শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:২৫

হকদারের হক মারা হারাম

মাওলানা আবদুর রশিদ

বহু মানুষ আছে, যারা হকদারের হক মেরে খায়, অথচ তা তাদের জন্য হারাম যেহেতু মহান আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার ন্যায়সংগত হক প্রদান করেছেন। সুতরাং আল্লাহর সেই ভাগ-বণ্টন বিধানে কারও হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। বৈধ নয় সেই মারা হক খেয়ে যাওয়া, যেমন শুদ্ধ নয় সেই হক তার হকদারকে ফেরত না দিয়ে করা তওবা। অনেকে নিজ বোনকে পিতা-মাতার মিরাস থেকে বঞ্চিত করে। কেউ করে পিতা-মাতাকে হাত করে নিজ ভাইকে বঞ্চিত। কেউ করে যাবতীয় সম্পত্তি নিজের মেয়ের নামে লিখে দিয়ে (মেয়ের) চাচাকে বঞ্চিত। আল্লাহ মিরাস ভাগ-বণ্টন করার ব্যাপারে বলেন, ‘এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। এবং যে আল্লাহ ও রসুলের অনুগত হয়ে চলবে আল্লাহ তাকে বেহেশতে স্থান দান করবেন, যার নিচে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং এ মহান সাফল্য। পক্ষান্তরে যে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে চিরকাল থাকবে, আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।’ সূরা নিসা, আয়াত ১৩-১৪। কোনো পাপের কারণে অথবা অবাধ্য হওয়ার জন্য নিজ ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করে মিরাস থেকে বঞ্চিত করা বৈধ নয়। ছেলে যদি কাফির হয়ে যায়, তাহলে ইসলামী আইনানুসারে সে এমনিই মিরাস থেকে বঞ্চিত হবে। তার জন্য দলিল বা উইলপত্র লেখার প্রয়োজন নেই। মরার আগে মিরাস ভাগ করে লিখে দেওয়া কারও জন্য উচিত নয়। কারণ ভাগ-বণ্টনের পর যদি কোনো ওয়ারিশ মারা যায়, তাহলে ঘুরে সেই ওয়ারিশ হয়, অথবা অন্য ওয়ারিশের ভাগে কম অথবা বেশি পড়ে। আবার এমনও হতে পারে যে, একদিন এমন আসবে, যেদিন ওয়ারিশরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেবে। তার মরার পর ওয়ারিশদের মাঝে ঝগড়া হওয়ার আশঙ্কা হলেও, তাদের ভুলের জন্য সে জিজ্ঞাসিত হবে না। সুতরাং উত্তম হলো নিজের মাল হাতছাড়া না করা এবং আল্লাহর ভাগ-বণ্টনের ওপর ভরসা রাখা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে অন্যের হক আদায়ের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য