শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৪

টু ক রো খ ব র

১২ মাসের মধ্যে লাগতে পারে টিকার তৃতীয় ডোজ : সিইও ফাইজার

প্রতিদিন ডেস্ক

ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ফাইজার জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে নিতে হবে টিকার তৃতীয় ‘বুস্টার’ ডোজও। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক বছরে এ রকম একটি করে ডোজ নিতে হতে পারে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স। গত বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে ফাইজার কর্ণধার অ্যালবার্ট বুরলা বলেন, ‘শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে তৃতীয় ডোজ নেওয়াও জরুরি হয়ে পড়ছে। তাছাড়াও পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে প্রতি বছর  একটি করে ডোজ নিতে হতে পারে। কিন্তু এই গোটা বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরও নিশ্চিত হতে হবে।’  খবরে বলা হয়, করোনা প্রতিষেধক শরীরে কত দিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত বিশদে কোনো গবেষণা সামনে আসেনি। সম্প্রতি ফাইজার জানিয়েছে, তাদের টিকা ৯১ শতাংশ কার্যকরী। যারা গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ৯৫% কাজ করবে ওই টিকা এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর অন্তত ৬ মাস শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখবে। এ বিষয়ে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অতিমারী নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত দলের প্রধান ডেভিড কেসলারও বলেছেন, করোনাভাইরাসকে ঠেকাতে হলে প্রত্যেক মার্কিনিকে ‘?বুস্টার’ ডোজ দেওয়া জরুরি। ?তিনি বলেন, যারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের প্রথমে টিকার এই বুস্টার ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে গবেষকরা বলছেন,  মডার্না, ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকার কার্যকারিতা কমপক্ষে ছয় মাস পর্যন্ত থাকে। টিকা ছয় মাসের বেশি সময় পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারলেও করোনার নতুন নতুন ধরনের কারণে নিয়মিত বুস্টার ডোজ নেওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস অব ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক রোসে ওয়ালেনস্কি হাউস সাবকমিটিতে বলেন, টিকা নেওয়ার পরও যারা করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়ালেনস্কি আরও বলেছেন, টিকা নেওয়ার পর অনেকের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হওয়ায় এ ধরনের সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে করোনার আরও বেশি সংক্রামক ধরনে অনেকে সংক্রমিত হয়েছেন।

ভারতে ‘স্পুটনিক-ভি’ টিকার প্রথম চালান এ মাসেই : রাশিয়ার তৈরি করোনার ‘স্পুটনিক-ভি’ টিকার প্রথম চালান এ মাসেই ভারতে যাবে। রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বালা ভেঙ্কাটেশ ভার্মা গত বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তারা রুশ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে শুনেছেন, এ মাসের শেষের দিকে ‘স্পুটনিক-ভি’ টিকার প্রথম চালান ভারতে যাবে। আর ভারতে ‘স্পুটনিক-ভি’ টিকার উৎপাদন শুরু হবে মে মাসে।

‘স্পুটনিক-ভি’ টিকা নিয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য রাশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, ভারতে ‘স্পুটনিক-ভি’ টিকার উৎপাদনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়বে। উৎপাদনের পরিমাণ মাসে ৫ কোটি ডোজ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত রোমান বাবুশকিন গত বুধবার বলেন, ‘স্পুটনিক-ভি’ টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের বিষয়টি ভারতের সঙ্গে তার দেশের বিশেষ অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা উন্মুক্ত করবে।

উল্লেখ্য, ‘স্পুটনিক-ভি’ ভারতে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পাওয়া করোনার তৃতীয় টিকা। জানুয়ারিতে ভারতে ‘কোভিশিল্ড’ ও ‘কোভ্যাক্সিন’ নামের দুটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশটিতে এখন এই দুটি টিকার প্রয়োগ চলছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ‘কোভিশিল্ড’ ভারতে উৎপাদন করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট। ‘কোভ্যাক্সিন’ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেক উদ্ভাবিত টিকা। ভারতে ‘স্পুটনিক-ভি’ টিকা উৎপাদন ও বাজারজাত করবে ‘ডক্টর রেড্ডিজ’। বর্তমানে এই টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর