Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৭:১১
আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০১৯ ২১:০৬

শেরপুরে পানিবন্দি হাজারো মানুষ, অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরে পানিবন্দি হাজারো মানুষ, অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

টানা বর্ষণ ও সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের পাঁচটি উপজেলার বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে এসব উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। কিছু জায়গায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে পানিবন্দি মানুষের দাবি, সরকারিভাবে ত্রাণ পাচ্ছেন না তারা। এদিকে জেলা পুলিশ ও কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে বন্যার্তদের জন্য ৩৫ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সরকারের কাছে আরও ২৫০ টন চাল চাওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে। বন্যার কারণে জেলায় বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত স্কুল বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, ঝিনাইগাতি উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ঝিনাইগাতী সদর, ধানশাইল, মালিঝিকান্দা ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহস্থরা। বিভিন্ন এলাকার রোপা আমন ধানের বীজতলা ও সবজি পানিতে নিমজ্জিত এবং কাঁচা ঘর, সেতু ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় দুইশ' পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।  

ঝিনাইগাতি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল তোড়ে মহারশি নদীর বাঁধের পূর্ব দিঘিরপাড় এলাকায় ১৫০ মিটার অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় এটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। 

একই উপজেলার ধানশাইল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমেশ্বরী নদীর পানির প্রবল তোড়ে তার ধানশাইল ইউনিয়নের নয়াপাড়া, দাড়িয়ারপাড়, কান্দুলী, মাঝাপাড়া ও বাগেরভিটা গ্রামের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঢলের পানির প্রবল তোড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ধানশাইল-বাগেরভিটা-ভটপুর সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি সেতু।  

ঝিনাইগাতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ঢলের পানিতে ১৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা, ৫০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ও ৫ হেক্টর জমির পেঁপে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম জানান, পানি প্রবেশ করায় ৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টির পানিতে জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান এলাকায় দুটি স্থানে ভোগাই নদীর সাড়ে ৬০০ ফুট বাঁধ ভেঙে সাত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতায় সড়ক ডুবে থাকায় এবং বাড়ি ঘরে পানি থাকায় দুইদিন ধরে সাত গ্রামের মানুষ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, উপজেলার উত্তর কুন্নগন রাজারখালপাড়ে এলাকায় ভোগাই নদীর ২০০ ফুট বাঁধ ও  ফকিরপাড়া চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছনে ভোগাই নদীর সাড়ে ৪০০ ফুট বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ভাঙন অংশ দিয়ে ভোগাই নদীর ঢলের পানি প্রবেশ করে মরিচপুরান, বাঁশকান্দা, ফকিরপাড়া, খলাভাঙা, ভোগাইরপাড়, মরিচপুরান পুর্বপাড়া ও উল্লারপাড়  গ্রামের আশপাশে এলাকা গুলোতে সৃষ্ট বন্যা দেখা দিয়েছে। পানি সড়কে থাকায় ফকিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, খলাভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু ভাঙন অংশ পরিদর্শন করে মরিচপুরান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার শফিক আহমেদকে পানি কমলেই বাঁধ সংস্কারের নির্দেশ দেন। মরিচপুরান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার শফিক আহমেদ জানান, দুই অংশে সাড়ে ৬০০ ফুট ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। ভাঙন অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় সড়কসহ সাতটি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি কমলেই বাঁধ সংস্কারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা মৃগী নদীর পানির তীব্র স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে বাছুর আলগা দক্ষিণ পাড়া, চকবড়ইগাছি গ্রামের আফাজ উদ্দিন ও আছিয়া বেগমের বাড়ি ঘরসহ বেশি কিছু আবাদি জমি ও চলাচলের রাস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেকেই নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান জানান, নদী ভাঙনে জান-মাল রক্ষায় সতর্ক থাকার জন্য ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্ভব হলে অন্যত্র বাড়িঘর সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। সেই সাথে ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম জানান, রবিবার সকাল থেকে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক এটিএম জিয়াউল ইসলাম জানায়, জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্তদের মাঝে সরকারীভাবে ৩৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারের কাছে আরও ২৫০ টন চাল চাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব

 


আপনার মন্তব্য