বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের বিকাশে নেদারল্যান্ডস সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈশ্বিক উদ্যোগ অরেঞ্জ কর্নার্স বাংলাদেশ ২০২৬–২০২৮ সালের নতুন পর্বের কার্যক্রম ঘোষণা করেছে। এই পর্বে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগে প্রবেশাধিকার সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রাজধানীর গ্রামীণ টেলিকম ভবনে ওয়াই ওয়াই ভেঞ্চার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন পর্বের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে অরেঞ্জ কর্নার্স বাংলাদেশ-এর কোহর্ট–৫-এর সমাপনী আয়োজন এবং কোহর্ট–৬-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
ওয়াই ওয়াই ভেঞ্চার্সের বাস্তবায়নে আগামী তিন বছরে এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের আরও নিবিড়ভাবে সহায়তা করবে। নতুন পর্বের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা গড়ে তোলা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
২০২৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অরেঞ্জ কর্নার্স বাংলাদেশ ৭০টিরও বেশি প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্যোগকে সহায়তা করেছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে সার্কুলার ইকোনমি, কৃষি, পানি, আইসিটি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ব্যবসা। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ঢাকার বাইরের উদ্যোক্তাদের মূল ধারায় যুক্ত করতেও এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দ, বিনিয়োগকারী, সরকারি প্রতিনিধি, অংশীদার ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে অরেঞ্জ কর্নার্স বাংলাদেশের আওতায় থাকা উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও জোরদার হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, নেদারল্যান্ডস এমন তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে পেরে গর্বিত, যারা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে তরুণ পরিবর্তনকারীদের সহায়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, অরেঞ্জ কর্নার্স তার একটি অন্যতম উদাহরণ।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উদ্যোক্তা উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এমন তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন, যারা গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে ভাবতে পারে। তাহলেই সরকার ও দেশ একসঙ্গে কার্যকর সমাধানের পথে এগোতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উপদেষ্টারা যেসব সমস্যা সমাধানে হিমশিম খাচ্ছেন, তার অনেকগুলোর সমাধান তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যেই নিহিত থাকতে পারে।
অনুষ্ঠানে কোহর্ট–৫-এর উদ্যোক্তাদের সমাপনী আয়োজন এবং কোহর্ট–৬-এর নতুন উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। এতে বিনিয়োগকারী, করপোরেট প্রতিনিধি ও ইকোসিস্টেম অংশীদারদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্কিং ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।
নতুন তিন বছরের পর্বে অরেঞ্জ কর্নার্স বাংলাদেশ তাদের নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সহায়তার মাধ্যমে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে কাজ করবে।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন