Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৯
তুকা, জয়া আর উরজের গল্প
জাহিদুল হক
তুকা, জয়া আর উরজের গল্প

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি ঘেঁষা এলাকার একটি গাছের নিচে তুকা ঘাসের ওপর বসে আছে। ওর পাশে জয়া।

তুকা ইউনিভার্সিটির মুহসীন হলের ছাত্র। আর জয়া রোকেয়া হলের। নির্জন দুপুরের ভ্যাপসা গরমেও গাছের ছায়ায় কিছুটা স্বস্তি আর শান্তির স্পর্শ পাচ্ছিল তুকা আর জয়া দুজনই।

তুকার মনে এখন একটা অস্বস্তির কাঁটা বিঁধছে। জয়াকে আজও কথাটা বলবে ভেবেও বলতে পারছে না। কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছে না কথাটা মুখ ফুটে বলতে। বেশ কিছুদিন ধরে তুকা শুধু মাঝে মাঝে জয়াকে একটি সংলাপের পুনরাবৃত্তি করে বলছে, জয়া, তোমাকে একটি কথা বলবো।

জয়া হেসে বলে, কী কথা? বলো।

তুকা বলে, বলবো।

যৌবন মাতাল বাতাসের মতো। সেই মাতাল বাতাসের মধ্যে তুকা ও জয়ার হাসি সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ভেঙে ভেঙে পড়ে। দুজনেই প্রাণ খুলে হাসে। দুজনই দুজনার স্পর্শের মধ্যে উথাল-পাথাল করতে থাকে। তারপর এক সময় আর সেই বলবার কথাটি আর বলা হয় না তুকার। এই কথা সেই কথার ভিতর দিয়ে তারা দুজনই অন্য হাজার কথার ভিড়ে হারিয়ে যেতে থাকে। যৌবনের কথা অনেক। যৌবনের কথার আর শেষ হয় না।

একটা সিগারেট ধরিয়ে জোরে একটা টান মারে তুকা। ধোঁয়া ছাড়ে বাতাসের মধ্যে। মুহূর্তে বাতাস গিলে ফেলে ধোঁয়ার কুণ্ডুলি।

: দিবি এক টান। তুকা জয়াকে বলে। হাসে।

: না, বাবা, কাশি পায়। তুই খা।

: খাচ্ছি তো। চানাচুরঅলাকে ডাকি?

: ডাক। কিন্তু সিগারেট ছেড়ে দে তুকা।

: দেবো। তোকে একটা কথা বলি, জয়া?

দুর শালা! জয়া এবার হঠাৎ গম্ভীর হয়ে ওঠে। আচ্ছা, তুকা, তুমি কিন্তু অনেকদিন ধরেই ‘তোমাকে একটি কথা বলবো’, ‘তোমাকে একটি কথা বলবো’ বলে কলের গানের ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছো। কী কথা, তুকা? আচ্ছা কোনো খারাপ কথা না তো। আজকে কিন্তু বলতেই হবে। এই তুকা, বুঝতে পারছো কী বললাম? আমি কিন্তু আজ তোমাকে ছাড়ছি না। এই তুকা, কাল কিন্তু ‘টুয়েন্টি ফার্স্ট ফিল্ম’-এর ফেস্টিবেল শুরু। দুপুরে দুজনে মিলে চাইনিজ খাবো। এটা আমি খাওয়াবো। আর তুমি কিনবে সোফিয়া লরেনের ফিল্ম-এর টিকিট। এই চানাচুর, এই চানাচুর...

তুকা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। কীভাবে সে বলবে এই কথা। জয়া, কষ্ট পাবে, হয়তো কাঁদবে। দেখা হলেও কোনোদিন কথা বলবে না। তুকা একটু বিষণ্ন হয়।

তুকা তারপরও বললো, বলি?

: হাসে জয়া।

: তোমাকে যে একটা কথা বলবো বলেছিলাম!

: বলো। সোফিয়া লোরেনের ছবিটার নাম যেন কী?

: সানফ্লাওয়ার।

: না। ‘টু উইমেন’ না কী যেন নাম!

: যাই হোক, দেখবো। সোফিয়া লোরেন আমারও প্রিয়।

: অদ্ভুত ফিগার। ভারি সুন্দর।

: হ্যাঁ। যেন কঙ্কালের ওপরে পেলব চামড়া বসানো।

: ঠিক বলেছো। হাসে জয়া।

: তোমার মতো। হাসে তুকা।

: পাগল নাকি। কোথায় সোফিয়া আর কোথায় খোফিয়া।

: বাহ্, ভালো মিল দিয়েছো তো। খোফিয়া অর্থ জানো?

: ধুর, জেনে বলেছি নাকি? মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো।

: তবু এটা অর্থ বহন করা একটা শব্দ। বোধহয় উর্দু।

: উর্দু?

: হ্যাঁ।

: খোফিয়া অর্থ কী?

: বলতে পারবো না। মনে হয় ‘গুপ্ত’, গোপন।

: বাহ্, সুন্দর তো। এই আমাকে তুমি ফোফিয়া বলে ডাকবে।

: ডাকবো। খোফিয়া। এই খোফিয়া।

: হুঁ। আবার বলো।

: এই গুপ্ত, এই গোপন।

: সত্যিকার যা কিছু তা-ই গোপন। না?

: ভালোবাসাকে কি আমরা দেখি?

: না। সে বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।

: ফুলের গন্ধকে কি আমরা দেখতে পাই?

: না। সে ফুলের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।

: আমরা স্রষ্টাকেও দেখি না।

: তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে লুকিয়ে থাকেন।

: তোমার জন্য আমার যা কিছু আমি তোমার বুকে লুকিয়ে রেখেছি।

: আমিও। হাসে তুকা।

জয়াও হাসে। জয়া আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু কেমন যেন ম্লান হয়ে ওঠে তুকা। তুকা জয়ার চোখ থেকে তার দুটো চোখকে সরিয়ে নেয় দূর আকাশের দিকে। গাছের ডালপাতার ফাঁক দিয়ে এক মুহূর্ত আকাশটাকে শূন্য মনে হয় তুকার কাছে। অন্যদিকে তুকার দৃষ্টি অনুসরণ করে জয়াও তাকায় দূর আকাশের দিকে। জয়ার কাছে আকাশটাকে আরও ঘন নীল বলে মনে হলো।

২.

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জয়ার সঙ্গে তুকার এক নির্জন দুপুর কাটাবার পর দিন ওরা দুজন ‘টুয়েন্টি ফার্স্ট ফিল্ম’-এর ফেস্টিভেলে সোফিয়া লরেন অভিনীত একটি মুভি দেখছিল। জয়ার সঙ্গে তুকার এই দিনটাও চমৎকার কেটেছিল। তারা অনেক বকবক করেছে, অজস্র হেসেছে সারা দুপুর। তারা কোল্ড ড্রিঙ্কস খেয়েছে, চানাচুর আর চিপস খেয়েছে, তুকা সিগারেট টেনেছে, জয়া তুকাকে সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে এবং আরও কত কী! জয়া আর তুকা হাতে হাত রেখেছে এবং তারা প্রাণে প্রাণ রেখে উদযাপন করেছে আরও কিছু নতুন সময়। কিন্তু এই দিন মুভি দেখার জন্য হোক কিংবা অন্য কারণেই হোক তুকা তার বিশেষ সংলাপটি উচ্চারণ করার কথা বোধ হয় ভুলে গিয়েছিল। ‘আমি তোমাকে একটি কথা বলবো’ বাক্যটি তুকার মুখ থেকে একবারও বের হয়নি। আর এই কথাটি কী কথা সেটা নিয়ে জয়াও খুব একটা মাথা কখনোই ঘামায়নি। কখনো কখনো এক আধটু সিরিয়াস হলেও পর মুহূর্তেই জয়া প্রসঙ্গান্তরে চলে গেছে অনায়াসে।

৩.

জয়ার সঙ্গে তুকার মুভি দেখার পর দিন। তুকা শামসুন নাহার হলের সামনে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। ভ্যাপসা অপরাহ্ন। বাতাস নেই। তুকা সিগারেটের ধোঁয়ায় সুন্দর কুণ্ডুলি তৈরি করতে পারে। বাতাস না থাকার জন্য রিংগুলো অনেকক্ষণ ধরে শূন্যে ভাসতে ভাসতে তবেই মিলিয়ে যাচ্ছিল। তুকার পরনে জিন্সের ট্রাউজার এবং শার্ট। উরজ এখন বেরুবে।

উরজ হল থেকে বেরিয়ে এসে তুকার মুখোমুখি দাঁড়ালো। তুকা হাসলো।

: এই, ছাড়বিনা তুই সিগারেট টানা? উরজ বললো।

: কী করে ছাড়বো? তুকা উরজের মুখের ওপর ধোঁয়া ছাড়লো।

: কেন? উরজ হাত নেড়ে ধোঁয়া তাড়ালো।

: তুইও তো টানিস মাঝে মধ্যে।

: তাও কথা। তবে আমি তো শখ করে করি।

: খাবি এখন? তুকা হেসে অর্ধপোড়া সিগারেটা আগিয়ে দিল।

: দুর, তোর উচ্ছিষ্ট তুই খা। নতুন একটা দে।

তুকা হাসলো। একটি গভীর দৃষ্টি প্রসারিত করলো উরজের মুখের ওপর, চোখের ওপর। উরজকে খুব অদ্ভুত লাগা শুরু করেছে তুকার। কী আছে উরজের মধ্যে যা আর কারোর মধ্যে নেই? তুকা ভাবে। অবশ্য প্রথম প্রথম পরিচয়ের পর যখন উরজ তার দিকে ঘেঁষা শুরু করেছিল তখন খুব একটা পাত্তা দেয়নি তুকা। একদিন ঘোর বৃষ্টির মধ্যে সায়েন্স ফ্যাকাল্টির প্রায় নির্জন হয়ে ওঠা বারান্দায় তুকা হঠাৎ করে খুঁজে পেল সত্যিকার উরজকে। বিষণ্ন, ম্লান আর সুন্দর। সাধারণত সুন্দর মেয়েরা সুন্দরই। ওরা বিষণ্ন হয় না। ওরা ম্লান হয় না। উরজ একই সময় এর সবকটা। আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল তুকা। যদিও তুকা জানে তুকা বিষণ্ন নয়, ম্লান নয়, ব্যথা কিংবা বেদনার কেউ নয় সে। তুকার বুকের মধ্যে মাঝেমধ্যে ব্যথা হয় বটে। কিন্তু সেই ব্যথার চাপ শেষ পর্যন্ত তার সিগারেটের ধোঁয়ার রিং-এর মতোই বাতাসে মিলিয়ে যায়। তুকার ম্লান মুখ মুহূর্তের মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

: তুকা উরজকে বললো, উচ্ছিষ্ট না, আমার ঠোঁট ছুঁয়েছে সে।

খিলখিল করে হেসে ওঠে উরজ।

: তাহলে দে। কিন্তু শেষই তো হয়ে গেছে।

: যা কিছু মধুর তাই দ্রুত ফুরিয়ে যায়।

তুকা আর উরজ হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর চলে যায়। তখন আকাশটা খুব উজ্জ্বল হতে থাকে। গোধূলি রঙিন হতে শুরু করে। ওরা একটি সুন্দর রেস্টুরেন্ট দেখতে পায়। ওরা কিছু গাছপালার দুলে ওঠা দেখতে পায়। আজকের বিকেলের এই শহরটাকে যথেষ্ট পাতলা বলে মনে হতে থাকলো। এটা হয়। মন ভালো থাকলে প্রকৃতি ও শহরও ভালো হতে শুরু করে। শহর যদি সুন্দর হয়, প্রকৃতি যদি অনুকূলে থাকে তখন মন উত্ফুল্ল হতে শুরু করেছে। হঠাৎ করে শহরটার ভিড়ভাট্টা কোথায় যেন হারিয়ে গেল।

রেস্টুরেন্টের একটি নির্জন কোনায় তুকা আর উরজ বসে আছে। খাবারের অর্ডার দেওয়া হয়েছে।

উরজ এবারে হঠাৎ করে সিরিয়াস হয়ে উঠলো।

উরজ বললো, তুকা!

: বলো।

: কয়েকদিন ধরে তুমি কী একটা কথা বলবো বলে বলছো। কিন্তু বলছো না। আজকে বলতেই হবে। কী কথা, তুকা? সিরিয়াস কোনো কথা?

: হ্যাঁ, সিরিয়াসই বটে। কিন্তু সিরিয়াসটা কী? খুবই গুরুত্বপূর্ণ?

: বলো তাহলে।

: বলবো, আজ না।

: কী আশ্চর্য, তুকা। আমি খুব চাপ বোধ করছি।

: না, চাপ তৈরি হবার মতো কিছু না।

: তারপরও চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘুমুতে যাওয়ার আগে।

: যাহ! আচ্ছা উরজ। তুমি কি এখনো তোমার হলের পেছনের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াও। অনেক রাত্রিতে? পৃথিবী ঘুমিয়ে গেলে? পৃথিবী কি ঘুমিয়ে যায়? তখন?

: হ্যাঁ। তখন তোমার এই না-বলা কথাটি আমার মধ্যে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। তুমি আজ আমাকে বলো, কী সেই কথা? তুকা। রাত্রির নির্জন ব্যালকনিতে আমি একজন উজ্জ্বল নারী হয়ে উঠতে চাই, তোমার জন্য। তুমি তখন আমাকে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দাও।

: আর দেবো না, বলবো।

: কবে বলবে?

: তুমি যখন রাতের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াও, উরজ তখন আমি কোথায় থাকি? আমি থাকি ঠিক নিচে। শামসুন নাহার হলের পাঁচিল ডিঙিয়ে ঢুকে যাই। গোপনে। দারোয়ান আমাকে দেখতে পায় না, প্রভোস্ট আমাকে দেখতে পায় না। শুধু চাঁদ আমাকে দেখতে পায় সেই এনভিয়াস মুন।

: মাঝে মাঝে তুমি খুব গভীর হয়ে উঠতে পারো। তুমি সারাক্ষণই এতো চঞ্চল আর ছলকে পড়া মানুষ। মেলাতেও পারি না।

: আচ্ছা উরজ, তখন কি তুমি আমার বিস্ময়ভরা ফিসফিস করে ওঠা কথাগুলো শুনতে পাও? ইট ইজ দ্য ইস্ট, অ্যান্ড জুলিয়েট ইজ দ্য সান। এরাইজ ফেয়ার সান অ্যান্ড কিল দ্য এনভিয়াস মুন। শুনতে পাও? তুমি তো ইংরেজি পড়ো।

উরজ তুকার কথায় আর ভঙ্গিতে খিলখিল করে হেসে ওঠে। তারপর হাসি থামিয়ে হাসিও বিস্ময়ভরা দুটো চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে তুকার চোখের দিকে। কোনো কথা বলে না।

তুকাও কোনো কথা বলে না। দুজনের মধ্যেই একটা নিশ্চুপতা। এখন দুজনই অনুভব করছে এবং শুনতে পারছে কিছু নিঃশব্দ কথার শব্দকে। এই শব্দগুলো কী। সেটা তুকা ভাবে। এই শব্দগুলো তাহলে কী, উরজও সেই কথা ভাবে।

উরজ আবার গম্ভীর হয়ে যায়। তার গম্ভীর হয়ে ওঠা মুখের দিকে তাকিয়ে তুকাও খানিকটা উসখুস করে ওঠে।

: কী, বলবে না?

: কী বলবো?

: আশ্চর্য, তুমিই তো কয়েকদিন ধরে কী কথা বলবে বলে ছটফট করছো। এই তুকা, কোনো খারাপ কথা না তো। কোনো দুঃসংবাদ নয়, তো?

: না। তবে এ জীবনে কি মানুষের জন্য কোনো সুসংবাদ আছে?

: তুকা!

: কী?

: দার্শনিকতা রাখো। তুই খুব শয়তান। তুই দুষ্টু, তুকা।

: তাই? হাসে তুকা। আবার মুখখানা ওর ম্লানও হয়ে ওঠে।

: তাহলে বল। এই তুকা বল।

তারপর রেস্টুরেন্টে তুকা আর উরজের টেবিলে একটি নিস্তব্ধতা নামে। সেই নিস্তব্ধতার মধ্যে কাঁটা চামচের টং টাং শব্দ ওঠে। সূর্য ওঠে। এনভিয়াস মুন ওঠে। আরও কতো কী যে, উঠে আসে। বৃষ্টি ওঠে। সমুদ্র ওঠে। আশ্চর্য নদীসমূহের ধসগুলো ওঠে।

৪.

তারপর দিন। অপরাহ্ন। গোধূলি তখন নির্মিলিত হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে পশ্চিম আকাশে গাঢ় গোলাপি রংগুলোর অপরূপ মৌনতা। তুকা এখন টিচার্স-স্টুডেন্ট সেন্টারের লাগোয়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গাছের নিচে একা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। অনেক একাকী মানুষ আর অনেক যুগলকে বসে থাকতে আর পায়চারি করতে দেখে তুকা। তুকা এক সময় হাঁটতে হাঁটতে টিএসসি ছাড়িয়ে শামসুন নাহার হলের সামনে এসে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে তুকা রোকেয়া হলের দিকে হাঁটতে থাকে।

এখন দুটো প্রকৃতি ছড়িয়ে আছে চারদিকে। একটি প্রকৃতিতে গোধূলি গাঢ় হচ্ছে ধীরে ধীরে। গোধূলি সাধারণত একটু বিধুর। কিন্তু আজকের এই গোধূলিটা খুব উজ্জ্বল। গোধূলিটা যেন নেচে উঠতে চাইছে। গোধূলি কি নাচে? গোধূলি তো কেমন মলিন হতে থাকে তার রঙিন ছড়ানো আঁচলটাকে গোটাতে গোটাতে। কিন্তু এখন তুকার মনের ভিতরে এবং প্রকৃতির মধ্যে একটি যে গোধূলি দৃশ্যমান হয়ে আছে সেটা খুবই বিষণ্ন, খুবই মলিন। তুকা কী করবে এখন সেটা সে নিজেই ভাবতে পারছে না। এতো কিসিমের গোধূলি আছে পৃথিবীতে আকাশে আর মনে, সেটা, ধুর ছাই, তুকা কি এর আগে আর কখনো জেনেছিল। তুকা ভাবলো, বরং এখন আর একবার ভোর হলেই হতো। কলরব করে উঠতো পাখিরা!

এই পাতার আরো খবর
up-arrow