বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সম্মানে জাতীয় শোক দিবসের শেষ দিনে ড্যাফোডিল ফ্যামিলির সদস্যরা গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। একই সঙ্গে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রতিবছরের নির্ধারিত ফ্যামিলি ডে উপলক্ষে রাজধানীর উপকণ্ঠে ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬ হাজার ৫০০–এর বেশি সদস্য একত্রিত হন। এ সময় ড্যাফোডিল গ্রুপ একটি যুগান্তকারী সামাজিক অঙ্গীকার ঘোষণা করে। ঘোষণায় জানানো হয়, ২০২৬ সাল থেকে গ্রুপটির সব কনসার্নের নেট আয়ের এক-তৃতীয়াংশ দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। ড্যাফোডিল গ্রুপের পক্ষ থেকে একে বাংলাদেশের কর্পোরেট ইতিহাসে দায়িত্বশীল ও মানবিক ব্যবসায়িক নেতৃত্বের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল গ্রুপের বিভিন্ন কনসার্নের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে এই অঙ্গীকার প্রকাশ্যে কার্যকর করা হয়। ড্যাফোডিল গ্রুপ জানায়, ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম কেবল ব্যবসায়িক মুনাফার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; জাতীয় উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণই হবে প্রধান লক্ষ্য।
ফ্যামিলি ডে উপলক্ষে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ৭৯ জন এবং ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সবুর খান বলেন, ২০২৬ সাল থেকে ড্যাফোডিল গ্রুপের সব কনসার্নের নেট প্রফিটের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের কল্যাণে উৎসর্গ করা হবে। তিনি বলেন, এটি কেবল কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতি-গঠনের অঙ্গীকার।
ড. সবুর খান বলেন, “এটি শুধু দান নয়, এটি ‘নেশন বিল্ডিং ইনভেস্টমেন্ট’। এই উদ্যোগের আওতায় শিক্ষা ও স্কলারশিপ, যুব নেতৃত্ব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সুবিধাবঞ্চিত ও সম্ভাবনাময় তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিনিয়োগ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যখন একটি প্রতিষ্ঠানের আয়ের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের জন্য ব্যয় হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠান আর শুধু মালিক বা কর্মীদের নয়—পুরো দেশের হয়ে ওঠে।”
সার্বিকভাবে এ উদ্যোগকে বাংলাদেশের কর্পোরেট খাতের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন