Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪০

ধর্মতত্ত্ব

দয়াময়ের বান্দারা বিনম্র হয়

মুফতি আনিসুর রহমান জাফরী

দয়াময়ের বান্দারা বিনম্র হয়

জীবনের সর্বস্তরে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করাই প্রকৃত মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও রহমানের বান্দাদের রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ বলেন, ‘রহমানের প্রকৃত বান্দা তারাই যারা পৃথিবীর বুকে নম্রভাবে চলাফেরা করে।’ (সূরা ফোরকান : ৬১।) হজরত লোকমান হাকিম তাঁর ছেলেকে যে কটি মূল্যবান উপদেশ দিয়েছিলেন তার মধ্যে এটি অন্যতম। ইরশাদ হচ্ছে, ‘লোকমান তার সন্তানকে বলল— ‘হে আমার প্রিয় সন্তান! পৃথিবীর বুকে দম্ভভরে চলো না। আল্লাহ আত্মম্ভরী ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা লোকমান : ১৮)। উদ্ধৃত ভঙ্গি তথা দম্ভভরে হাঁটার কারণে বান্দার অন্তরে অহংকার এবং আত্মম্ভরী সৃষ্টি হয়। এ দুটো চরিত্র মানব হৃদয়ের সুপ্রবৃত্তিগুলো ধ্বংস করে দেয়। তাই আল্লাহপাক মোমিন বান্দার জন্য এভাবে হাঁটা সঙ্গত নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কারণ, মানুষের হাঁটা শুধুমাত্র তার চলার একটি ভঙ্গির নাম নয় বরং প্রকৃতপক্ষে এটি তার মন-মানস, চরিত্র ও নৈতিক কার্যাবলীর প্রত্যক্ষ প্রতিফলন। একজন আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তির চলা, একজন সন্ত্রাসীর চলা, একজন স্বৈরাচারীর চলা, একজন আত্মম্ভরী অহংকারীর চলা, একজন সভ্য-ভব্য ব্যক্তির চলা, একজন দরিদ্র-দীনহীনের চলা এবং এভাবে অন্য বিভিন্ন ধরনের লোকদের চলা পরস্পর এত বেশি বিভিন্ন হয় যে, তাদের প্রত্যেককে দেখে কোন ধরনের চলার পেছনে কোন ধরনের ব্যক্তিত্ব কাজ করে তা সহজেই অনুমান করা যায়। সুতরাং আয়াতের তাত্পর্য হলো, রহমানের বান্দাদের চলার ভঙ্গি দেখেই যেন সাধারণ মানুষরা তাদের চিনতে এবং বুঝতে পারে যে, তারা ভদ্র, ধৈর্যশীল ও সহানুভূতিশীল হৃদয়বৃত্তের অধিকারী। তাদের দ্বারা সাধারণ মানুষের অকল্যাণ হয়, এমন কোনো কাজ প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইমাম রাজি (রহ.) তাফসিরে কাবীরে লেখেন— ‘মুমিনদের চলার ভঙ্গি হবে বিনম্র, সমাজে বিশৃঙ্খলাকারীদের মতো নয়।’ হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন শান্ত ও ধীর স্বভাবের হয়ে থাকে। অত্যধিক নম্রতার কারণে কখনো কখনো মানুষ তাদের বোকা-নির্বোধ মনে করে থাকে।’ (বায়হাকি)

শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অসুস্থ ব্যক্তির মতো চলাফেরা করা আয়াতের উদ্দেশ্য নয়। আয়াতের তাত্পর্য হলো, শান্ত ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে বীরের মতো চলা। হজরত আলী (রা.) বলেন, রসুল (সা.) যখন হাঁটতেন দৃঢ় পদক্ষেপে বীরদর্পে হাঁটতেন। নবী (সা.) এমনভাবে হাঁটতেন, মনে হতো উঁচু জায়গা থেকে নিচে নামছেন। (শামায়েলে তিরমিজি : ১১৯)। হজরত আবু হুরায় (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইকামত হয়ে গেলে তোমরা জামাতের জন্য দৌড়ে আসবে না। বরং ধীরেসুস্থে আসবে। (বুখারি : ৬১০)।  আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, কেউ যদি কোরআনে বর্ণিত হাঁটার নিয়ম মেনে চলে তবে সে হার্ট অ্যাটাকসহ বড় ধরনের অনেক রোগবালাই থেকে সহজে পরিত্রাণ পেয়ে যাবে।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মুুহীউস সুন্নাহ আইডিয়াল মাদরাসা,

ডগাইর, ডেমরা, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য