শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২০

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন হুমকিতে সুজানগর

পাবনা প্রতিনিধি

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন হুমকিতে সুজানগর
ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

পাবনায় পদ্মায় চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের আশঙ্কায় পড়েছেন এলাকাবাসী। সুজানগর উপজেলার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও পদ্মা নদী থেকে অবাধে শুরু হয়েছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন এলাকার পদ্মা নদীর হাসামপুর, বড়খাপুর এবং নাজিরগঞ্জ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে ওই প্রভাবশালী চক্র। এতে একদিকে পদ্মা পাড়ের বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি ও মূল্যবান গাছ-পালা ভাঙনের মুখে পড়ছে। অন্যদিকে সরকার কোটি কোটি  টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের চলাচলের রাস্তাঘাট চরমভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। সরেজমিন দেখা গেছে, নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ বাজার ও বকাউলকান্দির উত্তর পাশে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করতে  দেখা গেছে। ইউনিয়নটির ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা তাদের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। এদিকে সাতবাড়িয়ার কিছু এলাকায়ও এলাকার প্রভাবশালী ওই মহল এসব বালু উত্তোলনের কাজ করে যাচ্ছেন দেদারছে। সুজানগর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সুজানগরে সরকারিভাবে কোনো বালুমহাল নেই। কিন্তু তারপরও উপজেলার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে পদ্মা নদীর ওই সব পয়েন্ট থেকে নিষিদ্ধ শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন দিয়ে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করছেন। পদ্মা পাড়ের হাসামপুর গ্রামের আব্দুল ওহাব বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পদ্মার নদীর ওই সব পয়েন্ট থেকে শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পদ্মা পাড়ের মহনপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে উত্তোলন করার কারণে পদ্মা নদীর নিকটবর্তী বরখাপুর, হাসামপুর, কামারহাট, গোয়ারিয়া এবং মালফিয়া গ্রামের শত শত বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, মূল্যবান গাছপালা এমনকি নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পর্যন্ত ভাঙনের মুখে পড়েছে। বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ওই সব বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, গাছ-পালা ও ভূমি অফিস নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রওশন আলী বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে মাঝে-মধ্যেই নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করার পাশাপাশি বালু ব্যবসায়ীদের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


আপনার মন্তব্য