হারিয়ে যাওয়া দেশি প্রজাতির ফল নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই “করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনায় চলছে ফলমেলা। তিন দিনব্যাপী ফলমেলায় তিনটি ক্যাটাগরিতে দেশীয়, প্রচলিত, অপ্রচািলতসহ বাইরের জাতের ফলের প্রদর্শন করা হয়।
সারা দেশের ন্যায় নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে শহরের কোর্টরোডের খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে এই মেলা শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। চলবে বুধবার পর্যন্ত। মেলায় ৭ টি স্টলে মোট ১৫০ জাতের ফল প্রদর্শন করা হয়। তারমধ্যে ৫ টি দেশের ১৮ ধরনের ৪৫ টি জাতের ফল রয়েছে। এছাড়াও উত্তম কৃষিচর্চা প্রদর্শনী, নিরাপদ ফসল উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি, ফাঁদসহ জৈববালাই নাশক ফুড ব্যাগিং পদ্ধতির প্রদার্শন করা হয় মেলায়।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ খান মঙ্গলবার দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বলেন আমাদের দেশীয় অনেক ফলের জাত হারিয়ে যাচ্ছে। সেই জাতগুলোকে বর্তমান প্রজন্মের সাথে পরিচয় করানো। তাদের কাছে তুলে ধরাই আমাদের মুল উদ্যেশ্য। আমরা নিজেদের জাত ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন নতুন জাত নিয়ে আসতেছি। এগুলো চিনবে জানবে। ফল চাষকে সমৃদ্ধ করতে আমরা মেলার আয়োজন করেছি। এতে তারা পুরনো ঐতিহ্য এবং নতুন ফলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাবে।
নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, দেশীয় জাতের ফলকে বাণিজ্যিকরণ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ভ্যারাইটি অগ্রগামী কৃষকদের জন্য প্রদর্শন করা হয়। আমাদের ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ফল নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য পদ্ধতিগুলো প্রচারের লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন। যাতে করে কৃষকরা আগ্রহী হন। বারোমাস ফল যাতে খেতে পারে এটাও লক্ষ্য। প্রচলিত অর্থাৎ মধু মাসের ফলগুলো কিভাবে সংরক্ষণে রাখা যায় এই পদ্ধতিগুলোও এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। কৃষিকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে মূলত এই আয়োজন।
বিডি প্রতিদিন/এএম