গাইবান্ধার এক অসহায় পরিবারের গল্প যেন প্রতিদিনের সংগ্রাম আর বেদনার প্রতিচ্ছবি। দারিদ্র্য আর সীমাবদ্ধতার মাঝে বেড়ে ওঠা ছোট্ট প্রতিবন্ধী শিশু জোবায়ের আলসারীর জীবন ছিল কষ্টে ঘেরা। শারীরিক অক্ষমতার কারণে নিজের মতো করে চলাফেরা করতে না পারা এই শিশুটিকে নিরাপদে রাখতেই প্রতিদিন কঠিন এক সিদ্ধান্ত নিতে হতো তার মাকে।
সংসারের দায় মেটাতে বাইরে যাওয়ার আগে সন্তানের নিরাপত্তার জন্য তাকে চেয়ারে বেঁধে রেখে যেতে হতো। এক মায়ের জন্য এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। বুকভরা যন্ত্রণা আর আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন কাজে যেতেন তিনি- যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় সবসময় তাড়া করত।
জোবায়েরের বাবা একজন রিকশাচালক। সীমিত আয়ে সংসারের নিত্য প্রয়োজন মেটাতেই যেখানে হিমশিম, সেখানে প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা ও চলাফেরার সুবিধা নিশ্চিত করা তাদের জন্য ছিল প্রায় অসম্ভব।
এমনই এক বাস্তবতায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ, গাইবান্ধা সদর উপজেলা শাখা। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জোবায়েরের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি হুইলচেয়ার।
এই হুইলচেয়ার যেন শুধু একটি উপহার নয়- এটি নতুন আশার আলো, স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ এবং একটি পরিবারের জীবনে স্বস্তির নিঃশ্বাস। মায়ের মনে এসেছে নিশ্চিন্ততা, আর শিশুটির জীবনে খুলেছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।
হুইলচেয়ার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. শের আলম ও মো. মুনজু মিয়া, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বসুন্ধরা শুভসংঘ গাইবান্ধা সদর উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা।
উপদেষ্টা মো. শের আলম বলেন, “সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়। আজ এই শিশুটির জীবনে যে পরিবর্তনের সূচনা হলো, তা আমাদের সবাইকে আরও বেশি মানবিক হতে অনুপ্রাণিত করবে।”
অন্যদিকে আবেগঘন কণ্ঠে জোবায়েরের মা জোসনা বেগম বলেন, “আমার ছেলেটাকে নিয়ে আমরা খুব কষ্টে ছিলাম। প্রতিদিন কাজে যাওয়ার আগে বুকটা ভেঙে যেত। আজ আপনারা যে হুইলচেয়ারটা দিলেন, এটা শুধু একটি জিনিস না- এটা আমার সন্তানের নিরাপত্তা, আমার মনের শান্তি।”
একটি ছোট উদ্যোগ, কিন্তু তার প্রভাব বিশাল। সহানুভূতি আর মানবিকতার ছোঁয়ায় বদলে যেতে পারে একটি জীবনের গল্প- গাইবান্ধার এই ঘটনাই তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ