শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:৩০

কুড়িগ্রামে তীব্র হচ্ছে নদী ভাঙন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামে তীব্র হচ্ছে নদী ভাঙন

কুড়িগ্রামে নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমর নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। নদী পাড়ের মানুষজন তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।

প্রতিদিন বাড়িঘর, গাছপালা ও খেতখামারসহ নানা স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে ৯ নং ওয়ার্ড বড়বাড়ি এলাকায় ১ কিলোমিটারের বেশি জায়গা জুড়ে দুধকুমর নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দুধকুমর নদীর স্রোতের তোড়ে হাজীরমোড় থেকে মাঝিটারী পর্যন্ত বাঁধটি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীরা জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুধকুমর নদীর তান্ডবে ঘরবাড়ি হারিয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার। এসব মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন নি:স্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। কেউ কেউ গৃহহীন হয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে বাস করছেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ মিয়া, সুমন মিয়া,রহমত আলী বলেন,আমরা এখানে অনেকগুলো ঘর বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব। এখন পর্যন্ত সরকারি কোন ত্রাণ সহায়তা পাইনি। কয়েকদিন আগে দুইটি বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীতে ভেঙে পড়ে ৭৫টি পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে পার্শ্ববর্তী নয়ন বাজারের খুঁটি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় বড়বাড়ি এলাকায়।

তারা জানান, একটি বিদ্যুতের খুঁটি নদীতে ভেসে গেলেও অন্য খুঁটিটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগেশ্বরী শাখা। এছাড়াও ওই ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকায় মাঠেরপাড় জামে মসজিদ ইতোমধ্যেই দুধকুমর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 
উপজেলার রেল-নৌ,যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির রায়গঞ্জ ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রধান বলেন, আমরা দুধকুমর নদের সঠিক খনন ও বাঁধ সংরক্ষণের দাবী জানিয়ে মানববন্ধন করেছি। এখন দুধকুমর নদী খননে ড্রেজার দেখা যাচ্ছে। আমাদের এই ক্ষয়ক্ষতিও আমরা দেখছি চোখের সামনেই। 

বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক ফাউন্ডেশনের রায়গঞ্জ ইউনিয়ন শাখার প্রধান মোজাম্মেল হক দুদু বলেন, দুধকুমর নদের ভাঙনের ফলে বাস্তুহারা প্রত্যেকটি পরিবারকে সরকারিভাবে পুনর্বাসণ করা হোক। 
রায়গঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আসম আব্দুল্যা আল ওয়ালীদ মাছুম বলেন, নদী ভাঙনে এ এলাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিটেমাটি হারাচ্ছে। শীঘ্রই নদী শাসন ও নদী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসরাম বলেন, নদী ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে শুকনো মৌসুমে প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর