বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

চট্টগ্রামে ভেজাল-অনুমোদনহীন ওষুধ ছড়াচ্ছে ৬০ ফার্মেসি

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

রাজধানীর মিটফোর্ডের পর চট্টগ্রামের হাজারি গলি ওষুধের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি বাজার। চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলায় ওষুধ সরবরাহ হয় হাজারি গলি থেকে। ওষুধের পাইকারি বাজার হিসেবে খ্যাতি আছে হাজারি গলির। অথচ এখানেই আছে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ অবৈধ, অনুমোদনহীন, ভেজাল ওষুধ ও চিকিৎসকের স্যাম্পল বিক্রয়কারী ফার্মেসি। এর মধ্যে আবার সরকারি বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি হয় প্রায় ৩০টি ফার্মেসিতে। এসব ফার্মেসি থেকেই চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় ছড়াচ্ছে জীবনরক্ষাকারী ভেজাল ওষুধ। জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় মোট অনুমোদিত ফার্মেসি আছে প্রায় ১২ হাজার। কেবল হাজারি গলিতেই আছে প্রায় ৭০০ ফার্মেসি। তবে এর বাইরেও অনুমোদনহীন ফার্মেসি আছে। চট্টগ্রাম নগরে নিয়মিত জেলা প্রশাসন ও ওষুধ তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় অনুমোদনহীন, আমদানি ও বিক্রয় নিষিদ্ধ, মেয়াদোত্তীর্ণ, ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি, চিকিৎসকের স্যাম্পল (ওষুধ), ক্ষতিকারক শক্তিবর্ধক ও ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ের ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করে। তবুও থেমে নেই ভেজাল ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়। এমন অবস্থায় হাজারি লেইন ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, চট্টগ্রাম গত ৫ মে ব্যবসায়ীদের দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রতিটি মার্কেটের অসৎ ব্যবসায়ীদের নাম-ঠিকানা গোপনে বা এসএমএসের মাধ্যমে সমিতি বরাবরে জমা দেওয়ার জন্য। অন্যথায় অভিযানে জরিমানা করা হলে এর দায় সমিতি নেবে না’ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

হাজারি লেইন ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, চট্টগ্রামের সভাপতি মো. সফিউল আলম বলেন, হাজারি গলিতে ফার্মেসি আছে প্রায় ৭০০টি।

এর মধ্যে অনিয়ম করে এমন ফার্মেসি আছে হয়তো ৫০ থেকে ৬০টি। অথচ এই কয়টি ফার্মেসির জন্য আমাদের সবাইকেই এর খেসারত দিতে হয়। তাদের জন্যই সবার বদনামি হয়। দীর্ঘকাল ধরে থাকা বিশ্বাসের হাজারি গলিতে এখন মানুষের অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। আমরা যারা বৈধভাবে ব্যবসা করি তাদেরকেই এ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। আমরা চাই প্রশাসন অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ দোকানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

চট্টগ্রাম ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান বলেন, হাজারি গলিতে অবৈধ ফার্মেসির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বড় অঙ্কের জরিমানাও করা হয়। তবুও তারা ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি করে চলেছে। তিনি বলেন, হাজারি গলিতে সব ফার্মেসি এক জায়াগায়। একটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করলে অন্যরা ফার্মেসি বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তাছাড়া গলিতে ফার্মেসি হওয়ায় অবৈধ দোকান চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ৮ জুলাই থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রুহুল আমীন ১৪৫টি ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করে ১৩৭টিতেই অনিয়ম দেখতে পান। তাছাড়া যখনই অভিযান পরিচালিত হয় তখনই অনিয়ম ধরা পড়ে। আবার অভিযান পরিচালনার সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে অর্থের বিনিময়ে অভিযান বন্ধের প্রস্তাবের ঘটনাও আছে।

এই বিভাগের আরও খবর