রাজধানীর মিরপুরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এক ঠিকাদারকে অপহরণ করে নির্যাতন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠায় এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়িসহ ছিনতাই হওয়া মালামাল জব্দ করে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজ না পাওয়ায় তাকে অপহরণের পর নির্যাতন করে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রাশেদুল ইসলাম (৪০) একজন সরকারি হাসপাতালে সরঞ্জাম সরবরাহকারী ঠিকাদার। গত ৮ মে সকালে কারওয়ান বাজার এলাকায় আলোচনার কথা বলে তাকে কৌশলে একটি কালো রঙের টয়োটা করোলা ক্রস জিপ গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। অপহরণকারীরা তাকে মিরপুর-১ এর দক্ষিণ পীরেরবাগের একটি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে রাশেদুল ইসলামকে আটকে রেখে লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ভুক্তভোগীর ম্যানেজার শাহরাজ খান এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামিরা রাশেদুলের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং এস২৬ আল্ট্রা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
জানা যায়, খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ পীরেরবাগের একটি অফিস থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে জসিম উদ্দিন (৪২), মনিরুজ্জামান মনির (৩৮) এবং আরিফ খানকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নাহিদ ইসলাম (২২), রবিউল ইসলাম (৩০) এবং চালক জসিমসহ (৩৮) আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় দিনাজপুর-৫ আসনে এনসিপির এমপি প্রার্থী ডা. আবদুল আহাদকেও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে।
গতকাল মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, দিনাজপুরের একটি হাসপাতালে ভুক্তভোগীকে টেন্ডার জমা দিতে নিষেধ করেছিল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা। তবু তিনি টেন্ডার জমা দেওয়ায় তারা তাকে অপহরণ করে নির্যাতন করে। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।