শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:৩৫

ফেসবুক ইমোর ভয়ঙ্কর ফাঁদ

নোয়াখালী প্রতিনিধি

ফেসবুক ইমোর ভয়ঙ্কর ফাঁদ

সামাজিক যোগোযোগের মাধ্যম ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার অনেক প্রবাসী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (সিআইডি) দুই কলেজছাত্রী ও তাদের সহযোগী বিকাশ এজেন্টের এক দোকানিকে আটক করেছে। শনিবার রাতে ওই তিনজনকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে সাইফুল ইসলাম নামে ভুক্তভোগী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সুধারাম থানায় মামলা করেন। গ্রেফতাররা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর খাঁনপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের মেয়ে মারজাহান আক্তার, সেনবাগ উপজেলার কেশার লেদুয়া গ্রামের গোলাম মাওলার মেয়ে শাহজাদী মজুমদার, নোয়াখালী পৌরসভার জয়কৃঞ্চপুর গ্রামের হোসেন আহমদের ছেলে বিকাশ এজেন্ট দোকানদার মোশারফ হোসেন মনু। আটকের ব্যবহৃত বিকাশ অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়। জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কুয়েত প্রবাসী সাইফুল ইসলামকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর রূপের জালে ফেলে কয়েক দফায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওই দুই ছাত্রী। কোম্পানীগঞ্জের মধ্যপাচ্য প্রবাসী তানভির হোসেন, মোস্তফা চৌধুরী নামে দুজনের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নেন কয়েক লাখ টাকা। এছাড়াও কোম্পানীগঞ্জের কয়েকজন যুবক এদের জালে ফেঁসেছেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

নোয়াখালী সিআইডি পুলিশের উপপরিদর্শক শাহ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযোগ আছে এ জেলায় একাধিক নারী চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসআপ, ম্যাসেঞ্জারে ইউরোপ প্রবাসী কন্যা সেজে মধ্যপাচ্য প্রবাসী যুবকদের বিয়ে করে ইউরোপে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। কখনো আবার প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক পাতিয়ে ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসআপ, মাসেঞ্জারে ভিডিও কলে অশ্লীল কথাবার্তা বলে তা কৌশলে ধারণ করে। পরে এ ছবি, ভিডিও অনলাইনে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাক মেইল করে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা। অনেক সময় আবার গরিব-অসহায় লোককে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তের কথা বলে অসুস্থ রোগীদের বানোয়াট ছবি দেখিয়ে সাহায্যের নামে অর্থ হাতায়। এ জন্য তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক আইডি ব্যবহার করে। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ওই আইডিগুলো নষ্ট করে দেয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর