শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৪

উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভরসা এখনো বিমান

আবদুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভরসা এখনো বিমান

সড়কপথে যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশা আর রাজধানী ঢাকা থেকে দূরত্বের কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখন আকাশপথকেই বেছে নিয়েছেন। বাসের চেয়ে আকাশপথে ভাড়া বেশি হলেও প্রতিদিন সহস্রাধিক যাত্রী যাতায়াত করছেন বিমানে। আর বিমানের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রী বৃদ্ধির কারণে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে শিগগিরই নতুন নতুন রুটে বিমান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন খবরে যাত্রীরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

রংপুর বিভাগের মধ্যে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ আটটি জেলার যাত্রীদের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরে চারটি কোম্পানির দৈনিক ১৬টি বিমান ঢাকা-সৈয়দপুরে ওঠানামা করে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সকাল-বিকাল দুটি, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের চারটি, নভো এয়ারের ছয়টি ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চারটি। সাধারণ সময়ে ঢাকা-সৈয়দপুর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও রিজেন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ইউএস বাংলা ও নভো এয়ারে ২ হাজার ৭০০ টাকা। কিন্তু সাধারণ সময়ে যাত্রীর চাপ বেড়ে গেলে ৯ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে বিমান কর্তৃপক্ষ। একদিকে যাত্রীদের সুবিধা হলেও মাঝে মাঝে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয় যাত্রীদের। এ ছাড়া ঈদ ও অন্যান্য উৎসব মৌসুমে বিমান কর্তৃপক্ষ ক্যালেন্ডারের পাতা দেখে টিকিটের দাম বাড়িয়ে রাখে। নিয়ম রয়েছে, বিমানের টিকিট অগ্রিম ছয় মাস পর্যন্ত কাটতে পারবেন যাত্রীরা। কিন্তু আগে কাটতে গেলেও উৎসব মৌসুমের টিকিট পাওয়া যায় না। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও এর কোনো সমাধান নেই বললেই চলে। তবে টিকিটের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে কিছু বাড়লেও যাত্রীদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন অনেকে।

দীর্ঘদিন আগেও অতিরিক্ত দাম দিয়ে টিকিট কিনতে হয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের। ঠাকুরগাঁওয়ের নিয়মিত যাত্রী ইয়াকুব আলী, তোজাম্মেল হোসেন, ভুপেন চন্দ্র, সেকেন্দার আলীসহ অনেকে জানান, সাধারণ সময়ে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায় টিকিট পেলেও ঠাকুরগাঁও থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিমান কোম্পানির মাইক্রোতে ৩৫০, দিনাজপুর থেকে ৩০০, পঞ্চগড় থেকে ৪০০ ও রংপুর থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। ফলে খরচ পড়ে যায় ৩ হাজার টাকা। আর অন্যান্য সময়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পড়ে। যারা বিমানে যাতায়াত করেন তারা খুব কম সময়ে ঢাকায় যান। টাকা বেশি হলেও বিমানে যাচ্ছেন তারা। এখানকার মূল সমস্যা হলো রাজধানী ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে রাস্তার বেহাল দশা। যানজট। বাসে এলে লাগে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত। তাই বিমানে যাত্রা অনেক সুবিধার। মাত্র ৪০ মিনিটে ঢাকায় যাওয়া যাচ্ছে। জরুরি কাজ শেষ করে সন্ধ্যার বিমানে আবার বাড়ি ফেরা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে যাত্রীরা বিমানে ভরসা রাখছেন। সরকারের কাছে এখানকার মানুষের দাবি, ভাড়াটা সব সময় যদি একই থাকে তাহলে যাত্রীদের জন্য সুবিধা হয়।

সেই সঙ্গে সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত হলে চিকিৎসার জন্য বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই, কলকাতা, দিল্লিসহ অন্যান্য দেশে যেত পারবেন এখানকার মানুষ। এতে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা অনেক বেশি সুবিধা পাবেন। ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের সৈয়দপুরের জেলা মার্কেটিং অফিসার নওসিদ রেজা বলেন, ‘টিকিটের মূল্যের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন। তবে সৈয়দপুর পর্যন্ত সার্ভিস গাড়ির ভাড়া ৩৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। পঞ্চগড় সার্ভিস বন্ধ আছে। আমরাও চাই যাত্রীরা স্বল্পমূল্যে যাতায়াত করুক। তবে তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ।’ এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এযারলাইনসের সৈয়দপুরের ব্যবস্থাপক আবু আহম্মেদ বলেন, ‘যাত্রীদের সুবিধার জন্য সরকার সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে উন্নত করছে। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে সৈয়দপুর-চট্টগ্রাম-সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুট। আর আমাদের বিমান আছে বলেই অন্য কোম্পানিগুলো টিকিটের দাম ঠিক রেখেছে। তা না হলে তারা আরও বাড়িয়ে দিত।’ তবে উৎসব মৌসুমে বা চাপ হলে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি কেন হয়— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি কর্তৃপক্ষের বিষয়।


আপনার মন্তব্য