শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ মার্চ, ২০২০ ২৩:৩৬

বায়ুদূষণে সাভারের জনজীবনে নাভিশ্বাস

প্রতিদিন ডেস্ক

বায়ুদূষণে সাভারের জনজীবনে নাভিশ্বাস

বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষে বাংলাদেশের অবস্থান। আর ঢাকার পার্শ্ববর্তী শহরতলির মধ্যে সাভারের বায়ুদূষণের অবস্থা খুবই খারাপ। সাভারের দুই শিক্ষার্থীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই তথ্য। সাভারের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, বেশির ভাগ স্থানে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বর্জ্য  পোড়ানোর কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে। নেই পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা। নির্মাণাধীন ভবন থেকেও ধূলিকণা বায়ুতে ছড়াচ্ছে। আবার ট্যানারি এলাকার দুর্গন্ধে নাক বন্ধ করে চলতে হয়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভার পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, সাভার উপজেলা ২৮০ বর্গ কিমি. এলাকায় প্রায় ২০ লাখ  লোকের বাস। শুধু সাভার পৌরসভার ১৪ কিমি. এলাকায় বসবাস করেন প্রায় ৮ লাখ মানুষ। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ ভাসমান জনগোষ্ঠীর বাস এখানে। এত বিপুল জনসংখ্যার চাপ সামাল দেওয়া তাদের জন্য কষ্টকর। কেননা সাভার পৌরসভা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, লোকবল ও অর্থের জন্য সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন  করতে পারছেন না। জমির সংকটে ডাস্টবিন ও রিসাইকেল স্টেশন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, যখন এখানকার মানুষ নিজেরা সচেতন হবেন তখন   একত্রে পরিবেশ সুন্দর করতে পারব। সাভারকে বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। সবার আগে গাছপালা লাগানো, যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা সর্বোপরি সচেতন হওয়া খুবই জরুরি।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যমতে, সাভারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১৮০। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তাত্ত্বিক ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নন্দিতা সরকার বলেন, ‘সাধারণত এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মাত্রা ১৫১-২০০-এর মধ্যে থাকলে সেই শহর বসবাসের অনুপযোগী অর্থাৎ অস্বাস্থ্যকর। তিনি বলেন, সাভারের শিল্প-কারখানাগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা না করার কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে সাভার সাধারণ মানুষের বসবাসের জন্য হুমকিস্বরূপ হবে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া পরিবেশ আরও দূষিত করছে। সাভারের বাদশা (২৭) নামের একজন ডাব বিক্রেতা বলেন, রাস্তায় মাস্ক ছাড়া চলতে কষ্ট হয়। এ ছাড়া তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। রিকশাচালক হৃদয় বলেন, শীতে আর গরমে মাস্ক ছাড়া রিকশা চালালে নাক ও মুখ ধুলায় ভরে যায়। গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, বাসা পরিষ্কার করার পর পরই আবার ধুলার স্তর জমে যায়। এ ছাড়াও তার দুই সন্তান শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর