শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:৫০

আর্মেনীয় গণহত্যা

জার্মান পার্লামেন্টের প্রস্তাব অভিনন্দনযোগ্য

আর্মেনীয় গণহত্যা

জার্মানির পার্লামেন্ট শত বছর আগে তুরস্কের ওসমানিয়া শাসনামলের শেষদিকে সংঘটিত আর্মেনীয় হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আর্মেনীয়দের বিরুদ্ধে বর্বর তুর্কিদের গণহত্যায় অন্তত ১৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। সন্দেহ নেই, ওসমানিয়া শাসনামল ছিল সুশাসন ও জাতিগত সহাবস্থানের উজ্জ্বল নজির। সেলিম, সুলায়মান, বায়েজিদ প্রমুখ ওসমানিয়া শাসক উদার মনোভাবের জন্য নন্দিত ছিলেন। সাম্রাজ্যে সব জাতি ও ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করারও কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন তারা। কিন্তু শেষ দিকের ওসমানিয়া শাসকরা দুর্নীতি ও বিলাসিতায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েন। নিজেদের অপকর্ম থেকে দেশবাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে তারা ধর্মান্ধতা ও জাতিগত বিরোধকে উসকে দেন। প্রথম মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে তুরস্কে আর্মেনীয়দের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালানো হয়। বলা যায়, গত এক শতাব্দীতে সংঘটিত তিনটি ভয়াবহ গণহত্যার এটি একটি। অন্য দুটি গণহত্যা হলো দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে হিটলারের নেতৃত্বে ইহুদি নিধন এবং ১৯৭১ সালে অসভ্য বর্বর পাকিস্তানি সামরিক জান্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণহত্যা। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম এ গণহত্যায় ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে ইয়াহিয়া, টিক্কা, রাও ফরমান আলী ও নিয়াজীর চেলারা। নিজামী, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীগং এ গণহত্যায় পাকিস্তানিদের চোখ ও কান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে একাত্তরের গণহত্যায় জড়িত থাকার দায়ে নিজামী গংদের বিচারকে তাই যেমন পাকিস্তানিরা মেনে নিতে পারেনি, তেমনি মেনে নিতে পারেনি আরেক অপরাধী দেশ তুরস্ক। চোরে চোরে মাসতুতো ভাই প্রবচনকে সার্থক করে তুরস্ক যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসির পর বাংলাদেশ থেকে তার দূতকে কার্যত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অশোভনভাবে বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে তুরস্ক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। জার্মান পার্লামেন্ট তুরস্কের আর্মেনীয় হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রমাণ করেছে পাকিস্তানিদের মতো তুর্কিরাও এক বর্বর জাতি। আমরা জার্মান পার্লামেন্টের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই।  আমাদের বিশ্বাস, বাংলাদেশ সরকারও আর্মেনীয় হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে মানবতার বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থানকে স্পষ্ট করবে।


আপনার মন্তব্য