শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০২

করোনা ভাইরাস

হঠাৎ আতঙ্ক সিলেটজুড়ে

কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

হঠাৎ আতঙ্ক সিলেটজুড়ে

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্ক দেশজুড়ে। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে আতঙ্ক থাকলেও এতদিন কিছুটা স্বস্তিও ছিল। কারণ ইতিপূর্বে সিলেট বিভাগের যেসব সন্দেহভাজনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল তাদের সবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু রবিবার থেকে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। সিলেটে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন আগেই মারা গেছেন। আর বাকি একজন পেশায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নিজ বাসায় আইসোলেশনে রেখে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা দিতে গিয়ে তিনি সংক্রমিত হয়েছেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত তিনি হাসপাতালের পাশাপাশি প্রাইভেট চেম্বারেও রোগী দেখেছেন। আর মৌলভীবাজারের রাজনগরে মারা যাওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর রিপোর্টও আসে পজিটিভ।  এদিকে করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়ার খবরে রবিবার থেকে সিলেট বিভাগের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক চেপে বসে। ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। আক্রান্ত চিকিৎসকের কাছ থেকে সহকর্মী ও রোগীদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই চিকিৎসকের বাসা লকডাউন করে তাকে সেখানেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, ‘আক্রান্ত চিকিৎসক কোনো প্রবাসীর সংস্পর্শে যাননি বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের রাজনগরে যে ব্যবসায়ী মারা গেছেন প্রবাসীর সংস্পর্শে যাওয়ারও কোনো ইতিহাস নেই তার। এতে সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর সেটা হলে ধারণা করা যেতে পারে, সিলেট বিভাগে আরও রোগী রয়েছেন। এদের দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে তাদের মাধ্যমে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।’

এদিকে চিকিৎসকের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল সকাল ৯টা থেকে সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকা লকডাউন করে রাখা হয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকাটি লকডাউন করে রাখা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এলাকায় প্রবেশের প্রধান প্রধান ফটক। বহিরাগতদের এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া এলাকার কেউই খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। আক্রান্ত চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যদেরও বাসায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের রাজনগরে মারা যাওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পরিবারও রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। সিলেট বিভাগে গতকাল পর্যন্ত ১৫ জনের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর