তপ্ত রোদ, ঠিক মাথার ওপর। মহাব্যস্ত কৃষিশ্রমিকরা। ব্যস্ততা বাড়িয়ে দেয় হুট করে আসা ঝুমবৃষ্টি। জমি থেকে ধানগাছ কেটে আনার বদলে এবার বিছিয়ে রাখা খড়, সেদ্ধ করে রাখা ধানের দিকে নজর। বৃষ্টি শেষে এগিয়ে যাওয়া। কাজ শেষে ফেরার পথ ধরলেন শ্রমিকরা। ভাই একটু দাঁড়ান- ডাক দিতেই আট শ্রমিকের পথচলা থামল। আপনাদেরকে টুপি দিতে চাই- কথাটা শুনেই একসঙ্গে থামার মতো করে একযোগে হাসি। কেউ একজন বললেন, ‘এটা তো জনসেবা। ভালো হলো আমাদের।’
টুপি হাতে তুলে দিতেই মো. জয়নাল নামে এক শ্রমিক এক গাল হেসে বললেন, ‘থেঙ্ক ইউ।’ বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজন জেনে আবারও ধন্যবাদ জানান। পরিচয় জেনে নিজ থেকেই জয়নাল বলতে লাগলেন, পত্রিকা মাঝে মাঝে পড়া হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের কাজগুলো দেখি। অনেক ভালো লাগে তাদের কর্মসূচিগুলো।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বসুন্ধরা শুভসংঘ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে কৃষিশ্রমিকদের মাঝে টুপি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-আগরতলা সড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কোড্ডা ও দুবলা এলাকায় ২০ জনের মাঝে টুপি দেওয়া হয়।
কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি ও শুভসংঘের উপদেষ্টা বিশ্বজিৎ পাল বাবু কৃষিজমিতে ছুটে গিয়ে কৃষকদের হাতে টুপি তুলে দেন। কোড্ডা রেলগেট এলাকায় টুপি পেয়ে খুশি মো. হেলাল মিয়া নামে এক শ্রমিক বলেন, আমরা সুনামগঞ্জ উপজেলার ছাতক থেকে এসেছি ধানকাটার কাজ করতে। বসুন্ধরা আমাদের জন্য যে চিন্তাটা করেছে সেটাই তো অনেক বড় পাওনা। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
দুবলা এলাকায় টুপি বিতরণের সময় কথা হয় শ্রমিক মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, রোদ-বৃষ্টিতে আমাদের যে কষ্ট হয় সেটা এভাবে তো কেউ আগে কখনো ভাবেনি। টুপির জন্য শুধু নয়, আমাদের জন্য বসুন্ধরা যে চিন্তা করেছে সেটার জন্য কৃতজ্ঞতা।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি