শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:৩৪

স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গেলে ভর্তি বন্ধ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমতি হোক

স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গেলে ভর্তি বন্ধ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যথেচ্ছতায় লাগাম পরাতে দৃশ্যত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আইন না মানা ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গেলে জানুয়ারি থেকে ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে সাড়া দিয়ে প্রথম দিকে যোগ্য উদ্যোক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন। তার পরই শুরু হয় শিক্ষার নামে নিছক বাণিজ্য করার প্রবণতা। যেনতেনভাবে অর্থ উপার্জনের নিকৃষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো একের পর এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাথমিক স্কুলের জন্য অপর্যাপ্ত এমন স্বল্প পরিসরেও প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত ক্যাম্পাস। শিক্ষাবাণিজ্যের উদ্যোক্তাদের রাজনৈতিক কানেকশনের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া নির্দেশনায় মনে করা হচ্ছে সেই অসহায় অবস্থা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার নির্দেশনা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা তদারকি করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সরকারের দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পরও তা অমান্য করায় যে এমন আলটিমেটাম এলো তা সহজে অনুমেয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী সাময়িক সনদের মেয়াদোত্তীর্ণ ৪৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরসংক্রান্ত গঠিত কমিটির সভা শেষে গত মাসে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গেলে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতিমধ্যে জানুয়ারি থেকে ছাত্র ভর্তি বন্ধ রাখতে হবে— এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। স্মর্তব্য, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করার পর তাতে কার্যক্রম শুরু করেনি। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনলেও এখনো পর্যন্ত নির্মাণকাজ শুরু করেনি। বার বার স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরুর তাগিদ দেওয়ার পরও যারা সুমতির পরিচয় দেয়নি তাদের সুমতি ফেরাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পদক্ষেপ অবদান রাখবে বলে  আশা করা হচ্ছে। আমরা আশা করব কোনো অজুহাতেই এ পদক্ষেপ থেকে তারা সরে আসবে না।


আপনার মন্তব্য