Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:০৬

ভালো নেই হালদার ডলফিন!

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

ভালো নেই হালদার ডলফিন!

হালদা নদীর মদুনাঘাট সেতু সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ভেসে উঠেছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক মৃত ডলফিন। ডলফিনের শরীরের মাঝ বরাবর ছিল প্রায় দ্বিখণ্ডিত। গায়ে পচন ধরেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডলফিনটি ভেসে ওঠে।  কোনো মতেই থামছে না ডলফিনের মৃত্যু। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত ২০টি ডলফিন মারা গেছে। মানবসৃষ্ট আগ্রাসনে ভালো নেই হালদার ডলফিন। জানা যায়, ডলফিনের      চোখ নেই। মূলত ইকো সাউন্ড দিয়ে এরা চলাফেরা ও খাবার সন্ধান করে। এদের শরীরের গঠনও নরম প্রকৃতির। ড্রেজারের প্রপেলার বা অন্য কোনো অংশের আঘাত এরা সহ্য করতে পারে না।

অভিযোগ আছে, হালদা নদীর মা মাছ রক্ষায় নদীতে ড্রেজার ও ইঞ্জিন চালিত বোট চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু মাছ অসাধু কিছু ব্যক্তি এ নিষেধাজ্ঞা মানছে না। তারা নানাভাবে ইঞ্জিনচালিত বোট চালাচ্ছে। ফলে ইঞ্জিনের পাখায় ধাক্কা খেয়ে মারা যাচ্ছে ডলফিন।

চবি হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর হালদা নদীতে ৩৭ কেজি সাইজের একটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি উদ্ধার করা হয় দুটি মৃত ডলফিন। ১৯ জানুয়ারি ভেসে ওঠে ৭০ কেজির একটি মৃত ডলফিন। ২৭ ডিসেম্বর উদ্ধার করা হয় আরও একটি।

হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘হালদায় ২০০টির মতো ডলফিন আছে। এর মধ্যে ২০টি মারা গেল। আগে একসময় কর্ণফুলীতে নিয়মিত ডলফিন দেখা যেত। এখন দেখা যায় না বললেই চলে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মমিনুল হক বলেন, ‘হালদা নদীতে ডিম ছাড়ার মৌসুম চলছে। ফলে আমরা এ ব্যাপারে খুব তৎপর আছি। তাছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অভিযানও চলছে। তবুও হয়তো রাতের আঁধারে ইঞ্জিনচালিত বোট চলাচল করায় ডলফিন মারা গেছে।’

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর