Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৪
সরকার দুর্নীতি দমনে খুব বেশি এগোতে পারেনি : অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের আইন করেও দুর্নীতি কমছে না। দুর্নীতি রোধ করতে হলে শতভাগ সরকারি কেনাকাটাকে ই-টেন্ডারিংয়ের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। গতকাল হোটেল সোনারগাঁওয়ে সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি) আয়োজিত ‘বৈষম্য ও দারিদ্র্য নিরসনে বাজেট ও অন্যান্য নীতিকাঠামোর ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাভোগীদের নির্ভুল ডাটাবেজ রয়েছে সরকারের কাছে। ফলে কেউ কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিতে পারবে না। শুধু তা-ই নয়, প্রত্যেক মানুষের রেকর্ড সরকারের হাতে রয়েছে। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষায় অচিন্তনীয় সাফল্য এসেছে। তবে সরকার-নির্ধারিত হারের চেয়ে যারা কম পরিমাণে ভাতা দিয়ে থাকেন, তারা নিশ্চয়ই এটা চুরি করেন। এ জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিদের খেয়াল রাখতে হবে প্রশাসনের কোথাও কোনো সমস্যা আছে কি না। অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের বৈষম্য ও দারিদ্র্য নিরসনে বাজেটে গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যকার বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি রংপুর অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে। চর ও পর্বতাঞ্চলে সব ধরনের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। তারা বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের সফলতা আনতে হলে সরকারকে দেশের মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনে মনোযোগী হতে হবে। জাতীয় সংলাপে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং মানবাধিকার সম্পর্কিত সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের চেয়ারপারসন ডা. দীপু মনি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এপিপিজির সেক্রেটারি জেনারেল শিশির শীল। সূচনা বক্তব্য রাখেন অক্সফামের বাংলাদেশ প্রধান স্নেহাল ভি সোনেজি। প্যানেল আলোচক ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, সিনিয়র সচিব ড. এম শামসুল আলম, সিনিয়র সচিব (অর্থ বিভাগ) মাহবুব আহমেদ, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদ এবং একাত্তর মিডিয়ার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী সামিয়া জামান। আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের নিউইয়র্কে নিয়োজিত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি, বিরোধীদলীয় হুইপ ফখরুল ইমাম, সংসদ সদস্য কাজী রোজী, ফিরোজা বেগম চিনু প্রমুখ। মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জাতীয় আয়, সামাজিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের ২৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী দরিদ্র। ২০১৮ সালের মধ্যে এ হার ১৮ দশমিক ১২ শতাংশে নেমে আসবে। এ জন্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের জন্য ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং দুর্গম ও চরাঞ্চলে সব ধরনের আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ৫০ লাখ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১২ লাখ লোক কর দেয়। এ বছর নতুন তিন লাখ করদাতাকে আয়করের আওতায় আনা হবে। আর শিগগিরই করদাতার সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া ২০ হাজার মানুষকে চিহ্নিত করা হবে, যারা প্রতিবছর এক কোটি টাকা করে আয়কর দিতে সক্ষম। আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ বছর কৃষকের এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে ৭৫০ টাকা। আর এক মণ ধান বিক্রি করতে পারছে মাত্র ৪৫০ টাকায়। একসময় আমাদের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। তা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন গ্রামের মানুমের প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে ধান। অথচ তারা ধানের দাম পান না। এ জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। উৎপাদন খরচ কমিয়ে ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। ’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের দারিদ্র্যের যে কাঠামো রয়েছে, তা-ই দারিদ্র্য নিরসনের প্রধান সমস্যা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষ ধনী থেকে দরিদ্রে পরিণত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা মানুষকেও দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন ও ইন্টারনেট প্রাপ্তির অধিকার আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘২০১৫ সালের মধ্যে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) অর্জন করব। তা অনেকাংশে অর্জন সম্ভব। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow