১৯৭১ সালের জুলাইয়ের ১ম সপ্তাহে ভারতের দেরাদুনে প্রশিক্ষণে যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ। প্রশিক্ষণ শেষে আরও যোদ্ধাসহ দেশে ফিরে আসলেন তিনি। এসেই সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতিতে যুদ্ধ করেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। এভাবেই শুভসংঘের বন্ধুদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ-এর পটিয়া উপজেলা কমান্ডের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ পটিয়া শাখা আয়োজন করে এক বর্ণাঢ্য সম্মাননা অনুষ্ঠানের। পটিয়া স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা উপস্থিত সবার মাঝে দেশপ্রেম, গর্ব ও আবেগের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করে।
স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে বক্তারা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, ত্যাগ ও বীরত্বগাথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
এ সময় পটিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুল হাকিম রানা বলেন, “স্বাধীনতা দিবস আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই দিনে আমরা নতুন করে শপথ নেই-মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রানা মিত্র, বৃহত্তর চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি এস এম এ জুয়েলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পটিয়া শাখার সক্রিয় সদস্যরা-মেহেরাব, মো. সোলাইমান, ফাহিম, তানভীর, ফাহাদ, হাবীবুর রহমান, নাফিজ, তারেক, সুলতান, ফয়সাল, রাশেদুল্লাহ, আশিক, সাকিল, রাসেল, আরিফুর রহমান, সাইমুন, সাজ্জাদ, ফখরুল নাঈম, আমির খসরু, ঝিনুক, পারভীন জান্নাত, হুমাইরা জান্নাতসহ আরও অনেকে।
সম্মাননা প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “দেশকে স্বাধীন করার জন্য আমরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছি, তা ছিল আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু আজকের প্রজন্ম যখন আমাদের সম্মান জানায়, তখন মনে হয় আমাদের সেই ত্যাগ সার্থক হয়েছে।”
বৃহত্তর চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি এস. এম. এ জুয়েল বলেন, স্বাধীনতা দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়-এটি আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। এই চেতনা ধারণ করে সবাইকে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে। শেষে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
পটিয়া স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে এমন আয়োজন উপস্থিত সবার মনে গভীর ছাপ ফেলে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া