শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২৮

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালেও অব্যবস্থাপনা-দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে সরকারিভাবে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণার এক বছর পার হলেও এই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, সমস্যা-সংকটগুলো এখনো নিরসন করা হয়নি। পাহাড়ের ওপর পাহাড়সম সমস্যা, দুর্ভোগ-ভোগান্তিকে সঙ্গী করেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। তাছাড়া তথ্য কেন্দ্রের অভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন।    ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, আন্তরিকতা ও উদ্যোগ থাকলে এক বছরে নতুন একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ হাসপাতাল নির্মাণ করা যায়। অথচ এখানে অবকাঠামো আছে, জায়গা আছে, তবুও নানা অব্যবস্থাপনা, সমস্যা-সংকটকে সঙ্গী করেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পদে পদে পোহাতে হয় ভোগান্তি। ভর্তি থাকা এক রোগীর সন্তান মুরাদ হাসান বলেন, আইসিইউ ওয়ার্ডের শয্যা ১৮টি। প্রতি রোগীর জন্য যদি দুজনও থাকেন, তাহলে ৩৬ জন স্বজনকে সার্বক্ষণিক ওয়ার্ডের পাশেই থাকতে হয়। অথচ এখানে রোগীর স্বজনদের বসার কোনো ব্যবস্থাই নেই। নেই কোনো ফ্যান, বাথরুমও অপ্রতুল। আইসিইউ রোগীকে খাওয়াতে হয় স্যুপ জাতীয় নরম খাবার। কিন্তু এখানে তার কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালটি পাহাড়ের ওপর হওয়ায় বাইরে থেকে আনাও কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ। আরেক রোগীর স্বজন ইরশাদুল আলম বলেন, গত এক বছর ধরে এখানে করোনা রোগীর চিকিৎসা চলছে। এরই মধ্যে অনেক রোগী মারা গেছেন। অথচ এখানে এতদিনেও লাশ ধোয়ার স্থানের ব্যবস্থাটি করা হয়নি। লাশঘর থাকলেও গোসল করানোর ব্যবস্থা নেই। গোসলের জন্য নিতে হয় চমেক হাসপাতাল। জীবনের অন্তিম সময়েও মৃতদেহকে কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। অথচ এ ব্যবস্থাটি বেশি ব্যয়বহুল নয়। দরকার কেবল আন্তরিকতার। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সরকারি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। নানা সমস্যা থাকে। বিষয়গুলো আমরা অবগত। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে স্থানীয় ও সরকারি সহায়তায় চেষ্টা করা হয়। তবে নানা কারণে ইচ্ছা থাকলেও অনেক সমস্যার সমাধান করা যায় না।

 সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। এখানে নেই কোনো ফার্মেসি, খাবারের দোকান বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। রোগী ভর্তির পর প্রতিটি মুহূর্তে টাকার প্রয়োজন হলেও এখানে নেই কোনো মানি এজেন্ট। আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর তুলনায় বাথরুম অপ্রতুল। আইসোলেশন ও আইসিইউ ওয়ার্ডে মোট ১৫০ শয্যা। একজন রোগীর জন্য একজন করে থাকলেও ১৫০ জন স্বজনের ক্রয় করে হলেও খাবার খাওয়ার সুযোগ নেই। আইসোলেশন ও আইসিইউর আশপাশের জায়গাটা অপরিষ্কার। এখানকার রাস্তায় জমে থাকে পানি, নেই ডাস্টবিন, ময়লা ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। দর্শনার্থীদের বসার গোল চত্বরটাও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। অন্যদিকে, লাশ ধোয়া, অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সেবা দিচ্ছে কিছু মানবিক সংগঠন ও ব্যক্তি। কিন্তু তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বা তাদের বসার নির্দিষ্ট কোনো স্থান এখানে নেই। ফলে জরুরি মুহূর্তে তাদের খোঁজ পেতে সমস্যা হয়। কিন্তু একটা ঠিকানা থাকলে রোগীদের সুবিধা হয়, সঙ্গে মানবিক সেবকদের বসার সুযোগ হয় এবং রোগীর স্বজনরাও এক জায়গা থেকে সহজে সেবা পেতে পারে। 

এই বিভাগের আরও খবর