়ে সফল হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তিনি। তিনি এখন ওয়াশিংটন পোস্টেরও বর্তমান মালিক। তার ব্যবসায়িক সফলতার কারণে তিনি পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন। অ্যামাজন ডট কম একটি অনলাইন বইয়ের দোকান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। পরে বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিভিডি, ভিএইচএস, সিডি, ভিডিও এবং এমপিথ্রি ডাউনলোড/স্ট্রিমিং, সফটওয়্যার, ভিডিও গেম, ইলেকট্রনিক্স, পোশাক, আসবাবপত্র, খাবার, খেলনা এবং গয়না ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও বিক্রি করা শুরু করে। তারা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম গোটা বিশ্বে প্রসারিত করে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, জাপান, চীন, ভারত ও মেক্সিকোতে অ্যামাজনের পৃথক খুচরা ওয়েবসাইট রয়েছে।

 

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের তৈরি স্ন্যাপচ্যাট

৫ বিলিয়ন ডলার

পাঁচ বিলিয়ন ডলার সম্পদের প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপচ্যাট হলো একটি ছবির মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান এবং মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক মোবাইল অ্যাপলিকেশন। এর প্রতিষ্ঠাতারা হলেন ইভান স্পিজেল, ববি মার্ফি এবং র‌্যাগি ব্রাউন। এই তিনজন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। ছাত্র অবস্থা থেকেই প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা করেন তারা। পরে স্ন্যাপ ইনকরপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। যার মাধ্যমে আবির্ভাব ঘটে বিশ্বখ্যাত স্ন্যাপচ্যাটের। এর মাধ্যমে ছবি এবং বার্তাগুলো প্রবেশযোগ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত খুব কম সময়ের জন্য আওতাধীন থাকে। বর্তমানে অ্যাপটি কিছু পরিবর্তন এনেছে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে ছবি আদান-প্রদানে একটু ভিন্ন পথ অনুসরণ করছে স্ন্যাপচ্যাট। যাতে ২৪ ঘণ্টায় ঘটা কনটেন্টগুলোর সমাহার ‘স্টোরিস’ নামে এসেছে।  সামাজিক মাধ্যমের ইতিহাসে একটি অনন্য অবস্থানে রয়েছে স্ন্যাপচ্যাট।

 

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নিয়ে আইবিএম

১৫৬ বিলিয়ন ডলার

আইবিএম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এটির মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫৬ বিলিয়ন ডলার। আইবিএম হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার প্রস্তুত করে থাকে।  প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড মূল্য হচ্ছে ৪ হাজার ৮৮০ কোটি ডলার। আইবিএম মেইনফ্রেম কম্পিউটার থেকে ন্যানোটেকনোলজির জন্য কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, মিডলওয়্যার ও কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরি, বাজারজাতকরণ এবং হোস্টিং কনসাল্টিং সেবা প্রদান করে। ২৫ বছর ধরে আইবিএম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক প্যাটেন্টের অধিকারী আইবিএম গবেষণা সংগঠন হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। আইবিএমের আবিষ্কারগুলো হলো- অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম), পিসি, ফ্লপি ডিস্ক, হার্ডডিস্ক ড্রাইভ, ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ কার্ড, রিলেশনাল ডাটাবেজ, এসকিউএল প্রোগ্রামিং ভাষা, ইউপিসি বারকোড এবং ডায়নামিক র‌্যানডম এক্সেস মেমোরি।

 

এখন দুই ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান অ্যাপল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত টেক জায়ান্ট অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ এখন ২.০৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ব্যক্তিগত গ্যারেজ থেকে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার নির্মাণকারী। তবে শুরুতে প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল অ্যাপল কম্পিউটার ইনকরপোরেশন। স্টিভ জবসের এই প্রতিষ্ঠানটি পারসোনাল কম্পিউটার তৈরি করে প্রথমদিকে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ম্যাকিনটোস কম্পিউটার তৈরির মাধ্যমে এটি বেশি পরিচিতি লাভ করে। আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্মার্টফোন আইফোন তৈরি করে গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম আইওএস কোটি কোটি মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে।  আইফোনের পাশাপাশি আইপড ও আইপ্যাডও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

১.২১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান ফেসবুক

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েবসাইট এই ফেসবুক। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলি হালনাগাদ ও আদান-প্রদান করতে পারেন এই ফেসবুকের মাধ্যমে। গোটা বিশ্বের চিত্রই ফুটে ওঠে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির মোট সম্পদের পরিমাণ ১.২১ ট্রিলিয়ন ডলার। ব্যবহারকারীরা শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চলভিত্তিক বা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন এই ফেসবুকের মাধ্যমে। মার্ক জুকারবার্গ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার রুমমেটদের নিয়ে যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক নির্মাণ করেন। ওয়েবসাইটটির ব্যবহার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন গোটা বিশ্বে ফেসবুক  কোটি কোটি মানুষের কাছে জনপ্রিয়।