বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে, কর্মচাঞ্চল্যও বেড়েছে। তবে পারিবারিক পর্যায়ের অবস্থার অবনতি হয়েছে। দরিদ্রতা ও বৈষম্য বেড়েছে। গতকাল ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত মোয়াজ্জেম হোসেন স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মোয়াজ্জেম হোসেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সাবেক সম্পাদক এবং ইআরএফের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
ড. জাহিদ বলেন, ‘অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার কারণ হচ্ছে, অস্থিতিশীলতার পেছনে যারা ছিলেন তারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধ হয়েছে। ফলে হুন্ডি কমে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। ব্যাংকের লুটপাট বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের প্রকৃত উন্নতি হয়নি। খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, সেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির পক্ষে গেছে। বিশেষ করে ডলারের দাম কমে যাওয়া উল্লেখযোগ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে ড. জাহিদ বলেন, ভারত এবং চীনের ওপরে ট্রাম্প প্রশাসন যে হারে শুল্ক আরোপ করেছে তাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সামনে মার্কিন বাজারে ২০৫ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি শুল্কারোপ করায় ১২০ থেকে ২০৭ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। চীনের ওপরে বেশি শুল্কারোপ করায় ৭ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার বেশি রপ্তানি হতে পারে মার্কিন বাজারে।