শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩০

বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটকের ঢল

প্রতিদিন ডেস্ক

বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটকের ঢল
ভ্রমণপিসুদের পদচারণে মুখরিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। গতকাল তোলা ছবি -বাংলাদেশ প্রতিদিন

শুক্র ও শনি সাপ্তাহিক ছুটি এবং রবিবার (আজ) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। টানা তিন দিনের ছুটির ফাঁদে দেশ। এ সুযোগ হাতছাড়া করেননি ভ্রমণপিপাসুরা। দেশের বিভিন্ন জেলার পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করেছেন তারা। পর্যটকের পদচারণে মুখরিত সিলেটের বিছানাকান্দি, জাফলং, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝর্ণা, বান্দরবানের নীলাচল, চিম্বুক পাহাড় ও খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের খবর-

সিলেট : মহানগরের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ ছাড়াও জেলার বিছানাকান্দি, জাফলং, লালা খাল, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর, তাহিরপুরের শিমুলবাগানসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট পর্যটকের পদচারণে মুখর। ভ্রমণপিপাসুদের আগমন উপলক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকেই মহানগরসহ সব পর্যটন স্পটের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের বেশির ভাগই আগাম বুকিং হয়ে যায়। যেগুলো খালি ছিল শুক্রবারের মধ্যেই তার প্রায় শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। জানা যায়, মহানগরের আবাসিক হোটেলগুলোয় তিল ধারণের জায়গা নেই। অনেক পর্যটককে হোটেল না পেয়ে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে রাত কাটাতে দেখা গেছে। এফবিসিসিআইর পরিচালক ও সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ জানান, করোনা মহামারীর প্রথম দিকে সিলেটে হোটেল ব্যবসায়ীরা কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন ছিলেন। বর্তমানে এ অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কক্সবাজার : পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত মানুষের সাগরে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নেমেছে। মেরিনড্রাইভসহ পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকরা ঘুরছেন মনের আনন্দে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের ধারণা এ মুহূর্তে ৪ লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। সৈকত ছাড়াও অনেকে ছুটছেন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন্সে। পটুয়াখালী : সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ঢল নেমেছে পর্যটকের। পর্যটননগরীর হোটেল-মোটেল পুরোপুরি বুকিং রয়েছে। আশপাশের বাসাবাড়িতেও অবস্থান করছেন দর্শনার্থীরা। পিকনিক পার্টির শতাধিক দল তাদের ভাড়া করা পরিবহনে রাতযাপন করে উপভোগ করছে কুয়াকাটার সৌন্দর্য। স্বাস্থ্যবিধি মানতে আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার সাধারণ ছুটির পর এই প্রথম কুয়াকাটায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। বেচাকেনা ভালোই চলছে। হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী নেতারা জানান, তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক হোটেল-মোটেলের সব রুম বুকিং। পর্যটকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ কুয়াকাটা।  রাঙামাটি : জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকে ভরপুর। প্রকৃতির টানে এখানে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে পর্যটকরা ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝর্ণা, পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো পার্ক ও কাপ্তাই-আসাম বস্তি সড়কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, এখানে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার পর্যটক আসছেন। বসন্ত ঘিরে রাঙামাটিতে বেড়েছে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা। বান্দরবান : সব পর্যটনস্পট ছাড়িয়ে পর্যকটরা ছড়িয়ে পড়েছেন বান্দরবানের পাহাড়ি গ্রামেও। হোটেল-মোটেলে ঠাঁই না পেয়ে পাহাড়ি গ্রাম বা রাস্তার ধারে রাতযাপন করছেন অনেকে। মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, শৈলপ্রপাত, নীলগিরিসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে বেশি ভিড় দেখা গেছে। খাগড়াছড়ি : পর্যটকের পদচারণে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলো এখন মুখরিত। আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝর্ণা, তারেং পাহাড়, হর্টিকালচার পার্ক, কৃষি গবেষণা উদ্যান ও মায়াবিনী লেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। পর্যটকের আগমনে বুকিং বেড়েছে জেলার আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোয়। বেড়েছে রেস্টুরেন্টের বিক্রি। ভালো ভাড়া পাচ্ছেন পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি কিংবা জিপ চালকরা।

এই বিভাগের আরও খবর