১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৪২

বগুড়ায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম

বগুড়ায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বগুড়া সদর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ফাঁপোড় ইউনিয়নে সমলয় পদ্ধতিতে ৫০ একর জমিতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে টেকসই যান্ত্রিকীকরণের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার একটি হচ্ছে সমবায়ভিত্তিক সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতি। যেখানে একটি মাঠে বা মাঠের একটি অংশের সকল কৃষক সবাই মিলে একসঙ্গে একই জাতের ধান একই সময়ে যন্ত্রের মাধ্যমে রোপণ করবেন। এ পদ্ধতিতে বীজতলা থেকে চারা তোলা, চারা রোপণ ও ধান কর্তন সব প্রক্রিয়া যন্ত্রের সাহায্যে স্বল্প সময়ে সম্পাদন করা হবে। এতে করে কম খরচে বেশি ফলন হবে।

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক মতলুবর রহমান।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো চাষ শুরু হয়েছে বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোর ইউনিয়নে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে বেশি ফলন ফলানো যাবে। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৬৩ জন কৃষকের ১৫০ বিঘা জমিতে একই জাতের বোরো হাইব্রিড ধান এরাইজ এ জেড ৬৪৫৩ একই সময়ে আবাদ করা যাবে। কৃষকরা যন্ত্রের সাহায্যে একসঙ্গে সমবায় ভিত্তিতে বপন, রোপণ ও কর্তন করবেন এই ধান। যে কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে সমলয় চাষাবাদ। একর প্রতি কৃষকরা পেয়েছেন ৯ কেজি হাইব্রিড ধান বীজ, ৯০ কেজি ইউরিয়া, ডিএপি ৪০ কেজি ও ৫০ কেজি এমওপি।

ফসল কাটার সময় শ্রমিক সংকট এখন বাংলাদেশে নিত্য বছরের সমস্যা। শিল্পায়নের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক দশক ধরে মানুষ শহরমুখী। তাই প্রতিনিয়ত কমছে কৃষি শ্রমিক। এর একটা সমাধান কৃষি যান্ত্রিকীকরণ। আধুনিক কৃষি যন্ত্রগুলো অল্প সময়ে অনেক বেশি কাজ করে। সমলয়ে ধান আবাদ করতে হলে চারা তৈরি করতে হবে ট্রেতে। ট্রেতে চারা উৎপাদনে জমির অপচয় কম হয়। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। কৃষক তার ফসল একত্রে মাঠ থেকে ঘরে তুলতে পারেন। কারণ একসঙ্গে রোপণ করায় সব ধান পাকবে একই সময়ে। তখন ধান কাটার মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কর্তন ও মাড়াই করা যাবে। এসব কারণে সমলয় পদ্ধতিতে যন্ত্রের ব্যবহার সহজতর ও বৃদ্ধি হবে।

জেলা কৃসি সম্প্রসাধরণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক মতলুবর রহমান জানান, এই পদ্ধতিতে ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা বেড়ে ওঠে। পরে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে আমাদের দেশের কৃষকরা অভিযোগ করেন যে ধান চাষ লাভজনক নয়। এটিকে লাভজনক করার অন্যতম উপায় হলো উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা। আর উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করতে হলে সমলয় চাষের বিকল্প নেই। প্রচলিত পদ্ধতিতে এক হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে এলাকাভেদে খরচ হয় প্রায় ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা, যেখানে রোপণ যন্ত্র ব্যবহার করলে ব্যয় হয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

সর্বশেষ খবর