কুমিল্লা শহরতলীর ছায়াবিতান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একটু বৃষ্টি নামলে স্কুলটির চারপাশ পানিতে ডুবে যায়। এই সমস্যা প্রায় এক দশক ধরে। এছাড়া স্কুলের খেলার মাঠ ও সীমানা দেয়াল নেই। এতে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়ছেন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে শহরতলীর দৌলতপুর এলাকায় ৩৩ শতক ভূমিতে ছায়াবিতান প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। অপরিকল্পিত আবাসন স্থাপনের কারণে স্কুল আঙিনা নিচু হয়ে যায়। এছাড়া অপ্রতুল যে কয়েকটি ড্রেন ছিলো সেগুলোও ভরাট হয়ে যায়। এতে অল্প বৃষ্টিতে এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটু পানি কোথাও কোমর পানি হয়ে যায়। এছাড়া স্কুলের খেলার মাঠ নেই। স্কুলের পেছনে নিচু জমি রয়েছে। সেটিতে পানি জমে ডোবা হয়ে গেছে। এটি ভরাট করা হলে খেলার মাঠের চাহিদা পূরণ হবে। এছাড়া স্কুলের কোন সীমানা প্রাচীর নেই। এতে স্কুলের জমি বেদখল হওয়ার আশংকা রয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাকসুদা আক্তার বলেন, জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। ফলে স্কুলে আমাদের দুই সেট ড্রেস আনতে হয়। কারণ ময়লা পানিতে ডুবে স্কুলে ঢুকতে হয়। আগে স্কুলে পানি ঢুকতো। এখন সামনে দেয়াল দেওয়ায় পানি ঢুকে না। ড্রেন সংস্কার করলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে। এছাড়া নিচু জমি ভরাট করলে খেলার মাঠের চাহিদা পূরণ হবে।
দৌলতপুর ছায়াবিতান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়েন। এছাড়া এখানের স্কুলটির খেলার মাঠ নেই। নিচু জমি রয়েছে ২০ শতকের মতো, এটি ভরাট করা হলে সেই সমস্যার সমাধান হবে।
আদর্শ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এখানে ড্রেনেজের সমস্যা প্রকট। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পড়তে হয়। এদিকে খেরার মাঠ ভরাটের জন্য আমরা আবেদন করেছি, বরাদ্দ পেলে সেটি ভরাট করা হবে। সীমানা দেওয়ালের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে সীমানা দেয়াল আরো আগেই করা যেতো।
কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, ছায়াবিতান স্কুল প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছি। সেখানে জলাবদ্ধতা ও মাঠের সমস্যা রয়েছে। আমরা নিজেদের সামর্থের মধ্যে সেখানে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করবো।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ