শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০

কৃষকের পাশে দাঁড়ান

কৃষকের পাশে দাঁড়ান

সর্বনাশা বন্যা দেশের কৃষকদের একাংশের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। ধার করে কিংবা ব্যাংক ঋণ নিয়ে তারা যে ফসল ফলিয়েছেন তা বন্যায় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। ঋণ কিংবা ধারের টাকা শোধ করবেন কী করে তা ভেবে তাদের হয়রান হতে হচ্ছে। ফসল নষ্ট হওয়ায় কীভাবে পরিবার-পরিজনের অন্ন জোগাবেন সে চিন্তায়ও তারা এখন আক্রান্ত। বন্যাদুর্গত এলাকার আমন ফসল প্রায় পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, আউশ এবং সবজি খেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা চোখে শর্ষে ফুল দেখছেন। বন্যায় শুধু রংপুরেই ৪৫ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, বগুড়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকদেরও ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। বন্যায় সবজি খেত তলিয়ে যাওয়ায় সারা দেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া অনুভূত হচ্ছে। রাতারাতি সবজির দাম দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে। কাঁচা মরিচ দুষ্প্রাপ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। বন্যায় পুকুর ও মাছের খামার ভেসে যাওয়ায় মাছচাষিরা সর্বস্ব হারানোর বিপদে পড়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে আমন ও আউশ ফসলের এক বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার এ দুটো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না। খাদ্যে মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার যে আত্দসন্তুষ্টিতে ভুগছিল বাংলাদেশ- এবার তার ব্যত্যয় ঘটবে। বন্যার পানি কোনো কোনো এলাকা থেকে নামতে শুরু করেছে। সমূহ সর্বনাশ ঠেকাতে এসব এলাকায় এখনই কৃষি পুনর্বাসনের কাজ শুরু হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে বীজ, সার ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে সরকারকে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষিঋণ মওকুফের কথাও ভাবা যেতে পারে। আমাদের দেশের কৃষকরা ১৬ কোটি মানুষের অন্ন জোগায়। বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সমগ্র জাতিকেই তাদের পাশে থাকতে হবে।


আপনার মন্তব্য