Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:০৭

নুসরাত হত্যা মামলা

এবার সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা

ফেনী প্রতিনিধি

এবার সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা

চাঞ্চল্যকর ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় গতকাল তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক শাহ আলমের সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ না হওয়ায় আদালত রবিবার সকাল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাকে জেরা করা হবে। সাক্ষ্য প্রদানে পিবিআইর পরিদর্শক শাহ আলম জানান, ‘১০ এপ্রিল মামলার তদন্তভার গ্রহণ ও বিভিন্ন সময় বেশ কিছু আলামত গ্রহণ করি। এর মধ্যে রয়েছে একটি কালো রঙের কেরোসিনমিশ্রিত পলিথিন, সবুজ রঙের সালোয়ারের পোড়া অংশ, ওড়নার পোড়া অংশ, পাথরের পুঁতির কাজ করা কালো রঙের বোরকার অংশ, একটি নেভি ব্লুু রঙের জুতা, ১০টি পোড়া দেওয়া শলাইয়ের কাঠি।’ তিনি জানান, নুসরাতের পড়ার টেবিল থেকে একটি খাতা জব্দ করা হয়। এ খাতার ১ থেকে ৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত নুসরাত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার যৌন হয়রানির বিষয়ে বর্ণনায় লিখে গেছেন। তিনি বলেন, ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা গেলে ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছ থেকে নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি সংগ্রহ করা হয়। ১৯ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপির ঘর থেকে তার দেখানোমতে বোরকা উদ্ধার করা হয়। ২০ এপ্রিল সাইফুর রহমান যোবায়েরের দেখানোমতে সোনাগাজীর ডাঙ্গি খাল থেকে তার ব্যবহৃত বোরকা উদ্ধার করা হয়। ২৯ এপ্রিল মামলার অন্যতম সাক্ষী এমদাদ হোসেন পিংকলের উপস্থাপনামতে আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের মোবাইল ফোন সেটটি জব্দ করা হয়। ওই সেটে আসামি রুহুল আমিনের সঙ্গে শামীমের ২৬ সেকেন্ডের কথোপকথনের রেকর্ড রয়েছে। এ পর্যন্ত এ মামলায় ৮৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ৯২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার ১৬ আসামিকে জেলা কারাগার থেকে বেলা ১১টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির করা হয়। প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ আনেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। মামলাটি তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে পাশের ভবনের তিন তলার ছাদে নিয়ে সিরাজ-উদ-দৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। পাঁচ দিন যন্ত্রণায় ভুগে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর