শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ মে, ২০২১ ২৩:৪৪

জমতে শুরু করেছে চট্টগ্রামের ঈদবাজার

এক সপ্তাহ আগেও ক্রেতাশূন্য ছিল মার্কেটগুলো, আস্তে আস্তে পরিবর্তন হচ্ছে

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

জমতে শুরু করেছে চট্টগ্রামের ঈদবাজার
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চট্টগ্রাম নগরীর দোকানগুলোতে প্রবেশ করানো হচ্ছে ক্রেতাদের -বাংলাদেশ প্রতিদিন

করোনা সংক্রমণের কারণে সরকার প্রথমে মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করে। পরে সরকারি নির্দেশনায় মার্কেটগুলো খোলা হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম নগরের মার্কেটগুলোতে দেখা মিলছে না কোনো ক্রেতার। গত এক সপ্তাহ আগেও ক্রেতাশূন্য ছিল মার্কেটগুলো। ব্যবসায়ীরা ছিলেন ক্রেতার অপেক্ষায়। তবে পরিবর্তন হচ্ছে এমন অবস্থার। গত কয়েক দিন ধরে আস্তে আস্তে পরিবর্তন হচ্ছে ঈদ বাজারের। ক্রমান্বয়ে জমতে শুরু করেছে ঈদ বাজার। কিন্তু অভিজাত মার্কেট থেকে সাধারণ ও ফুটপাথ মার্কেটে বিকিকিনি তুলনামূলক বেশি।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিজাত বিপণিবিতানগুলো এখনো পুরোদমে জমে ওঠেনি। সেখানকার দোকানগুলো অনেকটাই ফাঁকা। তবে মধ্যবিত্তের মার্কেট খ্যাত টেরিবাজার, জহুর হকার্স মার্কেট ও রিয়াজুদ্দিন বাজারে ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে এ তিন মার্কেটে সব শ্রেণি-পেশার ক্রেতার সমাগম ঘটে। তাছাড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে নগরের ফুটপাথ মার্কেটগুলোতে। টেরিবাজার মেগা শপিং মল রাজকুমারীর বিক্রয়কর্মী মুহাম্মদ রিদওয়ান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ক্রেতার দেখা মিলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতাদের দোকানে প্রবেশ করানো হচ্ছে। রিয়াজুদ্দিন বাজারের কাদেরিয়া বেনারসি গার্মেন্টসের মালিক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ক্রেতা বাড়ছে, তবে বিক্রয় কম। অন্য বছর এই সময়ে দৈনিক ১ লাখ টাকা বিক্রি হলে এখন হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা। তবুও আশাবাদী, কিছুটা হলেও ব্যবসা চলছে। রিয়াজুদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলায় সরকারকে সাধুবাদ। এখন ক্রেতা আসতে শুরু করেছে। এতে আশার আলো দেখি। তিনি বলেন, রমজানের অন্তত তিন মাস আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করেন। এখন যদি ব্যবসা না চলে তাহলে ছোট বড় সব ব্যবসায়ীরাই বিপাকে পড়বে। টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, ১৫ রমজানের পর ক্রেতার দেখা মিলছে। যদিও বা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক কম। তবুও কিছু ব্যবসা হচ্ছে, এটাতেই সবাই খুশি।

মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, মার্কেট খোলা থাকলেও বিক্রয় কম। সাধারণ সময়ের তুলনায় ব্যবসা অনেক কম হচ্ছে। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও নো মাস্ক নো এন্ট্রি অব্যাহত রেখেছি। সরেজমিন দেখা যায়, নগরের অধিকাংশ ফুটপাথ মার্কেট ভালোই জমে ওঠেছে। নিউ মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাথ, স্টেশন রোড, দুই নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, আন্দরকিল্লা, আগ্রাবাদ বাদামতল মোড়, বায়েজিদ ও শেরশাহ এলাকাসহ প্রায় সবগুলো ফুটপাথে এখন ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয়। তবে মধ্যবিত্তের মার্কেট খ্যাত জহুর হকার্স মার্কেটে ক্রেতার ভিড় বেশি। জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরে টেরিবাজার, নিউ মার্কেট, রিয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেইন, জহুর হকার্স মার্কেট, বালি আর্কেড, কেয়ারি ইলিশিয়াম, মতি টাওয়ার, মতি কমপ্লেক্স, সেন্ট্রাল প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, ফিনলে স্কয়ার, শপিং কমপ্লেক্স, স্যানমার ওশান সিটি, ইউনেস্কো সিটি সেন্টার, আমীন সেন্টার, ভিআইপি টাওয়ার, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটসহ এ জাতীয় অভিজাত মার্কেট কেন্দ্রিক ঈদ ব্যবসা জমজমাট হয়।

এই বিভাগের আরও খবর