শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৪

রোহিঙ্গা সমস্যা

বাংলাদেশের জন্য বিষফোঁড়া

রোহিঙ্গা সমস্যা

রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য ব্যয় হচ্ছে অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশ ইতিমধ্যে বিপদাপন্ন হয়ে উঠেছে। গাছপালা টিলা নিধনে প্রকৃতির যে ক্ষতি হয়েছে তা আর্থিক হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। স্বভাবতই বাংলাদেশের মতো অসচ্ছল ও ঘনবসতির দেশে ১১ লাখের বেশি বিপদাপন্ন মানুষকে দীর্ঘদিন পোষা সম্ভব নয়। স্মর্তব্য, প্রতি বছর রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয় হচ্ছে সাড়ে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা। আর জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন বৈদেশিক সাহায্য সংস্থা থেকে অনুদান পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োজনের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ অর্থ। ফলে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ মেটাতে হচ্ছে সরকারকে। কক্সবাজারের পরিবেশ রক্ষায় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে আবাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তাদের আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার বিরোধিতা করছে। এর ফলে ভাসানচরে অবকাঠামো নির্মাণে সরকার যে অর্থ ব্যয় করেছে তা অপচয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় প্রতি মাসে ২ হাজারের বেশি শিশু জন্ম নিচ্ছে। ফলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকের সংখ্যা ১১ লাখ হলেও প্রতিদিনই তাদের সংখ্যা বাড়ছে। এতে কয়েক বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলে রোহিঙ্গা নাগরিকের সংখ্যা বিপুলভাবে বেড়ে যাবে; যা ওই এলাকার সামাজিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিজেদের স্বার্থেই রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশকে আরও তৎপর হতে হবে। রাখাইনে তাদের জন্য নিরাপদ এলাকা সৃষ্টিতে মিয়ানমার যাতে রাজি হয় এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। দুই বন্ধু দেশ চীন ও ভারতের সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে আশার আলো দেখাতে পারে। মিয়ানমারের ওপর তাদের প্রভাব থাকায় এ দুটি দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এলে তা বাংলাদেশের জন্য শাপমুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করবে।


আপনার মন্তব্য